প্রগতি

সবাই বলে, ওগো পরীমনি
কোথা মিলছে টাকার খনি?
ছয় খানা গরু করবানী দাও,
ফি বছরে গাড়ি বদলাও,
বিয়ে করেছো তিনটা মাত্র,
হাতে এখনও অনেক পাত্র।
অতি দীর্ঘ প্রেমিক তালিকা
কেমনে পারো হে বালিকা?

এই দেখি কাঁদো, এই হাসো,
যখন তখন লাইভে আসো
কোনটা অভিনয়,কি সত্যি?
এই যে মদ আলমাড়ি ভততি..
সব কি বলবে সাজানো!
সত্যি বল তুমি যা জানো।

কিছু বল্লে নারীবাদি ক্ষেপে
মনে করায় গ্যাপে গ্যাপে-
প্রগতির পথে নাকি বাধা দি!
হে চয়নিকা, তস্লিমা, রাধা দি,
প্রগতি কি থাকে বোতল গ্লাসে,
শাশুড়ি বউ যুদ্ধ, স্টার প্লাসে
ছোট কাপড়ে আর দামি বারে,
না রে! বোন, বন্ধু, নারে!

আগাও শিক্ষা,ব্যবসা, চাকরীতে
আগাও খেলায় মেডেল জিতে!
বন্ধ হউক শরীর বেচা কেনা।
কেউ কেন এভাবে ভাববে না?

Leave a comment

August 5, 2021 · 2:32 pm

o my inner peace

o my inner peace
why are you so shattered
She has deserted me long
why does now it matter?
i havn’t seen her smile
how many months pass
and her wicked eyes
still haunt and harass !

o my inner peace
she is in much pleasure
with loving family
and that erasure-
which deletes her past
specially me selectively
you should be contended
she found peace without me.

o my inner peace
you atleast have a memory
wiping me it is surely be
she will ran out of story
our love and our hate,
our struggle and fight
togetherness,the distances
and that love bite.

o my inner peace
be sure she is burning
it may take decades long
but she will be returning.

Leave a comment

August 4, 2021 · 10:01 am

depression

depression is like a wild fire
I know no way to combat
sometimes rain stops it,
sometimes these aggravate.
the wound of old burns
sometimes act as a barrier
sometimes the old wound
acts as its core carrier!

oh my mind have peace
time will  put it off oneday
the sun will rise brighter
have patience, that i may!

Leave a comment

August 2, 2021 · 12:35 pm

সে আজ অন্যের

সে আজ অন্যের

চোখে চোখ পড়তেই
যে আমার হয়েছিল-
আজ অন্যের হয়ে গেল
অথচ সে আমার হয়ে ছিল।

যা ছিল আমাদের কাহিনী
আজ সে অন্য কারও ঘটনা
সে যে আমার হয়েছিল
তাও নাকি মিথ্যা রটনা।

চোখে চোখ পড়তেই
যে আমার হয়েছিল-
আজ অন্যের হয়ে গেল
অথচ সে আমার হয়ে ছিল।

ভালবাসার ফল কি হয়
জিজ্ঞাসা করো না তাকে
হাসির সাথে সাথেই যার
কান্না অপেক্ষায় থাকে।
বুক ভরে নিশ্বাস  নিতেই
যার শেষ নিশ্বাস বয়ে যায়
যে আমার হয়েছিল
সে আজ অন্যের হয়ে যায়!

Leave a comment

July 26, 2021 · 11:37 pm

একটি সাধারন স্বয়ম্বরা

রুমানার নাম প্রথম শুনি আমার ভাবীর কাছে। চাচাতো ভাই এর বৌ। তার বান্ধবীর জেঠসের ছোট বোন।
জেঠস নামক শব্দটা আমি এর আগে কখনই এতো সিরিয়াসলি নেই নি। মায়ের কাছে প্রশ্ন করে সম্পর্কের ব্যাখ্যা জেনে নিলাম।
আগ্রহের কারন, শুনলাম মেয়ে পরমা সুন্দরী আরও বড় কারন সেই মেয়ে একটা সাধারন ছেলে খুঁজছে।
মেয়ের কোন ছবি ছিল না।ভাবির কাছে তার বান্ধবীর সাথে জেঠসের তোলা ছবি দেখলা। একে বারে হেমামালিনী। বোন নাকি আরও সুন্দর।
না দেখেই মনে মনে তার প্রেমে পড়ে গেলাম।

এসব ব্যাপারে তাড়াহুড়া করা যায়  না। আমার তাড়াহুড়া আছে এটা বোঝানোও যায় না।  ইনডিরেক্ট বাংলা কি? অসরাসরি?
আমি অসরাসরি ভাবে তাদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করি।
সফল হতে সময় লেগে যায়। অতঃপর ভাবী এক স্বর্নালী সন্ধ্যায় একটা ফোন নম্বর দিয়ে বলে, ভায়া ভায়া দরকার নাই, সরাসরি কথা বল।
তোমার কথা বলা আছে। সবুর বললেই হবে। নিজেদের জীবন, নিজেরা কথা বলে নাও।
তখন মোবাইল এর যুগ না। ফোনের রিং এত জোরে বাজতো যে কেউ না কেউ ঠিকই দৌড়ে এসে ফোন ধরতো।
কেউ মিস কল দিতো না, এলার্টও ছিল না।

সাহস করে ফোন দিলাম।
“রুমানা আছেন?”
“বলছি, আপনি কে?”
“সবুর!”
“আচ্ছা। টেলিফোনে লতুরপতুর কথা আমি পছন্দ করি না।
আগামী শক্রুবারে ফ্রি আছেন? ঘন্টা খানেকের জন্য?”
এর চেয়ে বড় কোন কাজ নেই।বললাম, “জ্বী সারা দিনই প্রায় ফ্রি!”
“বিকাল পাঁচটায় ধানমন্ডির হ্যালভেসিয়ায় আসবেন।”
“আপনাকে চিনবো কেমন করে?”
“আপনার চেনবার দরকার নেই, আমি আপনাকে চিনে নেব।”
“কিভাবে চিনবেন?”
ফোনটা কেটে দিল। আমার প্রশ্নটা শুনেছে কিনা বুঝতে পারলাম না।

আমার যা গায়ের রং, ডার্ক কোন কালার পরলে আরও ডার্ক লাগে।আকাশি রংএর সার্ট আর নীল প্যান্ট পরলাম।পলিশ করা চকচকে সু পরেছিলাম কিন্ত রাস্তায় জমা পানিতে পাড়া দিয়ে একেবারে বারোটা বেজে গেল।

দশ মিনিট আগেই পৌছেছি। রবার্ট লুডলামের বর্ন সুপরিমেসি বইটা পড়ছিলাম। সাথে নিয়ে নিলাম।
এটা অড সময়। জৈষ্ঠের খা খা রোদ। দরজা র মুখোমুখি বসলাম। উল্টা দিকের টেবিলে দুটো বোরখা পরা মেয়ে বসে আছে। খাস নোয়াখালির ডায়ালাক্টে কথা বলছে।

কতক্ষন অপেক্ষা করায় কে জানে, সময় টা এনজয় করা যাবে!
পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছি আর ফাকে ফাকে দরজা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছি।
টান টান গল্প অথচ কনসেনট্রেট করতে পারছিনা।
এর মধ্যে আরেক বিপত্তি।
বোরখাওলিদের একজন খাবার ট্রে আনতে গিয়ে অর্ধেকটা কোক আমার গায়ে ফেললো।
“আন্নে পা দুইইখান এমন চেগাই বইসেন কিল্লাই?” শুধু তার চোখ দেখা যাচ্ছে!
“আমি! আমি তো আমার জায়গাতেই বসা!”
অস্বস্থি হচ্ছে। আসেপাশে সবাই কেমন করে  আমার দিকে তাকাচ্ছে! যেন আমারই দোষ!

ওয়াটার অনেক টিসু এনে মুছলো কিন্তু শার্টএ যে দাগ পড়লো, উঠবে বলে মনে হল না।
আমি কথা না বাড়িয়ে আরো চেপেচুপে বসলাম।
মেয়েটা সরি তো বল্লই না উল্টা নিজেস্ব ডায়ালেক্টে…
“কিরুম্মা মানুষ দেখসনি, পা তো পা বাজাই…
ঢাকা শহরর মানুষই খারাপ…”

ঘড়ির কাটা সাড়ে পাঁচটা ছুঁলো, তারপর দৌড়ে দৌড়ে এগুতে থাকলো। ছটা, সাড়ে ছটা। ভেজা শার্ট নিয়ে বসে আছি। বইটাও ভিজেছে।
খুব আস্তে আস্তো খেয়ে খেয়েও দু প্লেট ফ্রেন্চ ফ্রাই ততক্ষনে শেষ।উনি আসলে মেইন কোর্সের অর্ডার দেব, দেয়ার সুযোগই হল না।
রেস্টুরেন্টে ভিড় আস্তে আস্তে অনেক বেড়েছে। অনেকেই দাড়িয়ে আছে। টেবিল ছেড়ে উঠলাম।

শেষ বারের  মত আসেপাশে তাকালাম। অনেকেই তীর্থের কাকের মত টেবিলটার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার দিকে না। সে আসে নি!

খুব রাগ হচ্ছিল। মাথাটা ধা করে ধরে গেছে! আমার নম্বরও  নেয় নি তাই ফোন করে এপলজি করবে সে আশা নেই। আমি ফোন করে খবর নেব সে প্রশ্নই ওঠে না।

রাতে এপাশ ওপাশ করছি, ঘুম আসছে না।এক সময় ঘুমালাম। সে রাতে হেমামালিনীকে স্বপ্ন দেখলাম।
সে আমার ডান ভ্রুর কাটা দাগটায় হাত বুলিয়ে বলল, “আহা! কেমন করে হল?”
ঠিক কোথা থেকে শুরু করবো ভাবছি।
সে আমার ঠোটে দু আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিয়ে বলল, “থাক! তোমার এ জায়গাটা ধর্মেন্দ্রর মত।”
ধর্মেন্দ্রর নামটা শুনে কেন যেন রুমানার কথাটা মনে পড়লো। তখনই ঘুমটা ভেঙে গেল। কিসের হেমা, বুয়া ঘর মুছছে।
মায়ের গলা শোনা গেল।
“সবুর ডিম ঠান্ডা হচ্ছে। নাস্তা খেতে আসো।”

মাকে বলেছিলাম গত কালকে দেখা করতে যাবার কথা। রাতে ফিরে কথা হয় নি।
“কি, কালকে কি হল? মেয়ে পছন্দ হল?”
“নাহ।মেয়ের চোখ খুব ছোট। তুমিতো জান আমার একটাই ফেসিনেশন। বড় চোখ।
আর ওরও আমাকে পছন্দ হয় নি। বলল আমার গায়ের রং একটু বেশী কালো।”

মা বেশ কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো।
“তোমার কি মন খারাপ হয়েছে?”
“না।”
“ওই যে এর আগে যে মেয়েটা দেখলাম, জেসমিন, ওদের সাথে কথা বলি, মেয়েটা আমার পছন্দ হয়েছে। মায়া মায়া চোখ…”
“দেখো। ওদের যদি আমাকে পছন্দ হয়!”

ডিপার্টমেন্টে ফোন করে রশিদকে আমার ক্লাসটা নিতে রিকুয়েস্ট করলাম। আজকে আর যাব না।
মনটা উশখুস করছে।
মেয়েটা কোন বিপদে পড়তে পারে। অসুস্থতা…
নাহ একটা ফোন করা দরকার।

“হ্যালো! রুমানা আছেন?”
“বলছি।”
“আমি সবুর! কাল..”
“কাল কি হয়েছিল? যাই হোক, আপনার তো আমাকে জানানো উচিত ছিল। আমি এক ঘন্টা আপনার জন্য অপেক্ষা করেছি।”
“কি বলছেন, আমি তো আধ ঘন্টা আগেই গিয়ে বসেছিলাম।একটা আকাশি সার্ট…”
“নাতো। কোন আকাশি সার্ট
গুলশান হ্যালভেসিয়ায় তো..”
“গুলশান! কিন্তু আপনি তো ধানমন্ডি বলেছিলেন!”
“আপনার কি কানে সমস্যা? আমার বাসা মহাখালী। আমি কেন খামাখা ধানমন্ডি বলবো!”
আমি নিশ্চিত সে ধানমন্ডি বলেছে। তবু বললাম, “হয়ত আমারই ভুল!”
“আজ কি বিকালে ফ্রি আছেন?”
“না আজকে আমার…”
“প্লিজ একটু ম্যানেজ করেন।আগামী কাল থেকে আমি ব্যাস্ত হয়ে যাব।”
“ঠিক আছে। কোথায়? “
“ধানমন্ডি হ্যালভেসিয়া।”
“ধানমন্ডি?”
“হ্যা ধানমন্ডি। কালকে গুলশানে গিয়েছি, আজ ধানমন্ডি! “
“ধানমন্ডি?  সিওর? “
“সিওর!”

আজ আর মাকে জানাই নি। পাঁচটার মধ্যেই চলে গেলাম।
সেই টেবিলটা খালি। আমি গিয়ে বসলাম। বইটা পড়া শেষ আজকে খালি হাতে এসেছি।
ঠিক পাঁচটা দশে দরজা ঠেলে একটা মেয়ে ঢুকলো।
কাল রাতেই হেমা মালিনীকে দেখলাম।  এ জুহি চাওলা।  অনেক বেশী সুন্দরী।
“আমি রুমানা!”
দোকানের প্রতিটা মানুষ ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি কিছু একটা বলতে গেলাম। গলা কাঁপছে।
“বসুন!”
সে চেয়ার টেনে বসলো।
“অনেকক্ষণ  বসে আছেন?”
“না বেশীক্ষন না।”
“খুব গরম না?”
“খু….

“আপনার হবি কি?”
আমি এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে বললাম, “বই পড়া।”
“কবিতা পড়েন?”
“নাহ!”
“কেন?”
“ভাব নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে, বরং কোন মিস্ট্রি নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। আই লাভ ফিকশন।”
“আমি কিন্তু কবিতা ভালবাসি!”
ভালবাসিটা কেমন টেনে টেনে বলল। জুহি কি তবে ফসকে গেল? কবিতার কথা বলরেই পারতাম!
কিন্ত তারপরই বলতো কোন কবিতা!
হাট্টিমাটিমটিম ছাড়া তো কোন কবিতাই মুখস্ত নেই।
“কার কবিতা ভাল লাগে?”
“শেলী,  কিটস, রুমী,  রবীন্দনাথ….”
“আমারও রবীন্দ্রনাথ ভাল লাগে। পুরাতন ভৃত্য…”
“দুই বিঘা জমি?”
“এটাও।”
“আম জনতার জন্য লেখা।সব বলা আছে ভাবনার খোরাক কম “
বুঝলাম গভীর পানির মাছ!

“আপনার জীবনের লক্ষ্য কি?”
“আমি সর্ট সাইটেড। বেশী দূরে লক্ষ্য নাই। আপাতত বিয়ে করা।”
এই প্রথম তাকে হাসতে দেখলাম। “বলার সময় তো সবাই মহৎ হয়ে যায়, এরকম বড় একটা কিছু বলতেন!”
“আপনার?”
“কীটসের সমাধীতে বসে কীটস পড়া, রুমীর সমাধীতে রুমী!”
“আর রবীন্দ্রনাথ?”
“পদ্মার বোটে..
থাক এসব উচ্চমার্গীও ব্যাপার থাক।
বাস্তবে আসি। আমি অক্সফোর্ডে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্সের সুযোগ পেয়েছি। সেমিস্টার শুরু হয়ে যাবে। হাতে সময় নেই। আমার বাবা নেই। মা একা যেতে দেবেন না তাই বিয়ে করে যেতে হবে।
আমি বাড়ির ছোটমেয়ে।  রান্নাবান্না একেবারেই পারি না।
আপনার কি মনে হয়? “
“কি ব্যাপারে?”
“এই যে আর উই গোয়িংটু বি এ গুড ম্যাচ?”
“আমি বানর হতে পারি!”
“বুঝলাম না।”
“আপনি তো মুক্তার মালা। মালার যদি অমত.. “
“আপনি দুদিন চিন্তা করুন। আরেকটা ব্যাপার। আমার একটা পাস্ট আছে। আমার একটা এফেয়ার ছিল। পাঁচ বছরের। ছেলে একেবারে সোনারটুকরা। খুব প্রমিজিং।দেশ সেরা।
সম্পর্কটা টেকে নি।
আমার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিলে এমনিতেও জানতেন তাই আগেই বললাম।
দুজনেই খুব পারসনালিটি, তাই পার্সনালিটি ক্লাশ!”
“আমার অতীত আছে তবে তা অন্য রকম। আমার যাকে দেখি তাকেই ভাল লাগে তো তাই একতরফা প্রেম হাজার খানেক হবে।”
“আমার এটা নিয়ে আপনার কোন প্রেজুডিস নেই?
এটা কি আমাকে খুশী করার জন্য বলছেন?
এ দেশের ছেলেরা তো এতো উদার হতে পারে না!”
“আমি সর্ট সাইটেড। সামনেই যেমন বেশী দূর দেখি না, পিছনেও তাই।
এই যে আমার সামনে বসে আছেন, এখান থেকেই আপনার অতীত শুরু।”
“আপনি তো ভাল চাকরী করেন, যদি ছাড়তে হয়?”
“ছাড়বো।
আপনার সামনে যে কোন রাজা তার সিংহাসন ছাড়তে পারে আর..
আপনার যদি আর কোন খোজ খবর নেবার থাকে নিতে পারেন। আমি বায়োডাটা নিয়ে এসেছি।” পকেট থেকে বায়োডাটা বের করে দিলাম।
“নেই। আপা আপনার সম্পর্কে আগেই খোঁজ নিয়েছে।
বাস্তবে আপনি কেমন তা জানার ছিল জেনেছি।
আপনার রাগ কম। এম্বিশন কম,  মন বড়!”
“ফ্লাটারী করছেন! সেটা তো পুরুষের..
একটু দেখাতেই এত বড়..”
ভীড় বাড়ছে। কিছু অর্ডার দেয়া হয় নি।
“আজও কি শুধু ফ্রেন্চ ফ্রাই?”
“মানে! “
“কাল তো শুধু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেলেন!”
আমি হতভম্ভ! “আপনি কিভাবে জানলেন?”
“কালকে আপুর সাথে এসেছিলাম। আপু আপনাকে চেনে। উল্টাদিকে বসেছিলাম।
আপনি কতটা সাধারন দেখার দরকার ছিল। তাই পরিক্ষা করতে এসেছিলাম”
“কোকটা? “
“আপনাকে রাগাতে চেয়েছিলাম। রাগের সময়ই আসল চেহাড়াটা দেখা যায়!

“নোয়াখালী? “
“চিটাগাং,  সিলেটও পারি!”
হাসলাম। একেবারে কোলকাতার নাটক!”
“একেবারে! “

“ব্রোস্ট  অর্ডার  দিন। আমার লেগ পিস”
“আমার বুক!”
গুড কম্বিনেশন তাই না?

Leave a comment

July 26, 2021 · 11:26 am

আমি তো বেহুশ ছিলাম না


(উর্দু থেকে ভাবানুবাদ)

আমি তো বেহুশ ছিলাম না
তবু ওর জন্য এমন দিওয়ানা হলাম কি করে?
আমি তো সজ্ঞানেই ছিলাম
তবু ওর জন্য উতলা হলাম কিসের জোরে!
আমি তো বেহুশ ছিলাম না
তবে এ বিষ কি ভাবে ঢুকলো আমার শিরায়?
আমি তো বেহুশ ছিলাম না
তবে কি ভাবে আক্রান্ত হলামএ শির পীড়ায়।

কিছু কি বিষ রয়ে গেছে-

তার হৃদয়ে,যেখান থেকে এ বিষ সে ছড়িয়েছে
সেই হাত দিয়ে যে হাতে
সে আমার হাত ধরে পরে ছাড়িয়ে নিয়েছে।

হয়তো আমি বেহুশ ছিলাম
হয়ত আমি তখন ছিলাম নেশায় আচ্ছন্ন
নয় কেমন করে ছেড়ে আসলাম
তাকে রেখে ঘরে ফিরে আসলাম কিসের জন্য!

আমি তো বেহুশ ছিলাম না
তবে এ বিষ কি ভাবে ঢুকলো আমার শিরায়?
কত দিন তাকে ভুলে আছি,
তবু মনে হয় আমি আছি তার অপেক্ষায়!

Leave a comment

July 22, 2021 · 11:12 am

পুরানো ঈদ

ছোটবেলা বললে কিছু ইনডেফিনিট ব্যাপার হয় তাই বরং স্কুল বেলা বলি।
তখন আস্ত গরু দেয়াটা রীতিমত বনেদিয়ানা। আমরা ভাগা দিতাম। একগরুতে সাত নামে কখনও এক নাম কখনও দুই। সাথে একটা খাসী থাকতো। দাদীর গরুর গোস্তে এলার্জি ছিল তাই খাসি দিতেই হতো।
কখনও একগরুতে দুই ভাগা পাওয়া যেত না, আরেক গরুতে আরেক গ্রুপের সাথে ট্যাগ হতে হতো।

যাদের বাসায় খোলা জায়গা আছে সেখানে কোরবানি হতো। ভাগীদাররা সবাই সেখানে যেত। কাটাকাটিতে হাত লাগাতো আর চলতো গল্প!
সবার নানা অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে গোস্ত কাটা হতো। গল্প শোনাটা একটা বড় আকর্ষন ছিল। নতুন মানুষদের সাথে পরিচিতি হতো, সখ্যতা হতো।

এরকম এক আসরেই এক মেয়ে আমাকে আড়ালে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা না হিন্দু?
আমি অবাক!
কি জবাব দিব চিন্তা করছি, সে বলল-তোমার নাম না জয় বাবু!
আমার একটা ডাক নাম ছিল। জয়।
কেউ কেউ ডাকতো বাবু, কেউ কেউ জয় বাবু!
আমি তখনও কি জবাব দেব খুঁজছি! একটু দম নিয়ে বললাম, না আমরা মুসলমান।
“ও! তোমার বাবার এতো বড় বড় মোচ আবার তোমার নাম জয় বাবু তাই ভাবলাম…
নাহ এটা কোন প্রেমের গল্পে রুপ নেয় নি কারন সে আমার চেয়ে দুই তিন বছরের সিনিয়ার ছিল।তবে মনে দাগ কেটেছিল। হিন্দু মুসলমান ব্যাপারটা তাহলে নামে আর মোচ দাড়িতে!

আমাদের পাশের বাসায় ছিলেন জগদিস বাবু। তার বাবা মা তাদের বাড়িতে থাকতেন। বৃদ্ধ ভদ্রলোক দোতালায় উঠে ডান বাম ভুল করে অনেক সময় আমাদের বাসায় চলে আসতেন। তিনি সবসময় ধুতি পান্জাবী পরতেন। বাসায় এলে বসার ঘরে একটু বসে যেতেন। হয়ত কখনও চা বিস্কুট খেতেন, কখনও কিছু না। আম্মার সাথে খানিক সুখ দুঃখের গল্প করে যেতেন।

জগদিশ বাবু পূজার পর নাড়ু আর অন্যান্য মিষ্টান্ন পাঠাতেন আমরা তিলের নাড়ু খুব মজা করে খেতাম। নাড়ু তখন ছিল নাড়ুই। আর কোন ব্যাখ্যা ছিল না।

কোরবানী ঈদের পরদিন জগদিস বাবু আমাদের বাসায় কাবাব খেতে আসতেন। বাসায় অফিসিয়ালী না জানিয়ে। আন্টি কিন্তু কখনও খেতেন না। আর তার বাবা মা প্রশ্নই ওঠে না।
আমার বাবার বেশ কিছু দিন করাচিতে পোস্টিং ছিল। তার বানানো কাবাবের খুব নাম ডাক ছিল। বাবা তাকে সঙ্গ দিতেন।
মানুষে মানুষে কেমন একটা মায়ার বাধন ছিল।

এখন সব আমরা আমরা। আস্ত গরু দেই, ঠিক করা কসাই এসে কেটে দিয়ে যায় আমি সাহেব হয়ে বসে থাকি। ছেলে নীচেও নামেনা। তার নাকে গন্ধ লাগে।
তিন ভাগ হয়। এক ভাগ গরীবদের, এক ভাগ আত্মীয়দের আর একভাগ স্টেকের কাট হয়ে ফ্রিজে ঢোকে।
আগে ডিপ ফ্রিজ ছিল ছোট। তাই বেশীর ভাগ মাংস ঈদের দিন রান্না হত তারপর জ্বাল হতে হতে ঝুড়ঝুড়া গোস্ত হতো।
সে এক অন্য রকম মজা।
এখনও হয় তবে অত না, অমনও না।
ওই যে বললাম স্টেকের পিসের কথা। তখন তো স্টেকের নামও শুনি নি।

পাড়ার লোকেরা দল বেঁধে আমাদের বাসায় আসতো। এখন কেউ আসে না।আসে পাশের অনেককে ভাল করে চিনিও না।

আধুনিকতা মানেই এক ধরনের এককেন্দ্রিকতা। একা একা ভাল থাকা। তাই ঈদ গুলোও একা একা।
খালি আমি আর আমার। আমাদের না।

আর ধর্মের অতি সচেতনতা আমাদের সামগ্রিক ভালবাসার দরজা কেন বন্ধ করে চলেছে !
আমার অতীতমুখীতা ক্ষমা করবেন। বয়সের দোষ।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
পশু জবাহের সাথে আমাদের ভিতরের পশুত্ব দূর হোক।
ইগো থেকে বাঁচি।

Leave a comment

July 21, 2021 · 7:02 am

দরদীরা

ব্যার্থ করেছো তোমাকে পাবার সকল আয়োজন
তারপর বল,”ভুলে যাও আমায়, শক্ত কর মন,
চাই না আমার জন্য কোন আঘাত তুমি পাও”
কাল শুনলাম বোতলও বলছে কেন মদ খাও!
অবাক হচ্ছি দেখে সবার দরদ আমার প্রতি
সুযোগ পেয়ে বোতল শোনায় কিসে লাভ কিসে ক্ষতি!

Leave a comment

July 14, 2021 · 6:25 pm

এসে ছিলে তবু আসো নাই

একে একে সবার সাথেই যোগাযোগ হল। শুধু শুভর সাথে ছাড়া।পাশ করে যাবার পর প্রায় পঁচিশ বছর হলো।
বাকি সবার সাথেই কোথাও না কোথাও দেখা হয়েছে কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে শুভর সাথেই কারও যোগযোগ হয় নি।

রিয়াদ এটাকে চ্যালেন্জ হিসাবে নিল। সতের তারিখের গেট-টুগেদারের সবচেয়ে বড় আকর্ষন হবে শুভ!

শুভ একটু অন্যরকম ছিল। বাসা ছিল পুরানো ঢাকার বেচারামদেউরিতে। কাওকে বাসায় নিতে চাইতো না। রিয়াদ খুব জোর করেই একদিন ওর সাথে গেল।
ভগ্নপ্রায় একটি তিনতলা বাড়ি।ওরা একতলায় থাকে। শুভর দাদার দাদা জমিদার ছিলেন। এ বাড়ি তারই করা। সে সময় এলাকায় দাপট ছিল। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেসে জমিজমাও ছিলে। পরবর্তি পুরুষেরা বসে বসে খেয়েছে আর একে অন্যের বিপক্ষে মামলা দিয়েছে।
বাড়িটার যত্রতত্র দেয়াল তুলে ভাগ করা। গোলক ধাঁধার মত।
শুভর বাবা তাএ শিক্ষিত। জজ জোর্টে ওবালতি করেন, নিজের মামলা অন্তত নিজে লড়েন। বাকিদের ফুটানী ছাড়া কিছুই নেই।

শূভর মা খুব খাতির করলেন। বাদামের সরবত বানিয়ে খাওয়ালেন। জাফরান দেয়া এমন সরবত রিয়াদ জীবনে কোনদিন খায় নি।
ফেরার সময় শুভ হাত ধরে বলেছিল, বাড়ির কথা কাওকে বলিস না।তুই যে এসেছিস তাও যেন কেউ না জানে!
রিয়াদ কথা রেখেছিল।

পঞ্চাস জনের মধ্যে উনপঞ্চাশ জনের সাথেই যোগাযোগ হল। আঠেরো জন দেশের বাইরে থাকে। করনার কারনে দেশে আসার সম্ভবনা নেই। অন্য সময় হলে তারিখ পরিবর্তন করে এর মধ্যে দু একজনকে আনানো যেতো!
রাত্রী আসতে পারবে না। তার হাজবেন্ড অসুস্থ। বাকি ত্রিশ জনের মধ্যে পাঁচ ছজন যে আসবে না তা তাদের কথাতে বোঝা গেল। এরা অতিচালাক। সরাসরি না করে হাইলাইেডট হল না, আসবেনা পরে কোন ছুতা দেবে।

রিয়াদ ছাব্বিশ জনের জন্য বুকিং দিল। ওর স্থির বিশ্বাস শুভকে আনতে পারবে। হাতে এখনও পনের দিন সময় আছে।

সময় করে একদিন শুভ বাড়ির ঠিকানায় সিএনজি নিল। প্রায় বিশ বছর পরে এল। এলাকায় অনেক পরিবর্তর হয়েছে। রাস্তাঘাট বেশ চওড়া চওড়া। শুভদের বাড়ির জায়গায় একটা চোদ্দতলা বিল্ডিং হয়েছে। নিচে মার্কেট উপরে বাসা।
রিসেপশনে কেউই শুভকে চিনলো না।
অনেক অনুরোধ করে ফ্লাট ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারির সাথে ইন্টারকমে কথা বলার সুযোগ পেল।
“শুভকে খুঁজছি। এখানের পুরানো বাড়ির একতলায় থাকতো বাবা লইয়ার ছিল।”
“কি দরকার?” ভদ্রলোক বেশ বিরক্ত।
“কলেজে সহপাঠী ছিল। যোগাযোগ নেই অনেকদিন। একটা রিইউনিয়ন করবো..”
“ওরা তো সব বেচে ইন্ডিয়ায় চলে গেছে। আমি ওর কাকা।”
“ঠিকানাটা দেয়া যায়?”
“না। আমার কাছে নেই।” লাইন কেটে দিল।
পাশেই একজন দাড়িয়ে আমার কথা শুনছিল।
ফোন রাখতেই বলল,”ওদের ঠিকানা এখন আমার কাছে নেই। তবে জেনে জানাতে পারবো। আমি মনিষ, ওর চাচাত ভাই।”
ফোন নম্বর দেয়া নেয়া হল।

প্রতি দিনই একবার করে ফোন করে। মনিষ কিছুই জানাতে পারে না।
তিন নম্বর দিন একটা ঠিকানা দেয় বারাসাত কোলকাতার।
“কোন ফোন নম্বর?”
“একটা ফোন নম্বর পেয়েছি। ইন্ডিয়ান নম্বর। কিন্ত বন্ধ, নাম্বারটা বন্ধ। 099…….”

প্রথমে ফোনে চেষ্টা করে। বন্ধ। এস এম এস পাঠিয়ে রাখে।
ঐ ঠিকানায় শুভকে একটা চিঠিও পাঠিয়ে রাখে।
গেটটুগেদার হচ্ছে। যদি আসতে পারিস খুব ভাল হয়। করোনায় যাতায়াত সীমিত তবু যদি কোন ভাবে আসা যায়…
ভেনু গ্রান্ড বুফে। সতেরো তারিখ সন্ধ্যা।
সবাই তোর সাথে দেখা হবার জন্য উদগ্রীব!
আমার ইমেল রিয়াদ@…..! ফেসবুক আইডিও একই। চিঠি পাওয়া মাত্র যোগাযোগ করিস্।

অপেক্ষায় দিন গড়ায় কিন্তু কোন প্রত্যুত্তর নেই। ফেসবুকে শুভ লিখে সার্চ করে। সাড়ে তিনশ শুভর মধ্যে থেকে খুঁজে বের করা কঠিন।তবুও চেষ্টা করে।
সম্ভব্য দশজনকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে রাখে। জবাব আসে না।

যা ভেবেছিল তাই। সব মিলে পঁচিশ জন।
অনেকেই প্রথম দেখায় অনেককে চিনতে পারে নি। একে এত দিন পর দেখা তার উপর মুখে মাস্ক!
চিনবে কিভাবে মিন্টুর কাঁধ পর্যন্ত ঢাকা কোকড়ানো চুল পুরাটাই টাকে ঢাকা। হ্যংলা রুবিনা দৈর্ঘের চেয়ে প্রস্থে বেড়েছে।
রিয়াদ সবার আগে এসেছে তারপর একে একে অন্যরা। একজন করে উকি দেয় যারা আগে এসেছে চেনার চেষ্টা করে!
খুব আনন্দে কাটলো। অনেক পুরানো কথা, ভালবাসার কথা, ভাল লাগার কথা যা তখন দ্বিধার কারনে বলতে পারে নি আজ যেন পাহাড় ডিঙানো ঝড়নার মত শত ধারায় উৎসারিত ত হল।

শুক্লাই শুভর প্রসঙ্গ তুললো। ক্লাসে কানা ঘুষা ছিল শুক্লা শুভকে পছন্দ করে!
শেষ পর্যন্ত কিছু হয় নি। শুভ রাজী ছিল না।

রিয়াদ জানায় সে সব রকম ভাবে চেষ্টা করেছে কিন্তু শুভর কাছ থেকে কোন জবাব আসে নি।। ফোনটাও বন্ধ!

সবার নাম লিখে লটারী টানা হল। মন্টু প্রথম পুরস্কার, শুভ্রা দ্বিতীয়, হাবিব তৃতীয়। হাবীব বেচারা তার পুরস্কার বাড়িতে নিতে পাড়লো না। বিদেশী চকলেট ছিল। কাড়াকাড়ি করে শেষ!
মহসিন একটা কেক এনে ছিল। সবাই ছুড়িতে হাত রেখে কাটলো। হেভি ডায়াবেটিক খন্দকার সবচেয়ে বড় টুকরাটা নিজে নেয়ার জন্য মারামারি শুরু করে দিল।
কিছুক্ষনের জন্য তারা যেন কলেজ জীবনে ফিরে গেল।

এরপর বিদায়ের আগে ছবি তোলার পালা। সবাই নিজের মোবাইল এগিয়ে দিচ্ছে। ওতের হৈ চৈ দেখে অন্য কাস্টমাররা অবাক। ওদের উল্টা দিকের টেবিলে একজন ভদ্রলোক একা বসেছিলেন।

খাবার সময় সবাই মাস্ক খুলে রেখেছে কিন্তু তাকে মাস্ক খুলতে দেখা গেল না। ওকে নিয়ে দু একজন মজাও করলো- মাস্কে জিপার লাগানো আছে, খুলে খাবার নেয় তারপর বন্ধ করে!
গ্রুপ ছবি তোলার জন্য তার হাতেই ক্যামেরা দেয়া হল।
বেশ ভাল ছবি তোলে বোঝা গেল।

অল্পকদিনের মধ্যেই আবার দেখা হবে এই প্লান করে একে একে সবাই বিদায় নিতে থাকলো।

সবাই চলে গেলে রিয়াদ বিল নিয়ে বসলো। আগেই হিসাব করা আছে। সবাইকে একটা করে ছোট বুকে দেয়া হয়েছে। এটা এড করতে হবে।
না বিলে এটা ধরা হয় নি।
“এটা কি কম্পিমেন্টরী?”
“না স্যার। দিতে পারলে ভাল হতো। করোনার কারনে এমনিতেই ব্যাবসা খারাপ!” ম্যানেজার কাচুমাচু করে জানায়!
“অসুবিধা নাই। কত হয়েছে?”
“ওটার বিল তো দেয়া হয়েছে।”
“বিল দেয়া হয়েছে? কে দিল?”
“ঐ যে আপনাদের উল্টো দিকে যে বসেছিল ভদ্রলোক! মাস্ক পরা ছিল।
বুফেতে পার্টিসিপেট করেন নি। শুধু একটা ড্রিংকস নিয়েছিলেন। উনি বোধ হয় অসুস্থ! বলেছিলেন।
এই তো বেড়িয়ে গেলেন।”
রিয়াদ দৌড় দিয়ে বাইরে। লিফ্ট নীচে, সিড়িতে পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রিয়াদ দৌড়ে নীচে নামছে।
সিড়ির আলো আঁধারিতে ছায়ামুর্তি কে দেখা যাচ্ছে।
“দাড়ান, দাড়ান! কে আপনি?”
তিন হাত দুরত্ব!
লোকটা তার মাস্ক খুলল!
শুভ!
“শুভ! এটা কেমন কথা। তুই আসলি অথচ লুকিয়ে খাকলি! সবাই তোকে কত মিস করেছে!”
শুভ হাসলো। সেই হাসি। কিছু বলল না।
বরং হাটার গতি বারিয়ে দিল।
“দাড়া, দাড়া আমার হার্টের অসুখ, দৌড়াচ্ছিস কেন?”
মনে হল ও শুনতে পেল না।
রিয়াদ সিড়ি থেকে লাফ দিয়ে ওকে ধরতে গেল। রেলিংএ বারি খেয়ে হুস হারালো।

ক্রেডিট কার্ড রেখে এসেছিল।ম্যানেজার ওকে খুঁজতে এসে দেখে ল্যান্ডিং পড়ে আছে।
পানির ঝাপটা দিয়ে হুস ফেরালো। রিয়াদের চোখের দৃষ্টি তখনও উদভ্রান্ত। ম্যানেজার সাথে করে বাড়ি পৌছে দিল।

কথাটা কারো সাথে শেয়ার করে নি। ফেসবুকে সবার শেয়ার করা ছবি দেখছিল। উল্টা দিকেরর টেবিলের অনেক ছবি আছে কিন্ত সেটা খালি।

একটা আননোণ একাউন্ট থেকে মেইল এল।

“আঙ্কেল আপনার চিঠি পেয়েছি। একটা নিউজ দিতে মেইল করলাম। বাবা গত হয়েছেন দুই বছর!….”

রিয়াদের মনে হল কথাটা সে জানতো!

Leave a comment

July 12, 2021 · 7:14 am

love poem or not

what do I get in return?
every now and then,
remembering you I write
with my fountain pen.
poems come in race
so much I want to tell
my every second I spent
to express in a nut shell.

may it be a sunny day
the light locked in a pearl
as you try to straighten up
the wavy curve of your curl

with the start of rain
drowned in my memories
our first meet, our every bit
in my poems and in stories

As the dews come,
like your moisten lips
sprout of love in silence
and I lake a few sips.

when I walk the way alone
hear your foot steps
it sings,synchronizes with mine
hallucination perhaps.

I didn’t lose you,I believe
you are on a hide out
once this storm is over
we will meet no doubt!

Leave a comment

July 10, 2021 · 10:07 pm

দাগ

এই দাগটা নিয়ে পাপড়ি কনফিউজড।মাকে জিজ্ঞাসা করে ছিল, প্রথমে মা তো স্বীকারই করলো না কোন দাগ আছে।
কিছুক্ষন হাত বুলিয়ে বললো-কৈ দাগ? আমি তো কিছু দেখি না।

“পড়ে গিয়েছিলাম, কোন কিছুর আচোড় লেগেছিল?”
“নাহ! বড় মেয়ে, সবার কি যে আদরে ছিলি! তুই ব্যাথা পাবি তারই সুযোগ ছিল না। আর পেলে আমার মনে থাকবে না তা কি হতে পারে!”
“বাবাকে জিজ্ঞাসা করবো।”
“কেন ফজল কিছু বলেছে?”
“ফজল কি বলবে! সে যা ব্যাস্ত! আমার দিকে তাকানোর সময় কৈ?”
“তাহলে হঠাৎ এটা নিয়ে পড়লি কেন?”
“শোয়েব.. ” বলেই সামলে নিল।
মাকে শোয়েবের কথা বলে লাভ নেই। একগাদা উপদেশ নিয়ে বসবে।

কিন্তু মিসেস বশির কথাটা শুনে ফেলেছেন!
“কিরে শোয়েবের সাথে তোর এখনও যোগাযোগ আছে? এ কিন্তু ভয়ঙ্কর অন্যায়, পাপ!”
পাপড়ি বিচলিত বোধ করে।
“মা থাম। তেমন কিছু না। পরশু গাড়ির পার্টসের দোকানে হর্ন কিনতে গিয়ে দেখা হয়েছে। আমি চিনতে পারি নি। মাথায় চুল নেই। ইয়া বড় ভুড়ি।
ও ই আমাকে দেখে পাপড়ি, পাপড়ি করছিল।
হর্নের পয়সা নিল না। এতো বললাম!”
“পার্টস বেঁচে! পড়াশুনাও তো শেষ করে নি। চাকরী নিয়ে সৌদিতে গিয়েছিল শুনেছিলাম। আল্লাহ কত বড় বাঁচিয়েছে দেখ। তুই তো কি গো ধরেছিলি। আজকে দোকানদারের বৌ হতি। ফজল তো সোনার টুকরা ছেলে!”
পাপড়ি কথা বাড়ালো না। কথায় কথা বাড়ে।”

“আপনি অনেক চেন্জ হয়েছেন। চেনাই যায় না।”
“তুমিও” সোয়েব বলেছিল।
“তবুতো চিনলেন!”
“কপালের দাগটা..”
“কিসের দাগ!” পাপড়ি কপালে হাত বুলালো।
“এই টাই!”
কপালের এখানে একটা দাগ আছে। সব সময় বোঝা যায় না।
সবাই বোঝে না। ফজলকে অনেক জিজ্ঞাসা করেছে – সে কখনও খুঁজে পায় নি!

“তোমার তখন বয়স তিন। সাইকেলের হ্যান্ডেলে বসিয়ে চালাচ্ছিলাম।হঠাৎ পড়ে গেলাম। তোমার কপাল কেটে সেই কি রক্ত!
পাশের ডিসপেন্সারিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেলাই লেগেছিল।
তোমার মা বলেছিলেন, মেয়ের কপালেে একটা ক্ষত করে দিলে, ওকে কে বিয়ে করবে!
আমি বলেছিলাম -আমি।
তা নিয়ে কি হাসাহাসি!”
পাপড়ির এমন কোন ঘটনা মনে নেই।

“বাসা কোথায়?”
“মেসে একটা রুম নিয়ে থাকি। “
“বৌ-বাচ্চা?”
“এখনও বিয়ে করি নি। মেয়ে দেখা চলছে।”
“আচ্ছা উঠি। টাকাটা নিলে খুশী হতাম।”
“কিন্তু আমি কষ্ট পাব।..

সোয়েবের সাথে খুব যে গভীর সম্পর্ক ছিল তা না। পাড়ার যে কোন কাজে ও এগিয়ে আসতো। কারো ইলেক্ট্রিসিটির সমস্যা, কারো পানির!
কারও রিক্সা ডাকতে হবে…
বাবা যখন এক্সিডেন্ট করে সাত দিন হাসপাতালে ছিল তখন খাবার পৌছানো থেকে শুরু করে ঘর পাহাড়ার সব দায়িত্বে ছিল সোয়েব। তাই দুর্বলতা ছিল।

পড়াশুনায় মনযোগ ছিল না। টেনে টুনে পাশ করতো আর পাপড়ি ছিল স্কুলের গর্ব। পাপড়ি বুঝিয়েছে লাভ হয় নি।
মেট্রিক পরীক্ষার দুদিন আগে জব্বর সাহেব মারা গেলেন। পাপড়ির বাবার অফিসে কাজ করতেন। লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করাবে। তার আত্মীয় স্বজন কেউ ঢাকাতে নেই। মেয়েরা তখনও ছোট। সোয়েব পিকাপে উঠে সাথে চলল।
পাপড়ি মানা করেছিল। শোনে নি।
মেট্রিকে সেকেন্ড ডিভিশন পেয়েছিল।
তারপর থেকে পাপড়ি ওকে এভয়েড করতো।

পাপড়ি পড়াশুনা নিয়ে খুব ব্যাস্ত। কথা বার্তা হতো না। প্রায়ই রাস্তায় দেখা হতো।হয়ত ওকে ফলো করতো। কোনদিন কিছু বলে নি। কিন্তু ওর চোখের মুগ্ধতা বুঝতে পারতো। তাতে পাপড়িরও একরকমের ভাল লাগা ছিল।

ফজল স্কলারসিপ নিয়ে বাইরে পড়তে যাবে।হাতে সময় ছিল না দুদিনের নোটিসে বিয়ে হয়েছিল।
সোয়েবের কথা মাকে জানিয়েছিল। মা চোখ বড় করে বলেছিল, কোন ভাবেই সম্ভব না।

পাপড়ি লুকিয়ে সোয়েবের সাথে দেখা করেছিল।
“আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।”
“জানি।”
“কিভাবে?” পাপড়ি অবাক হয়েছিল। এ কথা কারও জানার কথা না।
জবাব দেয় নি। শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।

সারাদিন সোয়েবকে মাথা থেকে দুর করতে পারছিল না।
সন্ধ্যায় মাকে ফোন করলো।
“মা তিন বছর বয়সে আমি কি সাইকেল থেকে পড়ে গিয়েছিলাম?
কপালে সেলাই লেগেছিল?”
“হ্যাঁ! কিন্ত সেটা নিয়ে এতো চিন্তার কি আছে? কোন দাগ তো নেই। “
“একটা সত্যি কথা বলবে, আমার বিয়ের আগে তুমি কি সোয়েবকে কিছু বলেছিলে?”
কিছুক্ষন সময় নিলেন। “এত দিন পর..এসব পুরানো..কি দরকার?”
“দরকার আছে!”
“বলেছিলাম। তোমার থেকে দুরে সড়ে যেতে বলেছিলাম।কোন সিন ক্রিয়েট করে তোমার জীবনে কোন দাগ লাগুক চাই নি! তোমার ভাল…”

ফোনটা কেটে দিল।
দাগ লাগে অনিচ্ছায়। কিছু সবাই দেখে, কিছু…

Leave a comment

July 9, 2021 · 11:31 am

এ মেরি দিল কাহি অর চল

দীলিপ কুমারের প্রথম দেখা সিনেমার নাম রাম অর শাম।
হিন্দি একেবারে বুঝি না তাই ডায়ালোগ গুলো কল্পনা করে নিতে হয়েছিল।
সবার মত আমিও ছিলাম একশন সিনেমার ভক্ত। তখন সিনেমা মানে সানডে নাইট, পরে সেটা স্যাটারডে নাইট হয়।

ইংরেজি সিরিজ থাকত প্রতি দিনই। হওয়াই ফাইব ও, জেসন কিং, সেইন্ট, ম্যান ফ্রম ইউএনসিএলই, ওয়াইলড ওয়াইলড ওয়েস্ট প্রভৃতি। প্রচুর মারামারি!
ইংরেজির জ্ঞান ইয়েস নো ভেরি গুড দিয়ে কিছু বুঝতাম!
হিন্দিতে তাও ছিল না।
হোগা, বাল শুনলে কান লাল হয়ে যেত।
কাজেই তিন ঘন্টার একটা সিনেমা দেখবো অচেনা ভাষায়!
ভাবা যায়?
দেখেছিলাম বললে কম হবে, ইমশোনালি এটাচড হয়ে গিয়েছিলাম।
চোখের ভাষা, শরীরের গেসচার বুঝতে ভাষা জানা জরুরী নয়।

তারপর তার অনেক ছবি দেখেছি। মুঘল এ আজম বিশেষ ভাবে ভাল লাগার।
‘দাঘ’ এ তার ট্রাজিডির বহির্প্রকাশ তুলনাহীন।
দেবদাস নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে তবে শরৎচন্দ্র যদি সবগুলো দেখতেন নিঃসন্দেহে দেবদাস চরিত্রে দীলিপ কুমারকে বাছতেন।
শাহরুখ ভাল করেছেন এমন কি আমাদের বুলবুল আহমেদও।
তবে মাতাল গলায় তার সেই ‘পারো’ ‘পারো ডাকের মত আর কাওকে এমন হৃদয় ছাপিয়ে ডাকতে শুনি নি।

কোন কোন চরিত্রে তার অতি অভিনয় কিছুটা যাত্রা ঢংএর কিন্তু দর্শকের রুচি অনুসারে সে যুগের দাবী মিটিয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্র -সাগিনা মহতো ছবিতে এক উপজাতি শ্রমিক নেতার চরিত্রে কি সাঙ্ঘাতিক অভিনয় করে ছিলেন!

প্রতিষ্ঠার জন্য নাম পরিবর্তন করতে হয়েছিল কিন্তু তিনি তার অবস্হানকে নিজেই এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে সেখানে জাত পাত ধর্ম সবই নীচে পড়ে থাকে।।

মধুবালাকে ভালবেসে ছিলেন কিন্তু তা একটা বিচ্ছেদ গাঁথা। হয়ত মনের গোপনে এ বেদনা ধারন করে ছিলেন বলেই দুঃখ টা এমন করে ফোটাতে পারতেন।

সায়রা বানুর সাথে বাকি জীবন ভালই কাটালেন। কিছু উত্থান পতন ছিল, তা সামান্যই। অন্তত যে কোন দম্পতির জন্য আদর্শ হয়ে রইলেন।

তার মৃত্যুতে অনেকের মতই ব্যাথিত আমি।
এই গাম কি দুনিয়া থেকে অর কহি জান্নাতে তার নসীব হোক।

Leave a comment

July 7, 2021 · 5:33 pm

বসন্ত বিবর্তন

বাগানে যখন বসন্ত আসে, এ গলিতে তখনও আসে না
অথচ এ গলিতেে চিরবসন্ত ছিল।মনে আছে, আছে না?

স্বস্তা ঢাকাই শাড়িতে সারা দিনের ক্লান্তি মেখে,
লিপস্টিকের আড়ালে শুষ্ক ঠোঁট,হাসিতে ভরিয়ে রেখে
বলতে, বাসে এত ভিড়,দেরী হয়ে গেল, ধুর!
আমার তখন টুকটাক ব্যবসা,পল্টন টু নবাবপুর।
তারপর রান্না হতে হতে বেজে যেত আটটা নটা
তাড়াহুড়ায় কখনো আলুনি, কখনো একেবারে  কটা
নুন আনতে পানতা ফুরাতো তবুও সুখের ছিল না অন্ত
কেউ না জানলেও আমরা জানতাম এ গলিতে চির বসন্ত।

তারপর ব্যবসা বেড়েছে, নতুন কন্টাক্ট, অনেক টাকা
তোমারও পদোন্নতি,  ক্ষমতা,হাই সোসাইটিতে পা রাখা!
ফি বছর জন্মদিন,বিবাহ বার্ষিকী  দেশের বাইরে ট্যুর
গুলশানে নতুন অফিস নিয়েছি যাই না নবাবপুর।
প্রতি মুহুর্ত্বে টের পাচ্ছি আমরা হয়ে যাচ্ছি দুরের
ছন্দ থাকৃছে তবু যেন কোথা মিল থাকছেনা সুরের।
ফিরতে আমার রাত হয়ে যায়, ডিনার করে আসি,
ম্যাডাম ডিসটার্ব করতে বা করেছেন- জানায় চাপরাশি।
ব্যালকনিতে ইজি চেয়ারে বসে একা একা দেখি চাঁদ
সম্পর্কে সোনার ভাগ কমছে, কেবলি বাড়ছে খাদ।
সবাই ভাবতো, আপনিও ভাবতেন সত্যি কিনা কনতো
সুখের সাগরে ডুবে আছি আমরা  এ গলিতে চির বসন্ত।

তারপর একদিন, রাগ-অভিমান না, ক্ষোভ না
শান্ত কন্ঠে বললে, একসাথে থাকা আর সম্ভব না।
আমিও জানতাম তবু বললাম কি সব বলছো ধুর
ফেরার পথ এখনও আছে, যাই নি অনেক দুর!
না। ফেরার পথ  ছিল না, আমরা তখন দুপথে
বুজেছি আর লাভ নেই মলম লাহিয়ে এ ক্ষতে!

কাগজে কলেম আলাদা হয়েছি সাক্ষী সবুধ রেখে
তুমি চলে গেছ গুলশানে আমি পল্টনে গেছি থেকে।

ফুল ফোটে পাখী ডাকে কি উল্লাসে বসন্ত চারি দিকে
এ গলিতে প্রান নেই, সবই ধুসর-মলিন  সবই ফিকে।

Leave a comment

July 4, 2021 · 8:17 am

অথচ তোমাকে ছাড়াই

ছোট একটা কবিতা লিখেছিলে,
ছন্দে,কোন অন্তমিল ছাড়াই,
একটা আদুরে নামে ডেকে,
তাতেই আমি মন বাড়িয়ে দাড়াই!
ঠিকানা দিয়ে যাওনি বলেই তাই
অলি গলিতে কেবল পথ হারাই
অবহেলার ক্ষত চেপে রেখে,
সময়ের প্রলেপ দিয়ে সাড়াই!

তোমার মুখের আদল খুঁজে খুঁজে
আকাশ-পাহাড়-সাগর হল মিতা
ঘর ছাড়া আমি বাউন্ডুলে-
তুমি থেকে গেলে অপরিচিতা!

হয়ত আমাদের আর হবে না দেখা
জানিয়ে দি দেখবে তোমায় যারাই,
জানাক লোকটা জীবন কাটিয়ে দিল
তোমায় নিয়ে অথচ তোমাকে ছাড়াই!

Leave a comment

June 29, 2021 · 6:43 pm

বৃষ্টির হিসাব নিকাষ

১।
অনেক ক্ষন ধরে জ্যামে আটকে ছিল আশিক। বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জ্যাম হয়।
যখন জ্যাম ছাড়লো  বামে চাপিয়ে জোরে টান দিল।
সামনে বাস স্টপ। বেশী লোক নেই।রাস্তায় কিছু পানি জমেছে।
সাবধানে পানি না ছিটিয়ে চলতে চেয়েছিল। পারলো না। কিছু পানি ছিটকে গেল।
অনুগ্রহ চাওয়ার দৃষ্টি নিয়ে পাশে তাকালো।
সুবাহ!
নাহ! কত বড়লোকের মেয়ে, এ পরিবেশে..
নাহ্।
কি সুন্দর ছিল। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়েছিল।
তবে বেশ মিল আছে।
পনের বছরে কে কতটুকু বদলেছে কে জানে!

২।
অনেক ক্ষন বাসের জন্য দাড়িয়ে আছে। বৃষ্টিতে বাসের সংখ্যা কম।
স্কুলে আজ বর্ষা উৎসব ছিল।
এমনিতে শাড়ি পরে না। আজ বাধ্যতামুলক ছিল।
গা টা ঘ্যিন ঘ্যিন লাগছে। গাড়িটা ছিটানো পানিতে গা ভিজে শেষ ড্রেনের ময়লা..
ঘৃনা নিয়ে ড্রাইভারের দিকে তাকালো! হারামজাদা ড্রাইভারটা।

আশিক!
আশিকই। গালের মোটা তিলটা, ভ্রমরার মত। এখনও তেমন বসে আছে।
অনেক ফুটানী হয়েছে মনে হল!
ক্লার্কের ছেলে…, ইন্জিনিয়ার তো কি!
ছোট লোক!
বামুন হয়ে আকাশের চাঁদ!
আজ বুঝি সুযোগ পেয়ে প্রতিশোধ নিল।

যাকে ফিরিয়ে দেয় সে হয়ত একসময় ভুলে যায়,
যে ফিরিয়ে দেয়, সে ভোলে না।

Leave a comment

June 19, 2021 · 2:52 pm

হাড্ডি

কেমন করে আজকের দিনটা ভুলে গেল!
সুলতানা কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিল না।
আজ সতেরই জুন। রাজুর বাবা মারা যাবার সতের বছর হল।
এ দিনটায় রোজা রাখে, দুটো ফকির খাওয়ায়, ওকে নিয়ে ভাবতে বসে।
আজ য়খন মনে পড়লো তখন ভাবতে বসার সুযোগটাই বাকি আছে!

কাজের মেয়েটা বিকালের চা দিয়ে গেছে। পিরিচে কিছু চা ছলকে পড়েছে। তাইতেই রাজুর বাবার কথা মনে পড়ল। মানুষটার কেন যেন এ ব্যাপারটা একেবারেই অসহ্য ছিল।
এমন ঠান্ডা মানুষ, কিন্তু এ ব্যাপারটাতে একেবারে চটে উঠতো।

পিরিচ থেকে কাপ তুলে টিসু দিয়ে মুছতে মুছতে রাজুর ঘরের দিকে গেল।
রাজু আর লিমা ওদের বেডরুম লাগোয়া ব্যালকনীতে বসে চা খাচ্ছে!
“বাবা, কি হয়েছে দ্যাখ কিছু মনে রাখতে পারি না।
আজকের দিনটা একদম ভুলে গেছি!”
“কেন মা, আজকে কি?”
সুলতানা অবাক হয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকালেন। “সতেরই জুন!”
রাজু চোখটা মেঝের দিকে সড়িয়ে নিল। সতেরই জুন!
নিজেকে অপরাধী মনে হল। “সতের বছর হল মা।
কি করে একেবারে ভুলে গেলাম!”

আর্কিটেকচারে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। সামনে পরীক্ষা। হলে ছিল।
সকাল ছটার দিকে মামা এলেন। রুম নম্বর খুঁজে তার রুম বের করেছেন। বললেন,”রাজু এখনই রেডি হয়ে নে। বাড়ি যেতে হবে। দুলাভাইএর শরীর ভাল না।”
মামার চোখের দিকে তাকিয়ে রাজু বুঝে গেল খুব খারাপ কিছু হয়েছে। পরীক্ষার আগে দুনিয়া উল্টে গেলেও বাবা ওকে কোন ভাবে ডিসটাঁবড হতে দেবেন না!”

একটা স্যান্ডেল পরে ওই অবস্থাতেই সাথে চলল। স্কুটারে পাশাপাশি বসে অনবরত চোখ মোছা রাজুর দিকে তাকিয়ে মামাও বুঝে গেলেন, রাজু ঠিকই খবর পেয়ে গেছে।

অথচ মানুষটা খুব অসুস্থ্য ছিলেন তাও না। দু বছর আগে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল এই। কিছু নিয়োম মানতেন ওষুধ খেতেন -ভালই ছিলেন।

লিমার এ সংক্রান্ত কোন স্মৃতি নেই। ওর বিয়ে হয়েছে উনি মরে যাবার দু বছর পর। বসার ঘরে বাধানো বড় ছবিটায় দেখেছে। রাজুর সাথে চেহাড়ায় খুব মিল।
“মা এখানে বসেন। “
চেয়ার ছেড়ে উঠে সুলতানার হাত থেকে কাপটা ধরলো।

এসময় দরজায় বেল বাজলো। রবি মাঠে খেলতে গিয়েছিল। ফিরেছে।
ঘরে উকি দিয়ে চলে যাচ্ছিল। অবাক হয়েছে। দিদা সাধারনত বাবা মার ঘরে আসে না।

রবি কেএফসির চিকেন ব্রোস্ট নিয়ে এসেছে। গোসল করে এসে বসে বসে খাচ্ছিল এসময় মা ঢুকলেন।
“জাংক ফুড খেতে মানা করি..”
“সবসময় তো খাই না। আজকে খুব ইচ্ছা হল..” দুটো ফ্রেন্চ ফ্রাই মার দিবে বাড়িয়ে দেয়।
“না আমি খাব না। টাকা কোথায় পেয়েছ?”
“দিদার কাছ থেকে নিয়েছি, ধার!”
“ধার?”
“হ্যাঁ যখন চাকরী করবো সব শোধ করে দেব।
দিদার কি কিছু হয়েছে? মন খারাপ মনে হল!”
“আজকে তোমার দাদুর মৃত্যুদিন তো। ভুলে গেছেন বলে.. “

রবির কাছে দাদু একটা গল্পের চরিত্র। ছোট বেলা থেকে দিদার কাছে গল্প শোনে। মানুষটার প্রতি কেমন একটা ভালবাসা জমা পড়েছে।
কত কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন, চাকরী নিয়েছেন, এ বাড়ি করেছেন, কত গল্প!

মা চলে গেছে। রবি দিদার ঘরে উকি দিল। দিদা বিছানায় বসে এলবাম দেখছে।
রবি পাশে গিয়ে বসল। দিদার চোখ তখনও ছলছল।
“ভাইয়া আপনার স্যার এসেছে।” কাজের মেয়েটা ডাকলো।
“আসি!
চিকেন ফ্রাই এর প্যাকেট টা সুলতানার হাতে দিয়ে বলল,
“সরি দিদা। সবটা খেয়ে ফেলেছি, শুধু হাড্ডিটা আছে।”
বাক্সটা নিতে গিয়ে হাতটা ধরলেন। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।
মেয়েটা আবার ডাকছে-স্যার বসে আছে।
“দিদা, আমায় ডাকছে।”

যৌথ পরিবারের বৌ ছিল সুলতানা। টানাটানির সংসার। যেদিন ভাল রান্না হতো সেদিনও বৌদের ভাগ্যে পরিবর্তন হত না।
রাজুর বাবা খেতে বসলে তাকেও বসতে হত। শ্বশুড় শ্বাশুড়ির সামনে রাজু বাবা বাটি থেকে গোস্তের টুকরাটা প্লেটে নিয়ে খু্ব তাচ্ছিল্যের সাথে তার প্লেটে উঠিয়ে দিতেন, “হাড্ডি পড়েছে! আমি এসব হড্ডি খাই না!”
প্রথম দিন একথা শুনে খুব রাগ হয়েছিল। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে শ্বশুড় বাড়িতে কি হাড্ডি..
তারপর বুঝেছিল।

বাক্সটা খুললেন। হাড্ডির সাথে অনেকটা গোস্ত লেগে আছে। কয়েবটা ফ্রন্চফ্রাইও আছে।

যে কান্নাটা বুকের কাছে আটকে ছিল তার বাধাটা যেন সড়ে গেল। তার দুচোখ বেয়ে..

যুগ বদলেছে। ভালবাসার ধরনটা বদলায় নি।

Leave a comment

June 18, 2021 · 7:23 am

কবিতাংশ-৪

ওটা ওষুধ ছিল,
মাতাল ভেবে ভুল বুঝলে।
তোমাকে ভুলতে,
আর কি ওষুধ মিলতো খুজলে!

Leave a comment

June 16, 2021 · 12:04 pm

সাদামাটা জীবন

তুমি ভুলে গেছো- হতেই পারে না।
আমি ভুলে গেছি! আরে নারে না।
অথচ আমাদের মন প্রতি বরষায়
কেঁদে কেঁদে এ কারন দর্শায়-
জোর করে না মনে রাখা যায়
জোর করে না ভুলে থাকা যায়!
শুকনা চোখের নিখুত অভিনয়,
ধরা পড়ে যাব এ ভয় সব সময়!

সব পেলাম শুধু তোমায় ছাড়া
এ জীবন বড় সাদামাটা,দায়সাড়া।

Leave a comment

June 16, 2021 · 6:33 am

নিদ্রিতা

তার আধ-খোলা খোপা হতে
কিছু চুল ঝুলছে
হয়ত মুক্তির আনন্দে দুলছে।
বন্ধ স্বপ্ন বিভোর চোখ
ধীরে ধীরে খুলছে।
কিছু চুল দুলছে।

ভুরু তার দিগন্ত রেখা
আকাশের সাথে মাটির।
আধ খোলা চোখ-নদীপথ
কখনও উজান কখনও  ভাটির।

ঠোট হালকা নড়ে উঠছে
অনুক্ত কিছু কি মুখে ফুটছে?
নাসিকার মায়াবী কম্পন
জনি না কি ভাবছে তার মন!
কোন দুঃখ কি তাহলে ভুলছে
ধীরে ধীরে চোখ কি খুলছে?

কি এক নিষ্পাপ মেঘ,
শুধু ছায়া দিয়ে ভেসে চলে যায়
তেমনি কপাল কুন্চনে
মেয়ে যে চোখ তুলে চায়!

Leave a comment

June 14, 2021 · 10:38 pm

অনন্ত রয়

রোদ পড়ে গেছে।
দীর্ঘতর হচ্ছে ছায়া।
আর দূর কোথা-
হবে না যাওয়া।
হয়ত কাছে এসেও
হল না দেখা
হয়ত বদলানো যায় না
ভাগ্য রেখা।

কত মেঘদের দেখা হয় না,
ধুমকেতুর, নক্ষত্রের!
আমাদেরও হল না!
অন্তমিল বিহীন দুছত্রের।
বর্ষা শরৎ ছোঁয়,
বসন্ত নায়
অদেখায়,তবু ভালবাসা
অনন্ত রয়!

Leave a comment

June 14, 2021 · 7:07 am

কবিতাংশ-৩

লতা বৃক্ষ হতে চায়নি,
জড়িয়েছিল অষ্টেপৃষ্ঠে।
আমার উৎসাহে নিজের পায়ে দাড়িয়েছে
সেখানেই মেঘের সাথে আলাপ,
আমিই দায়ী এ বিচ্ছেদে-অবস্থা দৃষ্টে!

Leave a comment

June 9, 2021 · 7:56 pm

হারানো প্রেম খুজে বেড়ানো

একজন ঘুমায় পাশে এসে
আর একজন জেগে আছে
অন্য কোথাও
অন্য কোন দেশে!

সে কি ভাবছে?
চিন্তাগলো আকাশ জুড়ে
উড়ছে, নাবছে!
বিক্ষিপ্ত ভাবছি এটা সেটা
সে কি ভাবছে যেদিন যাচ্ছে,
নাকি হারিয়ে এসেছে যেটা!

নাকি একজন ঘুমায় পাশে শুয়ে
আরেকজনও অন্য কারো সাথে
আছে মিলে একে একে দুয়ে!

আমিই আছি জেগে, একা একা।
সাত আসমানের নীচে
হারানো প্রেম খোঁজা, আমারই যে ঠ্যাকা!

Leave a comment

June 9, 2021 · 12:44 am

যখন বৃষ্টি পড়ে

মেঘেরা জড় হয়েছে গোল টেবিলে
চলছে হিসাব-
কোথায় কোথায় বৃষ্টি দেবে!
আমিও পুরানো এলবাম খুঁজে-
দুঃখ বাছাই করছি,
বোতল খুলবো কোনটা ভেবে!

যা যা ছিল আনন্দের স্মৃতি
একটি সিদ্ধান্তে
তাই হল অনন্ত কান্নার নদী
কেন আমার হলে না প্রিয়তমা?
কেন বেছে নিলে
এ পরিনতি, ভালবেসে ছিলে যদি!

এ রঙ্গীন পানির প্রতি আমার কোন
আকর্ষন নেই
স্মৃতি যখন হৃদয় রক্তাক্ত করে
এ ঔষুধ রোগ সাড়াবেনা জানি,
ভুলিয়ে রাখে
যখন বাহিরে ও অন্তরে বৃষ্টি পড়ে।

Leave a comment

June 8, 2021 · 6:25 am

মাসুক আমার জলের কারবারী

মাসুক আমার জলের কারবারী
দু চোখে আনে কাঁদন বারবারই।
বাইরে গেলে দেয় না খবর,
কেমনে আর করিবো সবর
না ফিরার তার অজুহাত ভারী।
মাসুক…………….

জল অভাবে যদি নাও না চলে,
পানি জমায় চোখের জলে
থইথই করে পানি গাঙে
অবহেলায় আমার বুক ভাঙে,
তবু আশায় আশায় থাকি যে তারই
মাসুক…………..

ভালবাসা এক দু-ধারি তরবারি
মাসুক আমার জলের কারবারী

Leave a comment

June 6, 2021 · 4:01 pm

তখন দেখা হবে

“কাল আসতে পারবে অদ্দুর?
মোড় পেড়িয়ে সোজা- শান্তিপুর,
রাস্তার ডান দিকে সঙ্গীত একাডমী
উল্টোদিকে পার্ক,সেখানে থাকব আমি।”
“কয়টায়? সাড়ে চারটা ঠিক আছে?”
“না।  ঠিক বিকাল পাঁচটা পাঁচে!”

অনেক দিন বাদে ফোন করলো রিনা
জানি না  ব্লক করে রেখেছিল কিনা-
অনেক ফোন করেও  ধরতে যে পারিনি,
অধরাই রয়ে গেছে মোর মন-বন-বিহারীনি।

যখন পৌছেছি তখনও দশ মিনিট বাকি
ডান-বাম খুঁজে পথের দিকে তাকিয়ে থাকি।
পাঁচ,দশ,বিশ করে সাড়ে পাঁচটা বাজে
কি হল, হঠাৎই কি আটকে গেল কাজে!
ফোন করছি বারবার, ফোনটাও বন্ধ
চলে যাব না থাকব এ কি মহা দ্বন্দ্ব!

ফোন কেঁপে উঠলো, এল ক্ষুদে বার্তা
-কি ভাবছ আমার ডাকে না এলেই পারতা!
নীল পান্জাবীর সাথে পায়জামা পরেছ খাকি
নীলের সাথে খাকি কি একটুও যায় নাকি!
এখনও আগের মত বোকাই রয়ে গেলে
পান্জাবীর পিছন যে উঠে আছে ঠেলে
চোখে পড়ে নি,  চোখ বন্ধ করেছিলে?
কখনও টাইট হবে না আসলে যার স্ক্রু ঢিলে।
তোমায় হঠাৎ খুব দেখতে ইচ্ছা হল বলে,
সন্দেহও ছিল এক কথায় আস কিনা চলে!

আমি এখন ধর্মমতি নেকাবে আড়াল রেখে
এক পলকে,এক ঝলকে তোমায় গেলাম দেখে।

সঙ্গে সঙ্গে চোখ ঘুরিয়ে এদিক ওদিক চাই
নাহ কোন দিকেই সে পর্দানসীনা নাই।
জানি না আবার কখন ডাকবে, কবে
ভাগ্য সহায় হলে হয়ত তখন দেখা হবে!


Leave a comment

June 4, 2021 · 2:07 pm

কাব্যাংশ- ২

মোড়ে মোড়ে আটকেছে পানি-জমে থাকা কান্নার মত
উথলী উথলী ঢেউ ওঠে, ব্যাথা করে বুকের ক্ষত
একদিন পানি নামে যাবে, তার সাগর আছে
আমার কান্না কান্না জমে থাকে বুকের কাছে!

Leave a comment

June 1, 2021 · 4:57 pm

উনিশ শতকে প্রেম

তখনও সানাইটা একই ভাবে কাঁদছে।
নব বধূ ঘোমটায় মনখানা বাঁধছে।
বাইরে বৃষ্টি,বাতাসে ছেড়া চিঠি উড়ছে
ছেলেটার সিগারেট হাতেই পুড়ছে।
সাজানো বাড়ির বাতি নিভছে-জ্বলছে
ফুল সাজা গাড়িটা ধীরে ধীরে চলছে।
মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে ছেলেটাকে দেখে
কাছের মানুষও খুব দূর দূর ঠ্যাকে!

Leave a comment

June 1, 2021 · 12:24 am

কবিতা কনিকা -২২৭

সে যে আসলেই ভুলে যাবে ভাবি নাই!
মনে ছিল, আর যাই হোক
যত দূরে থাক ভালবাসার লোক
একেবারে ভুলে যাবে,হতে পারে তাই?
দিন সপ্তাহ যায়, মাস-বছর যায়,
থেকে থেকে ক্ষয়ে যায় চোখ
সহিতে পারি না আর শোক
ভালবাসার অভিনয় করা অন্যায়!

Leave a comment

May 31, 2021 · 7:32 pm

কবিতাংশ-১

রাত্রীর প্রহরগুলি
বইএর পাতার মত উল্টাই।
শেষে পাতাতেও মিমাংসা হয় না
চোখে কেন ঘুম নাই!

Leave a comment

May 30, 2021 · 11:24 pm

এই মুচকি হাসি

যার প্রতিক্ষায় থাকি সারাক্ষন
যা লুকিয়ে রাখে এক কৃপন!
আমার বিদায়ে সে এ হাসি হারাবে,
হয়ত হাসি ভেবে ঠোট নাড়াবে
কেই বুঝবে না ওটা হাসি না কাঁদা।
না ফিরে হাসবে কেউ,না দেবে মর্যাদা!

Leave a comment

May 28, 2021 · 10:55 pm

মেঘ, হে পারিযায়ী মেঘ

মেঘ তুমি কিসেরও বার্তা বয়ে যাও?
যদি পথে তার দেখা পাও
বল তারে ভাল আছি,
শুধু এ উদ্বেগে বাঁচি-
সেও আছে তো সালামতে কোথাও!
ঠিকানা যায় নি দিয়ে পাঠাই পত্র
কেমন আছো এমন দু এক ছত্র।ঙ
অপেক্ষায় থেকে বাড়ে হৃদয়ের ভার!
শুধু কি আমার?
মুছতে চেয়েছি তারে
ছাপ যে মোছে না,আরে!
কি এক বেদনা নিয়ে শান্তি উধাও…

Leave a comment

May 27, 2021 · 5:23 pm

আজ ভরা পূর্নিমা

কেউ চাঁদ দেখতে ছাদে গেছে চলে
কেউ নদীতীরে চাঁদের প্রতিফলন দেখে জলে
ভাবলাম ম্যসেন্জার নক দেই এই ছলে
আমার চাঁদ,
যে নিজের আলোয় জ্বলে!
থাক!
সে তার ভালবাসার মানুষের বুকের অতলে
হয়ত এখন চাঁদ নিয়ে কোন প্রেমের পুংক্তি বলে!

Leave a comment

May 27, 2021 · 1:04 am

খুব জানতে ইচ্ছে করে

খুব জানতে ইচ্ছে করে,
আমায় মনে পড়ে?
নাকি ভুলেছো অনভ্যাসে!

ভুলেছ আমার কবিতাও?
আমার গল্প পড়তে চাও?
আমায়,খোঁজ আসে পাশে?

প্রতিদিন কিছু একটা
কখনও পুরো না অর্ধেকটা
আজও লিখি তোমার উদ্দেশে

জানি না কবে থেকে পড় না
ব্যাস্ততা থেকে তো বড় না
এমন নয় পড়তেই হবে শেষে!

তোমার ধারনাই ঠিক ছিল,
ভালবাসা অল্পদিন টিকছিল
বুঝে ছিলে আমায় দিয়ে হবেই না

ডাক্তার ইন্জিনিয়ার অপেক্ষায়,
সেখানে কবি অনন্যোপায়
বুঝে শুনে স্বিদ্ধান্ত নেবে তবেই না..

খুব জানতে ইচ্ছা করে
বড় লোকের ঘরে
কেমন সুখে তুমি থাকো?

আমি একই রকম আছি
কোন রকমে বাঁচি,
আমার খবর কি রাখো?

Leave a comment

May 26, 2021 · 4:37 pm

বিদ্রোহী বুলবুল

কবি নজরুল নিয়ে প্রচুর লেখা পড়লাম। অনেক নতুন কিছু জানলাম। আমারও লিখতে ইচ্ছা করে কিন্তু তাঁর উপর আমার গবেষনা নেই, তাই নতুন কোন তথ্য দেবার ক্ষমতা নেই।
যারা তাঁর সমসাময়িক তাদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি পড়ে চমৎকৃত হই।

আমার উপলব্ধিতে নজরুল লেখনী এক একটি জাগ্রত সত্ত্বা, জীবন্ত।
বিদ্রোহী কবিতা পড়লে এখনও সিনা টান করে উঠে দাড়াতে ইচ্ছা করে, নার্গীশ বনে বুলবুলির নীরবতায় ঝড়া ফুলের বিলাপে হৃদয়ে কান্নার প্রতিধ্বনী শুনতে পাই।

যাও মেঘদূত দিয় প্রিয়ার হাতে আমার বিরহলীপি লেখা কেয়া পাতে- প্রেমিক হৃদয়ের আর্তি যে ভাবে প্রকাশ হয়েছে, আমার কাছে এখন পর্যন্ত পবিত্র প্রেমের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

নিলাম্বরী শাড়ি পরে নীল যমুনায় যাওয়া জলকমলিনী, ভ্রময় যার পায়ে পায়ে চলে তার কি হৃদয়গ্রাহী প্রকাশ, কি সুরের ব্যাপ্তি কি বানীর মাধুর্য!

পদ্মার ঢেউরে বলে টানের গভীরতায় যেন সেই যৌবনবতী পদ্মার টেউ উথলে ওঠে।সেই পদ্ম ছিল যার রাঙা পা, তাকে হারিয়ে কবির ডে মন-বেদনা, আমি আর কারও গানে পাই নি।

এ প্রমিক কবি কি কাতর কন্ঠে চেয়েছিলেন যাবার বেলায় ফেলে যাওয়া একটি খোপারই ফুল!
যে কবি অধিকারের প্রশ্নে গর্জে োঠেন, কাওকে তোয়াক্কা করেন না সেই কবিও প্রেমে কি সম্মহিত!
এ বহুসত্ত্বা তার বহুমুখী সৃষ্টি একদিকে বহির্মুখি আস্ফালন আর অন্যদিকে  অন্তর্মুখী বেদন-যাপন তাকে নিয়েছে অন্য উচ্চতায়।

কার চেয়ে কে বড় সেই পরিমাপে যাই না।  এ অন্ধের কাছে তাকে স্পর্শ করা প্রতিটি অনুভূতি অনন্য!

কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। 
যার জন্ম না হলে বিদ্রোহী হতো না, বুলবুল হতো না তার জন্মই স্রষ্টার বড় আশরীর্বাদ মানি।

Leave a comment

May 25, 2021 · 9:54 pm

ইয়াস

বেশ কদিন বৃষ্টি হয়না
সবার বুকে পিয়াস
এবার বুঝি গরম কমবে
বৃষ্টি আনবে ইয়াস!
ইয়াস মানে হতাশা হলেও
আমরা হতাশ নই
কত দেখলাম আইলা,সিডর
যুদ্ধ করেই রই।

Leave a comment

May 25, 2021 · 4:13 pm

হঠাৎ গেছে কারেন

অনেকদিন পরে আজ হঠাৎ গেছে কারেন!
বউ নীচে খবর পাঠালো: জেনারেটর ছাড়েন!
“হবে না ম্যাডাম তেল নাই” বলে পাঠালো বারেন।
বউ কি আর, কি ঘটেছে এসবের ধার ধারেন!
“তেল নাই, যে কিনে নাই তাকে ধরে মারেন!”
লাঠি নিয়ে পিছে ছুটছে কেয়ারটেকার বারেন
“স্যার আপনি দৌড় দেন যত জোরে পারেন
দোয়া দরুজ পড়ার থাকলে তাড়াতাড়ি সারেন
মাথা আপনার ভাইঙ্গে দেব যদি রেসে হারেন!”

ম্যাডামই দেখি সব কিছুর পিছনে কলকাঠি নাড়েন!
😦

Leave a comment

May 25, 2021 · 8:52 am

আমি মেষ বিশেষ

স্বাভাবিক!বন্যতাকে ভয় পায়,
সব পাখী পুষে ফেলতে চায়।
কি দরকার ঘুরে বেড়ানো বনে-
থাকুক কিচির মিচির নয়ন্ত্রনে।

যে নদী বাঁধানো পাড় পছন্দ করে
তারা থাকবে তাপানুকুল বন্ধ ঘরে।
যে নদী ছুটতো আর ভাঙত পাড়
বালু জমিয়ে কবেই মরে সাবাড়।

মুক্তচিন্তারা সমাধীত বহুদূর।
এখন সবেতে জ্বী হুজুর,জ্বী হুজুর
প্রতিবাদ বাদ গেছে স্বপ্নের অফিমে,
প্রতিরোধ ঝিমায় মাঝে তা দিয়ে ডিমে।

দূর্নীতি, ব্যাংক লুট, টাকা পাচার,
দেখে যাই, আরে ভাই আমি নাচার।
আমি মানুষ দেখতে আসলে মেষ,
অভিযোজিত এক জন্তু বিশেষ।
আর তুমি? থাক কি বলতে কি বলি,
পরে মামলা,জেল জরিমানা। যাই, চলি।

Leave a comment

May 21, 2021 · 3:08 pm

অন্ধ ভালবাসা

অন্ধ ভালবাসা

“টাইটা বেশী লম্বা মনে হচ্ছে!”
“একদম ঠিক আছে।” না তাকিয়েই লুবনা জবাব দিল।
ইদানিং শোভনের এসব খুতখুতানী একদম সহ্য হয় না।
“তুমি কালকের শাড়িটাই পড়লে! এত বড় একটা অকেশন,নতুন কালো শাড়িটা পর।”
যেতেই ইচ্ছা করছে না। তবু যাচ্ছে। বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দেয়া হয়েছে। না গেলে কথা হবে।

আজকে ওদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। লুবনা খুব বিরক্ত। এত বড় একটা ভুলের প্রথম বার্ষিকী! একটা জীবন এভাবে কাটাতে হবে..
টানা দুইবছর প্রেম করে তারপর বিয়ে,
শোভন চায় নি, লুবনারই আগ্রহ বেশী।
কি প্রগাঢ় ব্যাক্তিত্ব শোভনের। শোভনের কিছু ক্লাস পেয়েছিল।
শুধু ও না ক্লাসের সবাই মুগ্ধ ছিল। ক্লাসে একটা শব্দ হত না।
লাবনী মহামানব হতে চেয়েছিল! মহামানবী..

শাহজালাল ইউনুভার্সিটি থেকে এনভায়রনমেন্টাল সাইন্সে বিএসসি করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ডিজাসটার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। সহপাঠিরা বেশীর ভাগই ঢাকা ইউনুভাূসিটির। এরা এরা এক সাথে চলে। ওর মত যারা বাইরে থেকে এসেছে তাদের সাথে লুবনার কেমন যেন এজাস্ট হচ্ছে না। ও তততটা মিশুক প্রকৃতির নয়।!

ছেলেটাকে প্রায়ই দেখে। খুব হ্যান্ডসাম। চোখে ডার্ক সানগ্লাস।
বারান্দার রেলিং ধরে খুব দুরে কোথাও তাকিয়ে থাকে তারপর একটার পর একটা সিগারেট ধরায়।
পাশ দিয়ে হেটে গেলে পারফিউমের বেশ জোরালো গন্ধ পাওয়া যায়। দুই একসময় একটু দুরত্ব রেখে পাশে দাড়িয়ে দেখেছে কি এমন দেখে!
একটার পর একটা কৃষ্ণচুড়া, রাধাচূড়া দাড়িয়ে আছে।
সুন্দরী বলে ইউনুভানিটিতে নামডাক ছিল লুবনার! শেষের কবিতা নাটকে লাবন্য চরিত্রে অভিনয় করেছিল- তারপর থেকে লুবনার বদলে সবাই ওকে লাবন্য ডাকতো।
প্রচুর প্রেমের আহ্বান ছিল। কাওকে ভাল লাগে নি।
“খুব সুন্দর না?” লাবন্যই একদিন আগ বাড়িয়ে কথা বলল।
ছেলেটা একপলকের জন্য ওর দিকে ফিরলো। তারপর আবার সামনের দিকে তাকিয়ে একমুখ ধোঁয়া ছাড়লো।
খুব অহঙ্কারী। মেজাজটা খিচরে গেল। কেন যে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেল।

তাই রাগটা পুরাপুরি উগড়ে দিল ওর থাপ্পরে।
সেদিন একটু দেরী করে সেমিনার রুম থেকে বের হয়েছিল। আড়াইটা বেজে গেছে। ইউনুভার্সিটি খালি খালি।
পাশে ওশানোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের টিচার্স রুম।
প্রায় দৌড় দিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ ছেলেটা বের হয়ে এসে একেবার ওর গায়েরর উপর পড়লো।
সড়ে দাড়িয়েই ঠাস্ ঠাস্…
“ছোট লোক, লোফার
ততক্ষনে আরেকজন বয়স্ক লোক এসে ছেলেটার হাত তুলছে!
“শোভন তুমি ঠিক আছো?”
ওনাকে লুবনা চেনে। ওসমান স্যার।গেস্ট টিচার হিসাবে ওদের ক্লাস নিয়েছিল। এসময় ওর হাতে একটা ছোট সাদা স্টিক খেয়াল করলো।
শোভন তখনও গালে এক হাত রেখে দাঁড়িয়ে-“সরি এক্সট্রিমলি সরি!”

লুবনা একমুহুর্ত্বে জন্য থমকে দাড়ালো।
কিছক্ষন কথা খুজে পাচ্ছিল না। তারপর এগিয়ে গিয়ে শোভনের হাত ধরলো। “খুব দুঃখিত, লজ্জিত।
আমি ওনাকে এগিয়ে দিচ্ছি।”
“না, না আমি যেতে পাড়বো। স্হাবর সব আমার চেনা অস্বাবর কিছু হলে..”
“প্লিজ। আমার খুব গিল্টি ফিল হচ্ছে।”
“আচ্ছা চলুন। আমি শোভন লেকচারার ওসানোগ্রাফি..”
“আমি লুবনা। মাষ্টার্স করছি ডিজাস্টার..”
ওরা ওই বারান্দা দিয়ে যাচ্ছে,
“সুন্দর না?
সবুজের সাগরে রঙীন ফেনার ঢেউ।”
লুবনা চমকে উঠলো!
“অন্ধদের শ্রুতি শক্তি খুব প্রখর হয়, জানেন না?’ আমার স্মৃতিশক্তিও”

এদিক ওদিক ঘুরে আবার এসে দাড়ায়। “চল।”
“তুমি শাড়িটা চেন্জ করলে না?”
ও কিভাবে বোঝে এটা ঠিক বুঝতে পারে না। মাঝে মাঝে মনে হয় ও কি আসলেই দেখতে পায় না!
“ইচ্ছা করছে না।”
“প্লিজ!”
শোভন সাধারনত জোর করে না। দুএকবার বলেই থেমে যায়। আজকে যেন বেশী জোর করছে।
কালো শাড়িটা পড়ে নিল। এর সাথে সোনার গহনা চলে না। একটা মুক্তার মালা বের করে পরলো।
শোভেন কখন কাছ ঘেসে এসে দাঁড়িয়েছে।
“গলায় কি পরছো?” হাত দিয়ে দেখলো।
“মুক্তার মালা।”
“খুব মানিয়েছে না? ”
লুবনা কোন জবাব দিল না। এখনকার দিনে মুক্তা কেউ পরে!
হঠাৎ গলার পাশে হাতের নরাচরা টের পেল।
মাঝামাঝি হাত দিয়ে নতুন কিছুর স্পর্শ পাচ্ছে।
“কি করো?”
শোভন তখন হাতড়ে হাতড়ে একটা হার আটকাচ্ছে।
লুবনা সড়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। হাজার আলোর প্রতিবিম্ব। সেই হারটা যেটা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে দেখেছিল। খুব পছন্দ হয়েছিল। কাওকে বলে নি। সোভন সাথে ছিল কিন্তু ওতো…

চোখ থেকে দুফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
আয়নায় তখন দুজনকেই দেখা যাচ্ছে।যেন দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী দম্পতি!
লুবনা ঘুরে টাইটা ধরে বলল, “দাড়াও আর একটু ঠিক করে দেই।”

লুবনার ঠোট ছূঁয়ে গেল শোভনের ঠোঁটে। সেখানে শুধুই ভালবাসার উত্তাপ!

Leave a comment

May 16, 2021 · 3:44 pm

কবিতা কনিকা-২২৬

আমাদের দেখা হলনা
অনেকদিন পর-
কত বছর!
একাকী দাড়িয়ে,
ঝড়বৃষ্টি পেড়িয়ে,
জড়িয়ে আছি, যে যার শিকড়।

Leave a comment

May 15, 2021 · 7:00 am

ঈদ সে কেয়ামত তক

ঈদের দুদিন আগে যখন নিবাসী বুয়া বাড়ি যায় আর ছুটা বুয়া আসে না,
তখন তাকে কি ঈদ বলা যায়?
জানি না হুজুর রা কি ফতোয়া দিবেন, তারা তো কোন ব্যাপরে একমত হন না। একদল বলবেন জায়েজ আছে তো আরেক দল নাজায়েজ!

মনের দুঃখে ছাদে গিয়ে বসেছিলাম তাতেও শান্তি নাই। বৌ ফোন দিলেন
“নীচে আসো!
আমাকে তো একটু হেল্প করতে পার!”
তা পারি
কিন্তু যা করি তা তো তার পছন্দ হয় না। যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা!
নারি বানানে হ্রস্ব ই কার তো নাকি দীর্ঘ ঈ?
নারী!
না। যারে দেখতে নারী তার চলন সব সময় ঠিকাছে।

বৌ রাঁধে ভাল, নির্ভয়ে বলছি কিন্তু বুয়া বিপর্যয়ে প্রথমে শুকনা সেমাইতে চিনি বেশী হলো।
চিনি কমাতে আরও এক প্যাকেট যোগ হল। তাতে চিনি কম হল।
তারপর চিনি বাড়াতে চিনি দিয়ে দুধ জ্বাল দিয়ে যোগ করা হল। তাতে চিনি ঠিক হল কিন্তু সেমাই ডাল হল।
আমার দোষ হলে এর প্রতিটি পর্যায়ে আমাকে চাখতে ও মন্ত্বব্য দিতে হয়েছে আর সাথের পরিবর্তনের উপদেশও আমার।

অনলাইনে বৌএকটা পান্জাবীর অর্ডার দিয়েছিল।
ডেলিভারীর দিন কোন কারনে বৌএর মেজাজ খুব খারাপ ছিল।
প্যাকেটটা মুখে ছুড়ে মেরে বলল,”পরে দেখো!”
পরলাম। সাইজ ঠিক আছে কিন্তু সিঙ্গেল হাতা। শুধু বাম হাত আছে।
আমি তো ফ্যাসন সচেতন না। একবার মনে হল বৌকে বদলানোর কথা বলি কিন্তু পরক্ষনে ভয়ে চেপে গেলাম।  একদিকে ভাল, কব্জি ডুবিয়ে খেতে গেলে দাগ লেগে যাবে না!

পান্জাবীটা পরলাম।
“বৌ পুরা একমিনিট আমার দিিকে তাকিয়ে থাকলো। কোন কথা বের হচ্ছে না। মনে হল বোবায় ধরেছে।
ধাক্কা দিলাম, “ওগো ঠিক আছো?”
এতক্ষনে কথা বের হল। “জানোয়ার! এটা কি পরে ঘুরছো?
পরে দেখতে বললাম, দেখনি?”
“দেখেছি তো। ভেবেছি নতুন ফ্যাশণ!”
অনলাইনে ফোন করে সেই ঝাড়ি দিল। মনটা হালকা হলে আমার উপর চাপ কমবে।
এমনিতে বিক্রীত মাল ফেরত হয় না, কিন্ত বিকৃত বলে তারা দুঃখিত হয়ে আরও দুটো হাতা পাঠিয়ে দেবে বলেছে।
ভাবছি এক্সট্রাটা পিছনে সেলাই করে ঘুরবো!
হারানো লেজের দুঃখে!

Leave a comment

May 14, 2021 · 10:49 am

রঙীন মাছ ও রংহীন

বর্নের অহংকারে তাদের জায়গা একুরিয়ামে,
কিনতে হয় অনেক বেশী দামে।
তারা মৎস অধিকার নিয়ে বাঁচে,
যত্নে লালিত, অসুখ হলে ওষুধ আছে,
মারা গেলে পোস্ট মর্টেম, মালিকের কান্না।
রঙীন না যারা, ভাগ্যে প্রতিদিনের রান্না
তারা আমজনতার মত,
জন্মায় মরে শত শত
কে তার খবর রাখে।
বাতিলের খাতায়,কেজি দরে থাকে।

Leave a comment

May 10, 2021 · 8:06 pm

মাদার্স ডে ‘২১

বদলায় নি কিছুই
মাঝখান থেকে কিছু বছর-মাস-দিন,
অযাচিত ভাবে এসে কালের গহ্বরে হয়েছে বিলীন।
আমিও তেমনই আছি, সেই শৈশবে,
মায়ের কোল জুড়ে অতূল বৈভবে।

মা কে নিয়ে দিবস হয়? মা তো জীবন।
আমার অস্তিত্ব জুড়ে-প্রতিটি ক্ষন।
আমার কি আর কিছু আছে?
আমার যা আছে, আছে কার কাছে?
মার জন্য মা দিবসের কার্ড কিনো না।
প্রতিজ্ঞা করি মাকে ছাড়া একটি দিনও না।

Leave a comment

May 9, 2021 · 4:48 pm

কেমনে বাঁধিব হিয়া

বেশ কিছুদিন (পড়ুন মাস খানেক) ঢাকার বাইরে কোথাও যেতে না পেরে হাপিয়ে উঠেছি।
বৌকে বললেই মারতে আসে। অথচ আমাকে যে পছন্দ করে তাও না। করোনাকালে বেশী দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে গেছে। সব কাজে ভুল ধরে, ধমক দেয়।
আসলে আমি হলাম বাফার সলিউশন। যখনই মেজাজ চড়ে,শরীরে এসিড বারে, আমাকে কিছুক্ষন রগরালে পিএইচ সাতে নামে।

করনার কিছু সুফল ভোগ করছি, না বললে করনার উপর অবিচার করা হবে। গত মার্চে একটা মেয়ে বাসায় আসে। যে দিয়েছিল সে তক্কে তক্কে ছিল কোন উছিলায় মাসখানেকের মাথায় অন্য বাসায় দিয়ে ডেলিভারি চার্জ নেবে।
কিন্তু আটকে গেল। অবশ্য শুধু করনা না, আমরা বাসার সবাই ওকে এত আদর করি যে সে যেতে চায় না।
এবার সে ডেলিভারী লেডি একবারে বদ্ধপরিকর। এ মেয়েকে দেশে নিতেই হবে।
ওর মায়ের সাথে বৌএর প্রায়ই কথা হয়। মেয়ে খুশী আছে বলে তারা খুশী। যাবার ব্যাপারে জোর করে না। কিন্তু মাসীর দরদ যে সব সময় বেশী। মাসী তাকে ঈদের আগে নিয়েই ছাড়বে।
১৬ তারিখ পর্যন্ত বাস বন্ধ। তবু সে নাকি সিএনজিতে করে নিয়ে যাবে। হাইওয়েতে সিএনজি রিস্কি। বুঝালাম। কিন্তু তারা শোনে না।
প্রস্তাব দিলাম গাড়ি দিয়ে দিয়ে আসি। গুগুলমিঞার মতে তিন ঘন্টার পথ, একশ কিমি।
এ আর এমন কি!
বৌ রাজী না।

চেম্বারতো একরকম বন্ধ। টাকা নাই তো পুরুষের কদর নাই আর আমার অবস্থা তো বলার মত না।
সাহস করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেললাম-রাইড শেয়ারিং আবশ্যক। অনেকদিন কক্সবাজার যাই না।
তাই হয় ঢাকা কক্সবাজার নয় ঢাকা খুলনা। (এক বন্ধুর চিংড়ি চাষের ছবি দেখার পর থেকে চিংড়ির জন্য পেটে একটা চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে!) তেল খরচের সাথে একহাজার টাকা অতিরিক্ত দিলেই মিলবে চৌত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ড্রাইভার ও গাড়ি।
পোষ্ট করার আগে বৌকে ফেসবুকে ব্লক করে রেখেছি। ডাক্তারের স্ত্রী হতে এসে শেষে..
ড্রাক্তারনী হতে চেয়ে শেষে ড্রাইভারনী বলে গন্য হলাম…
একদম পুতে ফেলবে।
প্রথম ফোন পেলাম সিলেটী, ম্যাসেন্জারে।
“ও ডাইবর বিসানাকান্দি যাইবা নিবা?”
বিছানাকান্দি সুন্দর তবে একবার গেলে আবর যাবার কিছু নেই। রাস্তাও খারাপ।
আর এখন তো শুকনা সিজন পানি নাই।
“স্যার, বিছানাকান্দি যাই কিথা করবেন!
এখুন তো পানি শুকনায়! বরং খক্সবাজার ছলেন নয় খুলনা, সুন্দর বন।
কিছুক্ষন কোন কথা নাই।
“ও ডাইবর সব খিতা কও!তুমি কি আমারলগে মস্করা করো। তুমি আমরা চিনছনা ইগো। আমি টাউয়ার হ্যামলেট থিকা বলতে আছি। ব্রিটিশ সরখারের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের খর্মখর্তা।
তোমারে গুষ্টিসহ এইক্ষনে জেলে দিয়া দিতে ফারি।
আমার শশুড় বাড়ি বিছানাকান্দি, ইৃযারপোর্ট থাকি সরাসরি যাব, সে আমারে কক্সবাজার নিতে চায়!”

বুঝলাম ভেজালে পড়েছি। ফোন কেটে ব্লক মেরে দিলাম। সিলেটিদের ভয় পাই। হয় সাইফুর রহমান সাহেবের আত্মীয় নয় কিবরীয়া সাহেবের হবে। দুজনেই অর্থের! আমার অনর্থের সমুহ সম্ভবনা।

বিজ্ঞাপন টা চেন্জ করে শুধু কক্সবাজার আর খুলনা করলাম।
বেশ কিছুক্ষন পর আবার কল এল।
“ভাইয়া আপনি কি খালি আছেন?
মহিলার গলা তাও আবার মধু ঝড়া।
“খালি মানে আমি তো খালি খালি, একেবারে খালি। দাদার বাড়ি মধু খালি, নানার বাড়ি মহেষ খালি। থাকি এখন মহা খালি। আমারচেয়ে বেশী খালি আর কে?”
“বাহ ভাইয়া আপনি তো চমৎকার করে কথা বলেন! একসাথে গেলে কথা বলে সময়টা ভাল কাটবে!”
“অবশ্যই তা কোথায় যাবেন?”
“আপনার ভাইএর কাছে। আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে। তার পোস্টিং কক্সবাজার। সে ছুটি পাবে না। মন খারাপ। ভাবলাম আমি গিয়ে সারপ্রাইজ দিবো!”
“কয়জন যাবেন?”
“কয়জন না। আমি একা!”
কানের মধ্যে কয়েকবার প্রতিধ্বনী শুনলাম। একা একা একা একা…

আর তিন দিন পর যাত্রার ডেট। গাড়িতে ডাক্তারের লোগো আছে পুলিশে ভয় নাই।
বৌকে খুব গম্ভীর গলায় বললাম, অফিস থেকে করনা সংক্রান্ত জরুরী কাজে ঢাকার বাইরে পাঠাচ্ছে।
ঈদের আগে তোমাদের রেখে..(চোখ ছলছল করে কান্নায় কন্ঠ বন্ধ করে বাক্য শেষ করলাম না!)
বৌ দুই চোখ গোল করে কপাল কুচকে বললো,”তোমাকে পাঠাবে? তুমি করোনার কি বোঝ? “
“রিসার্চের কাজ, মাস্ক পরাকে জনপ্রিয়করন প্রকল্প।”
“তুমি নিজেই তো মাস্ক পর না!”
“এ জন্যই আমাকে নিয়েছে। আমাকে দিয়েই হবে। আমিই ভাল বুঝবো কেন মানুষ মাস্ক পরে না!”

সকাল সাতটায় পুলিশ প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। ওখান থেকে তুলবো। ফেসবুক প্রফাইল লক করা তবে প্রফাইল পিকচার থেকে দেখেছি। খুবই সুন্দরী।
পুলিশ প্লাজা পার হয়ে ডানে মোড় নিতেই দেখি দাড়িয়ে আছে। তিনটা বড়বড় স্যুটকেস। গোলাপি ট্রলি হাতে ধরে। একেবারে এমিরাটসএর এয়ারহোসটেসের মত।
গাড়ি পার্ক করে নামতেই এগিয়ে এল। “ভাইয়া একদম কাটায় কাটায় রাইট টাাইম। নিন লাগেজ তুলুন দেরী হয়ে যাবে।”
ছবির চেয়েই মেয়েটা সুন্দর!
লাগেজ তুলতেই মোবাইল নিয়ে বলল, “আসেন একটা সেলফি তুলি” এতটা ক্লোজআপে দাড়িয়ে তুলবে ভাবি নি। বান্ধবী বা পথের সঙ্গী সাহসী হয় ভাগ্যবানের।এতদিনে তবে কি আমার ভাগ্য খুললো!
গাড়ি চলতে শুরু করলো!
এতো বড় সুন্দরীকে পাশে বসিয়ে রাস্তায় চোখ রাখা মূনী ঋষীর পক্ষেও সম্ভব না। নিজের সংযম দেখে নিজের উপর গর্ব ফিল হচ্ছে।
মিয়েটার নাম নিনা। মনে হয় সেলফির বাতিক আছে। মোবাই সেলফিস্টিকে লাগানোই আছে। খচাখচ সেরফি খিচছে।
“নিন মেন্টোজ খান!”
হাত হাত লাগলো। জীবনে বৌ বাদে আর কম মেয়েরই হাতে হাত লেগেছে। সেগুলো শক্ত হাত এরটা একেবারে স্পন্জ। হাতের ওই জায়গাটা থেকে যেন খুসবু বের হতে লাগলো।
“ভাবি কি হাউজ ওয়াইফ?”
দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। “ওই রাস্তায় হাটি নি। পন করেছিলাম শ্রীদেবীর মত মেয়ে না পেলে বিয়ে করবো না!’
“পান নি?””
“দুইবার পেয়েছি। প্রথমবার তার পন ছিল বনি কাপুরের মত ছেলে না পেলে বিয়ে করবে না!”
“দ্বিতীয়বার?”
“সে বিবাহিত। বরকে সার্প্রাইজ দিতে কক্সবাজার যাচ্ছে।”
“ওমা আপনি যে কি রহস্য করে কথা বলেন!”
আড়চোখে দেখলাম, তার গোলাপিগাল আরও গোলাপী হয়েছে।
“গাড়িতে তেল আছে?”
“আছে কক্সবাজার গিয়ে নিলেই হবে।”
নারায়নগঞ্জে আসতেই বলল, “নাস্তা করে আসি নি। খিদা পেয়েছে। আমার চেনা একটা রেস্টুরেন্ট আছে। আসুন খেয়ে নেই।”
“চলুন!”

নামলাম। খুব আহামরি কিছু না।
“বিল কিন্ত আমি দেব।” নিনা বলল।
পরোটা মুরগীর স্যুপে ডুবিয়ে খেলাম। তারপর চা নিয়ে বসলাম।
হঠাৎ খেয়াল করলাম উল্টাদিকের টেবিলে একটা ছেলে বসে বারবার নিনার দিকে তাকাচ্ছে।
খুব রাগ হচ্ছিল। ছেলেরা এত ইতর হয়ে গেছে। দেখতে পাচ্ছে সাথে আমি আছি!বয়স কম থাকলে কলার ধরতাম।
বললাম, “জলেন উঠি।”
সেও ছেলেটার দিকে তাকালো। তারপর বলল, “চলো!”
ঠিক শুনলাম! যাক ভাল।
গাড়িতে উঠতেই নিনা বলল, “স্টার্ট দিয়েন না। একটা কথা আছে। ভাল করে শুনুন।”
প্রথম তুমির পর তুমি আপনির একটু মিক্সআপ হতেই পারে।
বললাম, বল, শুনছি!
“আপনি যে শিখা আপার হাজবেন্ড, আমি কিন্তু জানি।আমার খালাত বোন শিখা আপার সাথে একই স্কুলে পড়ায়!”
কেন যে অবিবাহিত বলতে গেলাম! “আপা আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। আপনার সব কথা রেকর্ড করেছি। ছবিও আছে। ওই যে ছেলেটা দেখলেন ওই আমার হাজবেন্ড। পনের দিন হল বিয়ে হয়েছে। হানিমুনে যাব। রিসোর্ট ঠিক আছে কিন্তু যাবার রাস্তা বন্ধ।
আপনার গাড়িতে ডাক্তারের সাইন আছে সমস্যা হবে না। মাকসুদ ভাল গাড়ি চালায়।”
এসময় ওই ছেলেটা এসে দরজা খুলে দাড়ালো।
“আপনি নেমে একটা ট্যাক্সি নিয়ে বাসায় যান। ট্যাক্সি ভাড়ার টাকা, তেলের টাকা আর গাড়ির একহাজার ফিরে এসে দিয়ে দেব।
দোয়া রাখবেন।
কিছু মনে করবেন না।”
সিট ঘষে ঘষে গাড়ি থেকে নামলাম।

“আর বধূয়া কক্সবাজার যায় আমার গাড়ি নিয়া..”

এসি টেক্সিক্যাব নিলাম। মাথা ঠান্ডা থাকা দরকার।
বৌকে কেঁদে কেঁদে বলতে হবে তো – তোমার কথা মনে পড়তেই..

Leave a comment

May 8, 2021 · 7:02 pm

টুথ পেস্টে সাবধানতা

বাবুল সুপ্রিয় রাতে অনেক টিপে টিপে পেস্টের টিউব থেকে কোন রকমে একটু পেস্ট ম্যানেজ করে ব্রাশ করলো।
চিৎকার করে  স্ত্রীকে প্রায় বলেই ফেলেছিল- নতুন পেস্ট কি আছে!
নিজেকে থামালো। যদিও পেস্ট কিনে আনাটা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কিন্তু ওর আমারিকা প্রবাসী স্বমন্ধীর কারনে কিছু পেস্ট শাম্পুর স্টক বৌএর আলমাড়িতে গুপ্ত ধনের মত লুকানো আছে।
বৌএর মুখের দিকে চোখ পড়তেই বুঝে গেল, বৌএর মেজাজ ভাল না। কথা না বাড়ানোই ভাল।
সুপ্রিয় বিছানায় গা লাগাতেই নাক ডাকতে থাকলো।
সায়নী কোলবালিশটা কানের উপর চেপে ধরলো। এমনিতেই শরীর ভাল না, রাতে একটু ঘুম না হলে কাল কি করে স্কুলে যাবে বুঝতে পারছে না।
সায়ন্তিকাকে ফোন করেছিল রিকুয়েস্ট করতে যেন তার হয়ে কালকের ক্লাস টা নিয়ে নেয়!
ফোন করে শুনলো সায়ন্তিকা অলরেডি ছুটি নিয়ে বসে আছে!
নাহ নাক ডাকা কমছে না।
বদ হজমের জন্য পেট টা কেমন ব্যাথা করছে!
উঠে বাথরুমে গেল।
সুপ্রিয় তখন স্বপ্নে সানি লিওন কে নিয়ে ছোঁয়া ছুঁয়ি খেলছে।  ছুঁতে পারলে কিছু একটা প্রমিজ করেছিল। একটুর জন্য ফসকে গেল।
আচমকা শব্দে ঘুম ভেঙে মেজাজটা খারপ হল! সানি লিওনকে স্বপ্নে পাওয়া এমনিতেই ডিফিকাল্ট,  তাও আজকে যা পাওয়া গেল বৌএর আলমাড়ি খোলার ক্যাচ ক্যাচ শব্দে শেষ।
চোখ খুলে আড় চোখে দেখেই চোখ বন্ধ করলো। যদি কোন ভাবে স্বপ্নটায় আবার ফেরা যায়!

সকালে উঠে দেখল সায়নী গভীর ভাবে ঘুমাচ্ছে।
এমনিতে সুপ্রিয় আরলী বের হয়ে যায়। সায়নি উঠে আধপোড়া পাউরুটি আর কুসুম ভাঙা ডিম পোচ করে দেয়!
আজ নিজে নিজেকে সারপ্রাইজ দেবে ঠিক করলো। অফিসে গিয়ে খাসির নেহারি দিয়ে নান ডুবিয়ে খাবে।
সায়নি উঠলে সারপ্রাইজ মাটি।
শব্দ না করে বাথরুমে গেল। ব্রাশ করতে গিয়ে রাতের কথা মনে পড়লো কিন্তু বাসি মুখে কিভাবে বাইরে যায়!
অবাক হয়ে দেখল সেলফের উপর একটা টিউব রাখা আছে। ম্মার্ট দেখতে।
একটু অন্যরকম দেখতে। আমেরিকান ব্যাপার সবার চেয়ে আলাদা।
পেস্টের মুখেও নজল লাগানো।
ব্রাশ নিয়ে চাপ দিতেই এক গাদা বের হল।
আমেরিকান পেস্টে কি যে ফ্লেবার দেয় মুখে দিলেই অন্য রকম স্বাদ।
তবে এটা একেবারে অন্যরকম। কেমন গ্রিজের মত টেস্ট হালকা তিতা -মিষ্টি!

কি মনে করে একটা কাগজে থ্যাংক ইউ লিখে মশারীর উপর রেখে রেডি হয়ে বের হয়ে গেল।

সায়নী আর একটু পরেই ঘুম থেকে উঠলো। সুপ্রিয়, সুপ্রিয় দুবার ডেকেও সাড়া পেল না।
মশারীর উপর কাগজট চোখে পড়লো। কিন্তু কি কারনে থ্যাংকু দিল বুঝতে পাড়লো না।
বাথরুমে যেয়েই টিউবটায় চোখ পড়লো। কালকে রাতেই খুলেছে নতুন টিউব। অন্তরার ছোট বোন ডাক্তার, তার কাছ থেকে নাম নিয়ে বিদেশ থেকে আনিয়েছে। । খুব নাকি ভাল কাজ করে। রাতে লাগিয়ে শুয়েছিল। এখন ব্যাথা কম!
সামান্য একটু লাগিয়েছে কিন্ত এতটা কমলো কিভাবে!
থ্যাংকু র কথা মনে পড়লো। তবে কি সুপ্রিয়রও!

সুপ্রিয় তখন দুটুকরো নান মাত্র মুখে চালান করেছে, সায়নির ফোন!
“তোমার সমস্যা হচ্ছে বলনি কেন?”
“না না কিসের সমস্যা!”
“কেন পাইলসের! একটু লাগালেই হয়। বাইরের জিনিষ এতো গুলো লাগে!..

সুপ্রিয়ে তখন বেসিনে ওয়াক ওয়াক করছে। সায়নি শুনতে পায় নি। ফোন কেটে গিয়েছিল ভাগ্যিস্।

Leave a comment

May 6, 2021 · 1:02 am

কবিতা কনিকা -২১২

একসময়,সবসময় আমায় ভাবতে
এখন কিভাবে এভাবে ভুলে থাকো!
হয় সেটা মিথ্যা ছিল,
নয় এখন সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকো।

Leave a comment

May 2, 2021 · 11:00 pm

ভালবাসা হতে পারতো

আমাদের দেখা হতে পারতো জোনাক জ্বলা রাতে
কবিতা পড়তে পড়তে কোন উপকুলে, একসাথে।

আমাদের ভালবাসা হতে পারতো ত্রিশ
বছর আগে
আমার বাইস, তোমার পনেরো পেরিয়েছে সে মাঘে!
খুব বেশী কম হয়ে গেল?
কি কথা বল না কেন, হ্যালো!

কিন্তু না। আমাদের দেখা তখনো হয় নাই
একটুও বাড়িয়ে বলবো না।  সে ভয় নাই।

আমাদের দেখা হতে পারতো তোমার যখন কুড়ি
আমার তখন চাকুরী-খোঁজে বিস্তর ঘোরাঘুরি!
তারপর বিসিএস দিয়ে  পোস্টিং হল থানায়
তখনও দেখা হয় নি ভাগ্যের তাল-বাহানায়।
প্রথম দেখা হয়েছিল  আমার যখন ত্রিশ,
তুমি তখন উড়ালকেশী মিষ্টি চব্বিশ।
আত্ম ভোলা চোখ, বেহিসাবী কোকড়ানো চুল
চিবুকের উপর একখানি তিলে চিত্ত মশগুল।
অথচ কথা হয় নাই কোন
বলতে পারতাম, এই মেয়ে শোন!
তুমিই সেই মেয়ে ঠিক যেমনটি চাই।
বলি নাই বা লজ্জায় বলতে পারি নাই।
একবার চেখ তুলেছিলে দেখেছিলে, এক পলক
তুমি কি  দেখ নাই আমার চোখে মুগ্ধতার সে ঝলক?
আমার চেয়ে ভাল পাত্র ছিল তোমার পাণীপ্রার্থি
তাই তোমার কানে পৌছায় নি আমার করুন আর্তি।

তারপর আমাদের দেখা হয়েছিল আট বছর পর
মহা সুখে তখন তুমি করছো অন্য একজনের ঘর।
বলেছিলে- এ অবস্থা কেন,  আপনি কি সন্নাসী,
চুল দাড়ি দেখে মনে হয় বুঝি ঘুরে আসলেন কাশী!
সত্যিটা বলা হয় নাই, তোমার বিচ্ছেদে
অপেক্ষায় কেটেছে জীবন অদ্ভুত এক খেদে।
তোমার হাতে দিলাম আমার হাজার কবিতার খাতা
একটাই কপি, পাঠকও একজনই, তাকে লেখা প্রতি পাতা।

তোমার ভালবাসা হয় নাই এ তোমার অপরাগতা
আমার কেটেছে তোমায় ভালবেসে এইটাই শেষ কথা।

আমার যা বলার, বলা আছে কবিতায়
তোমার তো কিছু বলারই নেই,  বিদায় প্রিয় বিদায়।

ভালবাসা হতে পারতো দু তরফা।  হয় নি ভাগ্য দোষে
একতরফা ভালবাসা তড়পায় নিস্ফল আক্রোশে।

Leave a comment

May 2, 2021 · 12:17 am

কবিতা কনিকা -২১৩

কাকে বেশী চাইছিলাম জানি না,
গোলাপী চাঁদ ঢেকে বৃষ্টি এল।
তুমি আসো নি তাই ভিজি নি
মন এমনিতেই ভেজা ছিল।

Leave a comment

April 29, 2021 · 12:11 am

কবিতা কনিকা-২১১

কসম ওই ঠোট যে ছুঁবে, জ্বলবে,
যে আগুনে জ্বলি নিশি দিন
তুমি কারও হলে, সে শেষ হবে,
যদি না সে হয় হৃদয়হীন।

Leave a comment

April 28, 2021 · 7:58 pm

পাথর ও ঝড়না

ঝড়না আর পাথর, দুইই এক সাথে থাকে।
ঝড়না কাঁদে,পাথর নিজেকে বড় কাঠিন্যে ঢাকে।
ঝড়না ভিজিয়ে যায়, পাথর আগুন পুষে রাখে।
নিজেদের মাঝে কমই কথা হয় সহযাত্রার ফাকে।
সাগরে যেয়ে পাথর হয় বালু, ঝড়না হয় নোনা
ব্যাথার কারন কারওই আর সেভাবে হয় না  শোনা।

Leave a comment

April 25, 2021 · 9:19 am

ভাল হয়ে যাব

সেই ছোটবেলা থেকে ভাবছি,
কটা দিন যাক নিজেকে শুধরোবো,
সবার চাওয়ার মত আমি ভাল হয়ে যাব।

দাদি বলতেন, একটা মাত্র নাতি,
তুই হয়ে থাকবি নয়নের মনি
তা না! শয়তানী সারাক্ষনই।

মা বলতেন, আজান হয়েছে কখন!
বাইরে কি?বাড়ি যাও তাড়াতাড়ি,
তারপর পিঠে হাত পাখার বারি।

বাবা বলতেন পড়াশুনা তো করনা
হবে কারও দারোয়ান নয় ড্রাইভার
নিস্পলক দেখেছি টিভিতে ম্যাকহাইভার!

দুচারটা চিঠি যে লিখিনি তাও না।
জবাব পেয়েছি, লেখা পড়া যায় না,
চেহাড়াটা দেখ যদি সামন থাকে আয়না।

শিক্ষক বলেন, মাথার কি কিছু নেই!
এত বোঝালাম বোঝ না ক্যালকুলাস
আল্লাহ জানে কি ভাবে করবে পাশ!

বৌ বলে নিজে থেকে কি করেছো?
দেখ মিস্টার রহমান, আলী, অনুপোম
তিন টা বাড়ি, কানাডায় সেকেন্ড হোম!

প্রেমিকা বলে – শুধু মিষ্টি মিষ্টি কথা
করতে পারবেন বিদ্রোহ?
আসলে এ আপনার ভালবাসা নয় মোহ!

বাচ্চারা বলে- আমাদের যা খারাপ
কারন তার তোমার খারাপ জিন,
চেষ্টা করলেও ভাল করবো না কোন দিন।

এখনও ভাবছি ভাল হয়ে যাব
বয়স যা হল তা কি নেহায়েত কম
জানি কি হয় শেষ তক, জানে খোদা জানে যম!

Leave a comment

April 21, 2021 · 3:29 pm

জীবন

নয়টা পাঁচটা অফিসের মত
ঢিলা ঢালা ভালবাসা- পতি-পত্নি-ব্রত।
সপ্তাহান্তে দীর্ঘ নিদ্রা, বিশ্রাম, আরাম।
মাসান্তে আদর সোহাগ, রাগ।
বছরান্তে সন্তান, অভিযান, অভিমান।

সাতান্নতে রিটায়ারমেন্ট দেহের,
মন বায়োডাটা হাতে তখনও
ভালবাসা খুঁজছে কোন।

Leave a comment

April 20, 2021 · 12:52 am

সেকেন্ড প্লান

“বস,তেল-টেল তো ঠিক মত দেন-টেন তো?” এদিকে কয়েকটা রাস্তার লাইট নষ্ট। ঘুটঘুটে অন্ধকার।
পিছনে কোন গাড়ির ডিপারের আলো পড়ে কবিরের হাতে মালটা চকচক করে।
“একটু যত্ন আত্তি তো লাগেই।” কবিরের কন্ঠ বেশ ভারী মনে হয়।
মহাখালী পার হয়ে ওদের মাইক্রোবাস শিকার ধরার জন্য অপেক্ষা করছে।
বোতলটা ঘুরে ফিরে ময়নার কাছে আসলো।
কাজে থাকার সময় কারো এক ঢোকের বেশী খাবার নিয়োম নেই। ময়না বোতল উপুড় করলো ঠিকই কিন্তু ঠোঁট চেপে রাখলো। একটুও খেলো না। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। আজকের রাত ময়নার জন্য খুবই তাৎপর্যময়।
বুলু ড্রাইভিং সিটে বসেছে। পাশে ধলা।
মাঝখানের রোতে কবির আর একেবার পিছনে ময়না। তারসাথে জাকি।

ধলাকে কয়েকদিন থেকেই কবিরের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করছিল ময়না। কাজ সব করে ওরা আর সব নিয়ে যায় কবির।
পুরো পরিকল্পনাটা  বলে নি শুধু বলেছে আজ কিছু একটা হবে।  বুলু কবিরের খাস লোক।  ওকে কিছু বলে নি। ওর ব্যাপারে অন্য পরিকল্পনা আছে।

জাকিকেও বলে রেখেছে।  আজকের পর   তারও উন্নতি হবে। জাকি শুধু সসাথে সাথেই ঘোরে। এখন পর্যন্ক কোন কাজের দায়িত্ব পায় নি। আজকে জাকিকে দিয়ে একটা কাজ করাবে মনে মনে ঠিক করে রেখেছে।
জাকি তার ভক্ত। সেই ওকে তুলে এনেছে।

মোবাইলে ফোন আসলো। শিকার গুলশান থেকে রওনা হয়েছে। রাস্তা খালি পাঁচ সাত মিনিটের বেশী লাগবে না। সাদা রংএর এলিয়ন। একুশ সিরিয়ালের গাড়ি, বাইস পঁচিশ।
সবাই ডান দিকে খেয়াল রাখছে।

মনে হয় সিগনাল ছাড়লো। একসাথে অনেকগুলো গাড়ি ডানে মোড় নিয়ে আসলো।
“ঐ যে, ঐযে! নোয়াটার পিছনে!” জাকির ই প্রথম চোখে পড়লো।  সবাই একবার তাকিয়ে নম্বর মিলিয়ে দিল।
গাড়ি স্টার্টএই ছিল। বুলু বাম দিক থেকে একটানে ডানে চলে আসলো। দুটো গাড়ি প্রায় লাগিয়ে দিয়েছিল, ব্রেক করে থামালো।
বুলু অশ্রাব্য গালিগালাজ করে এলিয়নটার পিছনে চলে এল। কাকলী সিগনাল  পিছু পিছু পেড়িয়ে যাচ্ছিল ট্রাফিক এসে সিগনাল দিয়ে ওদের গাড়িটা থামালো। পাখি উড়ে যাবে।
কবির বুলুর হাতে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট দেয়।
বুলু কাঁচ নামিয়ে ডাকে, “বস, খুব জরুরী।”
আস্তে করে টাকাটা পিকেটে ঢুকিয়ে সামনের রাস্তা পরিস্কার করে দেয়।
জোড়ে এক্সিরেটার বারি দিয়ে আবার এলিয়নের পিছনে পৌছে যায় বুলু।

রেডিসনের মোড় পার হতেই এলিয়নকে ওভারটেক করে হঠাৎ পানে স্টিয়ারিং ঘোরায়।
ব্রেক করেও নিজেকে বাঁচাতে পারে না। ডান কোনায় লেগে যায়।

“শালা কি মাল খেয়ে গাড়ি চালাস!”
ধলা গলা বার করে হাতের ইশারায় থামতে বলে।
বাম ঘেসে দুটো গাড়ি থামে। অন্য গাড়িগুলো যে যার মত যাচ্ছে,ভ্রক্ষেপ নাই।
এলিয়েন থেকে মালিক নেমে ক্ষয় ক্ষতি দেখছিল।
ধলা আর বুলু একটা ওর নাকের কাছে রুমাল ধরে একটানে মাইক্রোবাসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলে।
কবির জাকি মিলে ঠেসে ধরে।
ময়না গিয়ে এলিয়নের ড্রাইভিং সিটে বসে তারপর মাইক্রোবাসকে ফলো করে তিনশ ফুটের দিকে যায়।

একটা নির্জন জায়গায় মাইক্রোবাস থামে।  ময়না ঠিক পিছনে এলিয়ন থামায়।
ড্রাইভার হাত পা মুখ সব বাঁধা। মাইক্রোবাসের ফ্লোরে পড়ে আছে।
সবাই মিলে
এলিয়নের প্রতি ইঞ্চি খুঁজে বার করে। পিছনে একটা ব্রীফকেস। স্ক্রুপাইভার ঢুকিয়ে চারি দিতেই খুলে যায়। ভিতরে পাঁচশো টাকার নোটের চল্লিশটা বান্ডেল। বিশ লাখ টাকা।
“সব ঠিক আছে।” ময়না জানায়।

ড্রাইভার নড়াচড়া করছে। ক্লোরফর্মের এফেক্ট কমে এসেছে।
“ময়না যা, ওইটারে পাঠায় দে।” কবির চিৎকার করে ওঠে।
“আমি না ওস্তাদ। আজকে জাকি র হাতে খড়ি হবে। কি কন?”
কবির মাথা নাড়ে।
ময়না একটা বড় ছুড়ি জাকির গাতে দেয়।
“আজকে না। আরেকদিন। ” জাকির হাত কাঁপছে।
“চুপ। হাতে নে। আয়।”

দুইবছর আগে ময়নারও এভাবে হাতে খড়ি হয়েছিল কবিরের হাতে।

“ডাবায় টান দে।” ফিনকি দিয়ে রক্ত এসে মুখে লাগলো।
থু:থু : করে একদলা থুতু ফেলে। ভাল সামলে নিয়েছে জাকি। ময়না ভাবে, ছেলেটার এ লাইনে ভবিষ্যত ভাল।
ধাক্কা দিয়ে বডি ডোবায় ফেলে দেয়।

বুলুকে এলিয়ন নিয়ে ধোলাইখাল পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাতের মধ্যেই গাড়িটা পার্টস হয়ে যাবে।
বাকিরা মাক্রোতে ওঠে। কবির ময়নাকে  পনের হাজার টাকা দেয়।
“ওস্তাদ এত কম। আরো কিছু দ্যান। বাসার টিন বদলাবো।”
“এবার এটাই রাখ। সোর্সকে কত দিতে হকে জানোস?
তারপর কত জায়গায় দেয়া লাগে…”
এটা কবিরের শেষ সুযোগ ছিল। এর আগেও টাকার কথা বললে, এই একই কথা বলেছে।
ধলাকে দশ আর জাকিকে দুই হাজার দিল। ওরা কোন উচ্চবাচ্চ করলো না।

ময়না গাড়ি চালাচ্ছিল। অনেক দূর থেকে ইউ টার্ন নিয়ে ঠিক এ জায়গাটার উল্টা দিকে গাড়ি থামাল।
“কি হল?” কবির হাক দেয়।

“ইন্জিনের ট্রাবল মনে হয়!” গাড়ি থেকে নেমে ইন্জিনের ডালা খুললো। ছুড়িটা খুব সাবধানে লুকিয়ে এনেছে। কবির এখানে এলেই..
দরজা খোলার শব্দ হল। কবির রেডি।  না। ডান দিক দিয়ে ধলা আসছে।
ময়না চোখ দিয়ে কি একটা ইশারা করছিল এসময় গলার কাছে একটা ধাতব স্পর্শ পেল।
“বেইমান! ছুড়ি ফেল!”
ময়না ছুড়ি ফেলে দিল। “কি ওস্তাদ কি হইসে? “
ময়না স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা কররও পাড়ছে না।
“নিজেকে খুব চালাক ভাবিস!
কোথায় পড়ে থাকতি, কোথা থেকে কুলে এনেছি কিছুই মনে রাখিস নাই!”
“এ সব কি বলেন! আপনি আমার ওস্তাদ।
আপনার কথা শুনি নাই কোন দিন এমন হইসে?”
“কিরে কথা কস না কেন ধলা? বস হবে, তোদের অনেক টাকা দেবে কস না কেন?”
“আজকেই কিছু একটা করবে, ” হাহাহা ধলা দাঁত বের করে হাসে।
“আমাকেও বলেছে কিছু একটা করবে।” জাকি বলে।”

“ওস্তাদ ওরা মিথ্যা বলছে!
আমার ভুল হইছে ওস্তাদ।  মাপ করে দেন।”

কবির ট্রিগার টিপলো।
ময়না দুবার কেঁপে উঠেই থেমে গেল।

ময়নার পকেট থেকে টাকা আর যা ছিল সব হাতে নিল।
“ভাল করে ধর। বেইমানরে ক্ষমা করলে নিজেরই বিপদ। দ্বিতীয় সুযোগ কখনও দিবি না।  “লাশটা পথের পাশে ফেলতে ফেলতে কবির বলল।
ময়নার টাকাটা দুজনকে সমান ভাগ করে দেয়।  “এটা তোদের বিস্বস্ততার পুরস্কার। কোনা কুনি হাটতে থাক দুজন।বসুন্ধারার দেয়াল টপকায় ভিতরে ঢুকবি তারপর রিক্সা নিয়ে বাড়ি যাবি। একসপ্তাহ পর পরের কেসের জন্য ফোন দিবো।”

কবির গাড়িতে ওঠে, রাত বাড়ছে। বেশী রাতে বাইরে থাকা ঠিক না। স্টার্ট দিয়ে চলতে শুরু করে। কেমন হিসহিস শব্দ হচ্ছে।
পচন্ড শব্দে গাড়িতে আগুন ধরে গেল।

ময়নার ফার্স্ট প্লানটা ফসকালেও সেকেন্ড প্লানটা সার্থক হল।

Leave a comment

April 17, 2021 · 3:43 pm

নতুন কবর

কবরকে ভেঙে নতুন কবরের জায়গা করা হয়েছে
তাতে কেন মন খারাপ করছো?
মালির অবহেলায় ঘাষ তাকে কবেই ঢেকেছে!
এপটাফটা ভেঙে পড়েছিল পাশের কবরে,
বহুদিন।
কামিনি গাছটার মরা কটা ডাল কি আর ছায়া দিতো?
তুমিই বা আর কতটুকু আমার কথা ভাবতে?

তারচেয়ে নতুন কেউ এলে, আবার কিছুদিন ফুলের গন্ধ পাবো,
আবার কেউ দোয়া করতে দাড়াবে
কারও চোখের জলে ভিজবে মাটি।

পরিত্যাক্ত প্রাসাদেই বসে চামচিকা ইঁদুরের হাট
আর পরিত্যাক্ত কবরে….
ভাঙা এপিটাফ, ইট পাথর আর পাজরের ধংসাবশেষ হাড়!

Leave a comment

April 16, 2021 · 4:29 pm

কবিতা কনিকা -২০৮

আজলা আজলা জল তুলেও
সাগরে নীল খুঁজে পাবে না
তেমনি তোমার দেয়া কষ্ট গুলো
অবহেলা যা হৃদয় ছুঁলো
স্মৃতির পাতার ধূলা ঝেড়ে
অনুবিক্ষনে নেড়ে-চেড়ে
কোথাও মিল খুঁজে পাবেনা।

Leave a comment

April 15, 2021 · 11:56 am

বর্ষ বরন

পহেলা বৈশাখ অথচ এসো হে বৈশাখ গান হবে না তা কি ঠিক?

যদিও বৈশাখ আমার মত জামাইএর মত। এসো না বললেও শ্বশুরবাড়ি যাই। তবু একটু সাধলে ভাল।
জ্বালায় পোড়ায় দিয়ে যায়, আবার কাল বৈশাখীর দাপটও দেখায়।
না ডেকে আনলে অনেক বেশী তছনছ করবে।

সেহরীর পরপর ছেলের গিটার নিয়ে ছাদের উপরে সিড়ির ছাদে উঠলাম। গিটারে টুং টাং করে গান ধরতে গেলাম! কিন্তু বৈশাখ কোন দিক থেকে আসবে, সেদিকে তাকানো দরকার!

পূর্ব দিকে তাকালাম কারন সেদিকে সূর্য ওঠে, আসলে ওই দিক থেকেই আসতে হবে।
টুংটাং টুংটাং টিউনিং হয়ে গেল।
ই মেজরে ধরলাম।
যেহেতু সমবেত সংগীত সম্ভব নয় গলায় যতটা জোর এনে গাওয় যায়।
এসো হে বৈশাখ এসো এসো..
বৈ শাখের সাথে বই মেলার গভীর যোগাযোগ, এবার তো বই মেলাও শেষ।
মুমূর্ষু রে দাও উড়ায়ে…
জোর বাতাস এল। লুঙ্গিটা উড়ে যাচ্ছিল, অনেক কষ্টে চেপে রাখলাম…
দূর হয়ে যাক যাক যাক….

ছাদে মানুষের কথা বার্তা শোনা গেল। কি ব্যাপার এ অসময়ে!
কেয়ারটেকার দারোয়ান নিয়ে বৌ ছাদে এসেছে।
আসে পাশের ভাবিরা নাকি ফোনে খবর দিয়েছে, “আপানার ছাদে একটা পাগল উঠে পড়েছে!”

অগ্নি স্নানে শূচি হোক ধরা..
আর ধরার কথা বাদ। ধরাকে সরা জ্ঞান করা আমার বৌএর অগ্নি দৃষ্টিতে আপাতত পুড়ে যাচ্ছি!

Leave a comment

April 14, 2021 · 2:36 pm

কবিতা কনিকা-২০৮

কাপড় সড়িয়ে দেখলো কোন দাগ নেই
কথার ছুড়ির যেন কত দাগ থাকে!
তবু তোমার উপর কোন রাগ নেই
সব জীবনেই কান্নার কিছু ভাগ থাকে।

Leave a comment

April 13, 2021 · 11:14 pm

ক্রীতদাসের ফাসি

লকডাউনের কারনে ঘোরাঘুরি বন্ধ। মুখে কিছু না বললেও মন খারাপ থাকে।

এরমধ্যে যখন বড় বোনের হাজবেন্ড শহীদভাই বললেন তিনি অফিসের কাজে দক্ষিনবঙ্গ যাচ্ছেন, তার সাথে ট্যাগ হয়ে গেলাম। পদ্মাসেতু দেখা হয় নি, সশরীরে পদ্মা সেতুর পুরা শরীর দেখা হবে।
কাশিয়ানী এলাকায় নার্সারীতে লাল কাঁঠাল, থাই আম, ভিয়েতনামী আনারের চারা পাওয়া যায়। এ সুযোগে সংগ্রহ করা যাবে।

অনেক কিছুই তো হবে কিন্তু প্রধানতম সমস্যাটা রয়েই গেল। সেটা হল বৌএর পার্মিশন। সেটা যে কত বড় সমস্যা সেটা আক্কেলমানরাই জানে।

বাসায় ফিরেই বৌকে বললাম সামনে রোজা। সংযমের মাস।
এবার বাক সংযম দিয়ে শুরু করতে হবে। আমি রোজার প্রিপারেশন নিতে আজকে দুপুর দুটা থেকে আগামিকাল দুপুর দুটা পর্যন্ত মৌন ব্রত পালন করবো।
আমি কোন কথা বলবো না। আমার সাথেও কেউ কথা বলবে না।

“এইটা আবার কি ধরনের ভড়ং?” তিনি নাক কুচকে প্রশ্ন করলেন। “তোমার নিশ্চয়ই কোন বদমতলব আছে!”
কোন জবাব দিলাম না। সংযম!সংযম!

চুপ করে বিছানায় শুয়ে মৌন থাকা প্রাকটিস করছি। ছেলে কোথা থেকে উড়ে এসে গায়ের উপর পড়লো।
অনেক কষ্টে দমের আদানপ্রদান স্বাভাবিক রেখে ঠোটে আঙ্গুল ঠেকিয়ে বললাম,”আমার কথা বলা নিয়েধ, আমার সাথেও কথা বলা নিষেধ। মৌনব্রত চলছে!”
এখনকার জেনারেশন তো মৌনব্রত বোঝার মত ধীরস্থির না। সে আরও বেশী বেশী প্রশ্ন করা শুরু করলো।
কেন মৌনব্রত, মৌনব্রত কত প্রকার,  কি, কি!
বাধ্য হয়ে বললাম, “একটা সিকরেট বলছি কাওকে বলা যাবে না। প্রমিস করো।”
সে গড প্রমিস দিল
“আমি কাল সকালে ঢাকার বাইরে যাচ্ছি। এ নিয়ে যাতে কোন গন্ডোগোল না হয় তাই চুপ চাপ থাকবো।।”
“কোথায় যাচ্ছ?”
“এটা বলা যাবে না। ‘

এরপর তার চিরাচরিত ঘ্যান ঘ্যান শুরু হল, “আমিও যাবো!”
নিজেই যাচ্ছি আরেকজনের সাথে এর মধ্যে ছেলেকে নেবার প্রশ্নই ওঠে না

নতুন উতপাৎ শুরু করলো। মাকে দেখলেই বলে, “বলি!বলি!”

সে যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে, রাতে বুঝলাম, যখন শুতে গিয়ে দেখলাম আমার মাথার বালিশ তার পাশ বালিশ হয়ে শুয়ে আছে!
“আপনার কি পাখা হইসে? এই লক ডাউনে কোন্ বান্ধবী নিয়ে ফূর্তি করতে  যাচ্ছেন?”
জীহ্বায় কামড় দিলাম। “আমার বন্ধু আছে, বান্ধবী নাই। ” মনে পড়ে গেল, মৌনব্রত চলছে। চুপ করে গেলাম।

তিনি তার মত বলে যেতে লাগলেন আমি কানে মঙ্গোলিয়্ন ল্যাঙ্গুয়েজ অপশন সেট করে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ভোরবেলা আর কেউ ওঠার আগেই রেডি হয়ে নীচে চলে গেলাম। তিনি উঠে যখন দেথবেন তখন পাখি অলরেডি গন!

রাম্তা একেবার খালি। মেয়র হানিফ ফ্লাই ওভারে ড্রাইভার ভুল করে ডেমড়ার রুটে ঢুকে গেল।  ঘুরে আসতে হল। মনটা থচখচ করছে, যাত্রার শুরুতেই বিভ্রান্তি!

মাওয়া রোডে পড়লাম। দারুন রাস্তা। একশ কিমি স্পিড অথচ ফিলস লাইক সিক্সটি!
মাওয়া পৌছে দেখলাম সাড়ে ছয়টা বাজে। একঘন্টা বিশ মিনিট লেগেছে।
লাইনে দাড়িয়ে গেলাম ফেরী আসে ফেরী যায় লাইন আগায় না।
পুলিশরা টাকা খেয়ে বেলাইনের গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়।
বার হয়ে নদীর পাড়ে দাড়ালাম। মন ভরে যায়। এজায়গায় নদীর প্রস্থ অনেক। রাজশাহী অংশের মত চর দিয়ে ভরা না।
এখান থেকে পদ্মাব্রিজ দেখা যায়। যদিও ধূলার কারনে স্পষ্ট না।
আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম যেন তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়! মানুষের কষ্ট কমে।
বেলার সাথে সাথে রোদ বাড়ছে। পায়ের নীচের বালি উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে।

গাড়ি ঘন্টায় একফুট হিসাবে  কিছুটা এগিয়েছে। ঘুষ না দেবার কারনে এটাই স্বাভাবিক গতি।
এছাড়াও আছে ভিআইপির অত্যাচার। ফেরী ঘাটে লাগলেই এরা মাঝখান দিয়ে ঢোকে। আশংকাজনক ভাবে দেশ চিপে রস খাওয়া ভিআইপি সংখ্যা বেড়েছে।
ঘড়িতে নটা বাজে। যদিও মৌনব্রতর সময় শেষ হয় নি তবু ব্রত ভেঙেই বৌকে ফোন করলাম।
ফোন কেটে দিল।
আসার সময় মাকে বলে এসেছি। বুঝলাম তিনি খবর পেয়েছেন।

শহীদভাই একটু পর পর গাড়ি থেকে নেমে প্রবৃদ্ধি পর্যবেক্ষন করে আসেন। আশার বানী শোনান।”আর এক ঘন্টার মধ্যে ফেরীতে উঠতে পারবো!”
কিন্তু পারি না। তিনি বারবার আক্ষেপ করছেন। তিন বছর ধরে এপথে যাতায়াত করেন, এমনটা কখনও হয় নি।

প্লান ছিল কাজ শেষে আজই ফিরে আসবো। যেভাবে বেলা বাড়ছে তাতে আর সম্ভব হবে না মনে হচ্ছে। রাতে থেকে আসতে হবে। শহীদভাই হোটেলে ফোন করে বুকিং দিয়ে রাখলেন।
কাপড়-চোপড় নিয়ে আসি নি। তবু থাকতে অসুবিধা কি! নার্সারীতে বেশী সময় পাওয়া যাবে।
পুলিশদের অসাধু আচরন নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এল।
বারোটার সময় পার্কিংএর লাইন থেকে ফেরীতে ওঠার লাইনে ঢোকার সুযোগ পেলাম।
বৌ এতো ক্ষনে রিং ব্যাক করলো।
“কি ফোন করসিলা কেন?”
“এমনি! সকাল থেকে ফেরী ঘাটে বসে আছি..”
“এসব ফালতু কথা শোনার সময় আমার নাই!”
“একটু পরেই আমরা ফেরীতে উঠছি। আজকে মনে হয় ফিরতে..”
লাইন কেটে দিল।
কথা না শুনতে পেলেও পাশাপাশি বসে ফোনের উত্তাপে তিনি টের পেয়ে গেলেন!
“ভাবি খুব রাগ মনে হল। বলে আসেন নি?”
“না।”
“এটা তো ঠিক করেন নি। আপনি না হয় গাড়ি নিয়ে ফেরত চলে যান। আমি স্পিড বোটে পাড় হয়ে বাসে চলে যাবো।”
বেচারা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
মনে মনে আমিও ভয় পাচ্ছি। কিন্তু তাকে বুঝতে দিলাম না। “সমস্যা নেই। “
একটা ফেরী আনলোড হল। লাইন ভেগে সব গাড়ি ছুটল সে দিকে। অনেকেই উঠে গেলে আমরা পারলাম না। পল্টুনের উপরে আরও কিছু গাড়ির সাথে রয়ে গেলাম।
একটা করে ফেরি আসে, এঘাটে লাগেনা অন্য ঘাটে চলে যায়। কেউ কেউ বলল, পল্টুনে গাড়ি দেখে নাকি তারা এ ঘাটে ফেরী ভিরাচ্ছে না।
শহীদ ভাই খুব চিন্তিত। বার বার বলছেন,  এতদিন যাতায়াত করি,  এরকম কখনও হয় নি!
নুহ নবীর গল্পটা মনে করলো।

নবী জলযানে উঠেছেন। হঠাৎ সাঙ্ঘাতিক  ঝড়। নৌকায় গনক ছিল তারা গুনে বলল,  এখানে কোন একজন ক্রীতদাস আছে যে তার প্রভুকে না বলে পালাচ্ছে। সে নৌকায় আছে। সে থাকলে এই নৌকা ঝড়ে ডুবে যাবে। তাকে জলে নিক্ষেপ করলে সব রক্ষা পাবে।
নুহু নবী দোষি সাবস্থ হলেন কারন তিনি আল্লাহকে না বলেই চলে যাচ্ছিলেন।

আমিও কি ক্রীতদাস!
হয়ত তাই। বউকে না বলে যাচ্ছিলাম তাই এত বিপদ!
পদ্মায় ঝাপ দেবো?
না তার আগেই শহীদ ভাই গাড়ি ঘুরাতে বললেন।
ঢাকা ফিরে যাচ্ছি!

ফিরে গিয়ে আজ ক্রীতদাসের ফাসি হবে।

Leave a comment

April 13, 2021 · 1:56 pm

ছোঁয়া

সাবধানে টেনে নেয়া ওড়না,
অসবধানে ছুঁয়ে গেল মুখ
এক ঝাক হাস্নাহেনা পাপড়ি
ছুঁয়ে গেল বৃষ্টির উৎসুক।

এক নিমেষের চোখাচোখি,
মুচকি হাসি-দেখা দিয়েই উধাও
আমার ফিরতি হাসি দেখেছ?
বুঝতে দাও নি তাও।

বন্ধ দরজার দুপাশে দুজন
ইচ্ছা করলে খুলতে পারি
ইচ্ছা করলে বলতে পারি
কিসের তোমার তাড়াতাড়ি
থাম,আরেকটু থেমে যাও।

বলি না। বলো না কিছুই।
হাস্নাহেনার গন্ধ, ওড়নার ছোঁয়া
এটুকু থেকে যায়, অনিচ্ছায়।
আর সব গেছে খোয়া।
জানিনা তুমি কি চাও
কতটুকু, কি পাও!

Leave a comment

April 8, 2021 · 10:12 pm

শ্রদ্ধেয় করনা

শ্রদ্ধেয় করনা ভাইরাস,
বাংলাদেশ ভ্যারিয়েন্ট, বাংলাদেশ

বিষয়- বিধিনিষেধ আরোপ

জনাব/ জনাবা
এত দ্বারা আপনাকে জানানো যাচ্ছে, বই পড়ার ইচ্ছা হলে বিদ্যালয়ে যান, বই মেলায় যাবেন না। আমার মত যাদের বই বিক্রী হয় না তারা আপনাকে দোষি সাবস্ত করে গনপিটুনী দিতে পারে!

আপনি যেহেতু বিদেশ থেকে ফরেন কারেন্সি নিয়া আসেন নাই, কোন মার্কেটের আসেপাশেও যাবেন না। রোজাতে তো দাম বাড়াবেই তারপর আছে ঈদ!

গনপরিবহনে ভুলেও উঠবেন না। গরম পড়েছে। দ্বিগুন ভাড়া,ঘামের গন্ধ, অজ্ঞান পার্টি এবং হিজারার টানাটানিতে জান শেষ হবে।

কোন সরকারী অনুষ্ঠানে ভুলেও যাবেন না। (বিস্তারিত বলে বিপদে পড়তে চাই না।) বিবাহ-শাদি,জন্মদিনে যেতে বাঁধা নাই।

ভুলেও আপনার স্বামী/ স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলবেন না।
আপনি আরএনএ ভাইরাস, ভাইরাল হলে ডি এনএ হয়ে যেতে পারেন! যা আপনার অস্তিত্বের ব্যাপারে হুমকি স্বরুপ!

আমার সাথে দেখা করার চিন্তাও করবেন না। দুর থেকে দোয়া করবেন।

আশা করি এসব বিধি নিষেধ মেনে চলবেন।
ইতি-আপনার সুস্বাস্থ্য কামনায় জনৈক ভাইরাস প্রেমী।

Leave a comment

April 8, 2021 · 9:23 pm

inner voice

when i want to do evil
someone inside me forbides
sometimes strongly or weakly
he wins or he loses.

when i want to do good
someone inside discourages
i am influenced
sometimes i won or i lose.

always to criticise me, there is you
someone is there in my inside too.

Leave a comment

April 7, 2021 · 9:29 am

স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি

বাজে তোমার ভয় কি আছে আজও?
তেলাপোকা দেখে এখনও সেই ছোটো!
তুমি কি সেই একই রকম আছো?
এখনও সকালে খুব দেরী করেই ওঠো?

ছেলেটার যেন বয়স কত হল?
দুহাজারের  পঁচিশে ফেব্রুয়ারী –
তোমার মত ফর্সা হয়েছে নিশ্চয়ই
আমার মত হউক তা কি চাইতে পারি!
সে কি কখনও আমার কথা বলে?
কোন সুখ স্মৃতি, মনে রাখার দিনের,
আমার কি একটা ছবিও আছে
যাতে চোখ ফেলে দেখে সে দুরবিনে।
আর তুমি? এখনও কেবলই উড়ছো?
আকাশে এঁকেছো প্রতিভার সাক্ষর,
জানি আমায় মনে পড়ার কথা না,
আমি তো সেকেলে, বাতিল ডাকঘর!

আমি একেবারে একই রকম আছি।
মাঝখান থেকে চুল দাড়ি পেকে সাদা।
ঘরদোর সব একই রকম আছে
ফ্লাট করতে চেয়েছে আমিই দিয়েছি বাঁধা।

দেশে এলে একটা খবর দিও
তোমাদের খুব দেখতে ইচ্ছে করে,
তোমার সেই কপালের কালো তিলটা
ছেলেরও ছিল,  আরেকটু উপরে!

পারলে একটু তাড়াতাড়ি যদি আসো-
বলা হয় নি শরীরটা ভাল যাচ্ছে না,
শ্বাসকষ্ট খুব, বুকে জমে গেছে জল,
আসলে কি ডাক্তার জানাতে চাচ্ছে না।
খুব ইচ্ছা করে তোমার হাত ধরে বসি
সারা জীবন জল নিয়ে খেলে খেলে
তবুও বুকে জলই জমে রয়ে গেল
আমায় ভালবেসে কষ্টই শুধু পেলে!

কোন কোন পথ শুধু দুরে নিয়ে যায়
কোন কোন স্মৃতি শুধু পুড়ে দিয়ে যায়
কোন মানুষ অনেক দুরের হলেও,
বুকের ভিতর চিরকাল জিয়ে যায়!

Leave a comment

April 4, 2021 · 8:40 pm

কাঁদতে চাই না কাঁদাতে চাই না

কাঁদতে চাই না প্রিয় হারানোর বেদনায়,
কাঁদাতে চাই না প্রিয়কে, হারিয়ে গিয়ে-
জানি অনেক সমস্যা বাইরে যেতেই হয়,
দয়া করে যাবেন উপযুক্ত সাবধানতা নিয়ে।
সে জানে যে এম্বুলেন্সে মাকে শুইয়ে রেখে
সিটের জন্য ঘুরছে হাসপাতাল হাসপাতালে
বুঝবে সেই যে আর এবটু শ্বাসের আশায়
অক্সিজেন খুঁজছে এ করনা কালে।

বুঝবে যে দেখতে পায় নি বাবার দাফন
পায় নি, মায়ের শেষ কথা শোনার সুযোগ
শুনেছে সন্তানের মৃত্যুসংবাদ
তবু যেতে পারে নি, এ এমনই রোগ!

খুব প্রয়োজন না হলে বাড়িতেই থাকি
ভুলে থাকি সামাজিকতা বাধ্যবাধকতা
বিনোদন, বেড়ানো বেঁচে থাকলে  হবে,
করনা কালে দরকার বৃত্তে অবদ্ধতা।

Leave a comment

April 3, 2021 · 2:31 pm

কবাতা কনিকা-২০৩

দেখা হতে পারতো,হয় নি। তাতে?
শতাব্দী ধরেই তো আছি অপেক্ষাতে।
হয়ত আরও এক শতাব্দী পর
আচমকা উঠবে কোন ঝড়।
দেখা হবে সে ঝড়ের রাতে।

Leave a comment

April 2, 2021 · 4:04 pm

কবিতা কনিকা- ২০৩

একবার অন্তত মাতাল হব
সত্য কথা বলার জন্য, শোন!
তোমার সামনে, অসংকোচে।
পাশে যে থাকুক, যে কোন।
মাতলামী বলে হেসে উড়াবে
অথচ তুমি জান কতটা সত্যি
যদি চাও ভাব করতে পারো
তোমার কত প্রভাব প্রতিপত্তি!

Leave a comment

March 30, 2021 · 10:16 pm

একটু সময় দাও

একটু সময়

চাবিটা কোথায় যে রেখেছি বলা হল না!
কার কাছে ঋন আছে জানানো হল তাও না,
যে কথা বলার ছিল,থেকে গেল গোপনে
সবাই শুধু বলছে তাড়াতাড়ি বিদায় দাও না।
আমি ছাড়া সম্ভব? বাবা মা, স্ত্রী, সন্তান,
আমার যা সন্মান আমার যা সম্পদ,
আমার বন্ধু,শত্রু আমার কবিতার খাতা,
শেষ না করা গল্প,ছবি ও পোষাক পরিচ্ছদ..
কোন একটা ব্যবস্হা না করেই..
একটা গোছগাছ..একটু সময় দাও না
অসীমের পথে, অজানার পথে যাওয়া
একটু সময় দাও আরেকটু দাড়াও না।

Leave a comment

March 28, 2021 · 7:20 pm

মুচকি হাসি

তোমার ঠোঁটে লুকিয়ে থাকে যে হাসি
খালি হবার পরও আমার পান পাত্র-
যে কয়েক ফোটা থাকে তার মত,
ছুই ছুঁই করে ঠোট ছোঁয় না, বা ছোঁয় মাত্র।

Leave a comment

March 24, 2021 · 9:58 am

কৈফিয়ত

মুজিবকোটটা,
যেটা পরে দৈনিক সংগ্রামের অফিসের সামনে দিয়ে
মাথা উঁচু করে হেটে যেতাম,
মাত্র অষ্ঠম শ্রেনীর ছাত্র-
ভাল করে মোচ দাড়ি ওঠেনি,
সাল ১৯৮৪-৮৫ সাতই বা সতেরোই মার্চ বা পনের অগাস্ট।
জমায়েতি নেতৃবৃন্দের রাগী দৃষ্টিকে পরোয়া না করে,
পুলিশের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে,
বন্ধুদের টিটকারী উপেক্ষা করে,
সেই কোটটা আছে, পরি না।
তখন সেটা ঔদ্ধত্য ছিল, ভালবাসার ছিল এখন ফ্যাশন।

তবে রেখে দিয়েছি।
আবার কখনও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে পুলিশের লাঠির বাড়ি, কাঁদুনে গ্যাস আর জলকামানের বিরুদ্ধে দরকার হলে
পরে যাবো।

নিজ কানে যাদের বলতে শুনেছি, মুজিব নয় জাতির পিতা মোশতাক..
তারা যখন জয়বাংলার মিছিলে..
তারা যখন ফুলের মালা নিয়ে ছবি তোলায় ব্যাস্ত
আমি সে মিছিলে যাই কি করে?
আবার যাব
যখন গ্রেনেড বয়ে উড়ে আসবে শকুন..

অত বড় হতে পারি নি, সরকারী দাওয়াত পাবো।
পেলেও যেতাম না।
সাফারী,  মুজিব কোট দুইই যাদের আছে তারা যাক!
চাটার দল চেটে নিক
তারপর কংকালসার কাঙালের কাতারে গিয়ে দাড়াবো।
পরনে ছেড়া মুজিব কোট, মুখে জয়বাংলা।

এমন দিন আসুক চাইনা,
কিন্তু ইতিহাস যে ঘুরে ঘুরে আসে..
আমাদের যে সতর্ক থাকতেই হবে।

Leave a comment

March 17, 2021 · 8:29 pm

ঠিকই আছো কোথাও দাড়ায়

খালি হচ্ছে না দেখাটাই, ঠিকই আছো কোথাও দাড়ায়।
এই শহরেই থাকো শুনেছি, বনেদি কোন পাড়ায়!

অনেকে বলেছে,দেখা হয়েছে। হয়েছে  চোখাচোখি
অনেককে চিনতে পেড়েও এড়িয়ে গেছ, ওকি!
আমার সাথে দেখা হলে তখন কি আমায় চিনতে?
না চিনলে আমি ডাক দিতাম, ওহে ফারহানা বিনতে..
শুনেও যদি ভান করে যে শুনতে পাওনি ডাক
দ্রুতপায়ে চলে পার হতে চাও রাস্তার কোন বাক
বলে রাখলাম ঠিক এসে ধরবো তোমার হাত
সেবার না ধরে ভুল করেছিলাম এবারে বাজিমাত!
এবারে কারও সাধ্যি নেই এ হাত কেউ ছাড়ায়
খালি হচ্ছে না দেখাটাই, ঠিকই আছো কোথাও দাড়ায়।

তখনও এমন ভালবাসা ছিল, মনে  ছিল ভয়, দ্বিধা
এখন কাওকে পরোয়া করি না, বুক টান করে সিধা
বলবো তুমি আমার, এসো সব বাঁধা পাড়ায়
খালি হচ্ছে না দেখাটাই, ঠিকই আছো কোথাও দাড়ায়।

Leave a comment

March 14, 2021 · 12:10 am

শাহবাগ থেকে বেলী রোড

কথা দিয়েছিল একবার আমরা হাটবো পাশাপাশি
আমাদের আর দেখা হবে না-সে বলল আসি।
বললাম, কিছু মনে করো না,আজ যাওয়া যায়?
ভাবি নি রাজী হয়ে যাবে নির্দ্ধিধায় এক কথায়!

শাহবাদ থেকে বেলী রোডে-তবুও বই পড়ুন!
সড়ক ধরে গেলে এইতো আড়াই মাইল, ধরুন।
কোনাকুনি ভাবে রমনার ভিতর দিয়ে গেলে-
অনেক কম,কিছুটা প্রকৃতির ছোঁয়াও মেলে,
আধ ঘন্টার পথ।
কি একমত?

অথচ আমরা গেলাম আধ মিনিটে বা কমে।
হাসি নেই, আমাদের  মুখ কেমন থমথমে।
হাত ধরে তো অন্তত হাঁটতে পারতাম,
এ বয়সে কে কি বলে তার ধার কি ধারতাম!
বিদায় বেলায় শেষ বারের মত,একবারের মত
হতো কি তা খুব বেশী চাওয়া, বেশী উদ্ধত?
হাঁটি নি, হেঁটেছি ছোঁয়া বাঁচিয়ে সাবধানে
আসলে দ্বিধা বাঁধা দিয়েছিল কেন, কে জানে
অনেক বলার ছিল, কৈশোর,যৌবনের গল্প
যার কিছুতো ঘটেছে আর কিছু কষ্ট কল্প
কথা হয়েছে টুকটাক, এই দিন কেমন চলছে
আসল কথা মনেই রয়েছে মুখে আর কে বলছে!
দুজনেই ভাল থাকার অভিনয়ে সুনিপুন অভিনেতা
এ যেন কেমন হেরে হেরে তারপর তবুও জেতা!

বিদায়ের পর সে পিছু ফিরে দেখে নি একবারও
আমি ফিরেছি, হয়ত সেও, চোখাচোখি হয় নি কারও!


Leave a comment

March 11, 2021 · 4:02 pm

ডায়নোসার বিলুপ্তিতে গরম ভাত থিওরী

ডায়নোসার বিলুপ্তিতে গরম ভাত থিওরী
(পুরোপুরি বিজ্ঞান নয়)

ডায়নোসার কেন বিলুপ্ত হল এ নিয়ে বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। এর আগে বৌ দু বার এসে বলে গেছে গোসলে যেতে। যাই নি।
তিনি যদি জানতে পারেন, আমি ডায়নোসার লুপ্ত হবার কারন নিয়ে পড়ছি তবে ঝাটাটা আমার হাতে ধরিয়ে দেবেন। “শরীরটাকে একটু নাড়াও। জং পড়ে যাবে।
তার ধারনা আমি যে সব বিষয় পড়ি সবই তার দৃষ্টিতে ফালতু।

আর একবার বললে তিন বার হবে। রিস্কি হয়ে যায়।
তাই পায়ের আওয়াজ পেতেই বাথরুমে দৌড় দিলাম।
শাওয়ারের নীচে দাড়ালে মাথা বেশি কাজ করে।
এর দুটো কারন। মাথা হল গাড়ির ইন্জিনের মত। ব্যাবহারে গরম হয়। কিন্ত মাথার রেডিয়েটর নেই। এই পানি রেডিএটরের কাজ করে মাথা ঠান্ডা করে।

আরেকটা ব্যাপার আছে।
ঝড়না থেকে পানি যখন টুপটাপ করে মাথায় পড়ে তখন চামড়ার কোষ উদ্দীপিত হয়, রক্ত চলাচল বেড়েও মাথা ঠান্ডা হয়।

ডায়নোসারে মন নিবেশ করলাম। আমার বৌ এর মত আপনারাও যদি ভাবেন শুয়ে বসে আমার সাইজ ডায়নোসারদের মত হচ্ছে বলেই তাদের নিশ্চিহ্ন হবার উপায় নিয়ে পড়ছি, ভাবতে পারেন।
আপনারা স্বাধীন দেশের নাগরিক, তারপর সবাই রাজা!

পুরানো থিওরী গুলো নিয়ে ভাবতে লাগলাম। একটা থিওরি ছিল এমন যে ছোট ছোট প্রানীরা ডায়নোসরদের ডিম খেয়ে ফেলছিল।
এটা আমাকে কনভিন্স করতে পারে নাই। এটা যেন হুজুরদের যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাবার মত কথা। যার সাথে আমি মোটেও একমত না।
নতুন জেনারেশন নষ্ট হয় না। পরিবর্তিত হয়।
তাদের কথা মত ছোট প্রানীরা কি হঠাৎই ডিম ভাজা খাওয়া শিখলো যে তারা হারায়ে গেল! আগে থেকে খেলে তো তাদের সংখ্যা বারতোই না।

পরের থিওরী হল খাদ্য সংকট। বেশীর ভাগই ছিল নিরামিষাশি।
কিছু হাতির কলাগাছের ব্যাবস্থা করতেই আমাদের কলাগাছ বিলুপ্তপ্রায়, আর ডায়নোসার তো ছিল গায়ে গতরে হাতির পঞ্চাশ গুন!
তবে ডারউইনের থিওরী অনুযায়ী খাবার কম পেতে পেতে তারা ছোট হয়ে টিকে গেল না কেন কে জানে!

আরেকটা থিওরি হল মগজের স্বল্পতার থিওরী(ব্রেনের ক্ষুদ্রত্ব)। এটা আমি বুঝি।
তাদের এতবড় শরীরের তুলনায় মগজের পরিমান কম হওয়ায় এই ক্ষুদ্র মগজ দিয়ে সারা শরীর কন্ট্রোল করা সম্ভব হতো না।
এখনই পিঠের কোন জায়গায় চুলকাচ্ছে বুঝতে পারি না। দেয়ালের কোনা খুজি নয় বৌ!
যারা অবিবাহিত থাকেন তারা পিঠ চুলকালে কি করেন এই কৌতুহল আমার সব সময়ের।

তখন মশা ছিল, মাছি ছিল। হয়ত সিটি কর্পোরেশন ছিল না বলে সংখ্যায় কম ছিল। তারপর উকুন, গান্ধিপোকা, শুয়া পোকা..

এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েও..

বিজ্ঞানীদের আর একটি প্রিয় থিওরী হল প্লেগ থিওরি। এখনকার মানুষের মত তখনকার ডাইনোসাররা প্রকৃতির বারোটা বাজাচ্ছিল। রাগের চোটে প্রকৃতি প্লেগ ছেড়ে দিয়েছে। মরে কেটে শেষ!

ইরিডিয়াম নামক এক বিষ মহাকাশে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু ভুপৃষ্টে ইরিডিয়াম নেই।ধুমকেতু বা উল্কাপাত হলে ইরিডিয়াম ভূপৃষ্ঠে জমতে পারে। এর প্রভাবে ডানোসার মরতে পারে। যে সব জায়গায় ডায়নসারের দেহবাশেষ পাওয়া গেছে সেখানকার মাটিতে ইরিডিয়ামের পরিমান বেশী। সামগ্রিক বিচরন ক্ষেত্রে একসাথে উল্কাপাত হয়ে ছিল এটা অবিশ্বাস্য প্রবাবিলেটি!

সুনামী জাপানী শব্দ। এর সঠিক উচ্চারন ট্সুনামি! এ শব্দটা আমার অজানা ছিল। ২০১১ সালের ৯ই জুন ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামীর ধংস লীলা দেখতে পাই। কোন মহাভুমিকম্পে প্রচন্ড সুনামীর তোড়ে সব ডাইনোসার ভেসে গেছে এমন হতে পারে। হয়ত ভুমিকম্পের আগে স্থলভাগ প্রায় সমতল ছিল, পাহাড় পর্বত ছিল না তাই ভুমি বৈচিত্রে আত্মরক্ষা করে টিকে যেতে পারে নি।

একসময় স্থল ভাগের পরিমান নাকি অনেক বেশী ছিল। ইন্দোনেশিয়া থেকে অষ্ট্রেলিয়া পর্যন্ত অগভীর সমুদ্র সে কথাই প্রমান করে। তখন নাকি হেটেই অষ্ট্রেলিয়াতে যাওয়া যেতো। পরবর্তী কালে পানি বেড়ে এ জায়গা জলমগ্ন হয়েছে। স্থলভাগ কমায় এ বৃহৎ প্রানীগুলোর খাবার যোগানও কমে গিয়েছিল এবং এরা আদমজি জুটমিল হয়ে গিয়েছিল।

ট্রাম্প স্বীকার করুন না করুন জলবায়ূর পরিবর্তন একটি নিষ্ঠুর বাস্তবতা। আমরা আমাদের জীবদ্দশায়ই এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি! ডায়নসাররা রাজা রাজরার জাত। তেলাপোকা তো না, আমার মতও না, যা রান্না হয় তাই আনন্দ নিয়ে খাই।

“আর কতক্ষন লাগবে?” দরজায় দুমদাম করাঘাতে চমকে উঠলাম। হার্ট এটাকে মরার দশা। ভাগ্যিস ডায়নোসার রা বাথরুমো গোসল করতেন না। মহিলা ডায়নোসাররা এভাবে তাদের হার্টএটাকে মরার কারন হতেন না।

“এই তো প্রায় শেষ!”

“ভাত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

যেন ভাত ঠান্ডা হয়ে গেলে চন্দ্র সূর্য ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে, কেয়ামত শুরু হব!

তার অগ্নিমূর্তি দেখো আগ্নেয়গিরির আগ্নেৎপাত থিওরীটা মনে পড়লো।এটাও ডায়নোসার বিলুপ্তির পিছনে দায়ী বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

যাক ভাত খেতে যাই। করোনা নিয়ে পৃথিবী জুড়ে যে হাহাকার তাতে উল্কাপিন্ড বয়ে আনা কোন ভাইরাস ডাইনোসারদের বিলুপ্তির কারন কিনা কে জানে!এতো বড় শরীর নিয়ে সোসাল ডিস্টেন্সিংও তো করতে পারে নাই। শেষ হয়ে গেছে।

লোভ আর হিংসায় দানবে পরিনত হওয়া মানব জাতির লুপ্ত হবার জন্য এই কি সেই আঘাত? কোভিড নাইনটিন, দ্যা আলটিমেট কিলার অফ সিভিলাইজেশন!

আপনি ভাবতে থাকুন। আমি ভাত খাই, নয়ত আমার বিলুপ্তি এই গরম ভাত না খাবার কারনেই হবে।

Leave a comment

March 10, 2021 · 10:30 am

বাক ও শিল্পের স্বাধীনতা

শুধু গৃহপালিত কবিরা কবিতা লিখবে,
স্তবকে স্তবকে  স্তুুতি!
পোষা পায়রারা সে কবিতা পড়বে বাক
বাকুম, বাক-স্বাধীনতা অনুভূতি।
কবিতা উৎসবে, ক্লীব শ্রোতারা বলবে-কি দারুন,  মারহাবা!
ঘরে বসে নামতা যপি, ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই, বাবা।

Leave a comment

March 5, 2021 · 3:25 pm

shame!

there is a nation created upon lie,
where for no reason the children die
a nation created on sheer blood bath
and they proclaim- that is the path.
killing the native, grabbing their lands
with smile in faces wash blood stained hands
flashes with rocket and phosphorus bomb
make brothel on their graveyard and tomb.
wants a whole nation to be killed and jailed
made up stories and they never failed!
for throwing stones to resist machine gun
they kill the old and young as if it is fun
then they weep that they are threatened
though killing and destruction is their patent.
what a joke, if i just say their name
i will be restricted! shame! shame! shame!

Leave a comment

February 23, 2021 · 10:18 pm

পরমিতার কোনদিন

তোমার অপেক্ষা প্রায়ই অধৈর্য করে,
মনে প্রতিহিংসার আগুন জ্বালায়।
তারপর কিছু স্মৃতির হালকা রোদে-
এসব ভাবনা কোথাও ছুটে পালায়।
ভালবাসার এ কি যে এক সংকোট,
না ভোলা যায় না তা ঘসে তোলা যায়
খামাখাই হৃদয়ে দাগ বয়ে বয়ে বেড়ানো
বাঁধন,না শক্ত করে বাধা,না যা খোলা যায়।

ওদিকে কি হয় তা আসলেই জানি না
দেখাও হয় না হলেও তুমি কিছু বল নি
তোমার দুচোখ কুয়াশায় ঢেকে রেখেছ
না ভালবাসা,না না-পাওয়ার কোন জ্বলনী!

বক্তব্যের খাতিরে ধরে নেই তুমিও পুড়ছো
তোমার প্রতিহিংসা ভালবাসা থেকে বড়।
তাই তুমি আমার কষ্ট দেখতে চাও
প্রতি মুহুর্ত্বে আমার ধংস কামনা করো।

তুমি আছো,  বেশ আছো পরমিতা
তোমার হৃদয়, তোমার ঘর, তোমার সব।
আমিও আছি তুমিহীনতায় ডুবে
কিছু স্মুতি খুঁজে গড়ে নেই অবায়ব।

3 Comments

February 13, 2021 · 3:49 pm

ব্যাক অফ সিন


বন্ধু আতিক অনেক দিন পর ফোন করলো,”কি রে তুই তো আসল জাগায় আছিস, একেক জন একেক কথা কয়!
ব্যাক সিনের খবর কি?”
আমি দ্বিধায় পড়লাম। ব্যাক সিনে তো স্ক্রিনের সামনের চেয়ে বেশী নাটক হয়। নানা ঘটনা ঘটছে সময় খারাপ। কোনটার কথা বলতে কোনটা কোনটা বলবো, আলজাজিরা নিউজ বানায় ফেলবে!

বললাম, “অনেক কিছুই তো ঘটতেসে কোনটার কথা বলছিস?”
“আরে সরকার যেটা আনছে?”
আমার তো হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
আলজাজিরা বলে সরকার ইস্রায়িলী জিনিষ আনছে। আমি ইস্রায়িলকে ঘৃনা করি। তবু এটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নাই। নামে বেনামে ইস্রায়িলী কত কিছু ব্যাবহার করি।
আমি বৌ-বাচ্চা পোষা মানুষ, সরকার কারে ট্রেক করলো, কার ফোনের গোপন প্রেমালাপ ফাস করলো, আমার কি আসে যায়!
আমার প্রেমিকা আমার সাথে কথা বন্ধ করেছে বহু দিন। প্রেমালাপ বন্ধ।
বৌএর সাথে যা কথা হয় ট্রাক করলে সরকার আমার অত্যাচারিত ও দুস্হ হিসাবে কল্যান ভাতা দেবে!

“শোন বন্ধু এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিও না, বলতে পারবো না। তোর এত খবরের দরকার কি? খবর শোনা বাদ দে।”
“কিন্তু তুই যে পোস্ট দিলি?”
“আমি তো এ রকম কোন পোস্ট দেই নাই।  যা পোস্ট করি সব নখদন্তহীন। ফুলের ছবি, গাছের ছবি!
যেমন আছিস তেমন চল!
সব কিছু নিয়া মাথা ঘামানোর দরকার কি?”
” তুই তো দেখি  তোর ভাবির মতই কথা বলিস।
এদিকে ইন্ডিয়ান শাড়ি পছন্দ, টিভিতে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল পছন্দ,পেঁয়াজ পছন্দ, ডাল পছন্দ!
ঘুরতে গেলে গোয়া, কাশ্মির!
নায়ক বললে শাহরুখ,আমির।
ব্যাক সিনের কথা শুনে বলে গরুর মুত দিয়ে বানাইসে!”
কিছুক্ষন বিরতি দিলাম। তুই কি করোনার টিকার  কথা বলছিস?”
“তুই কি কানে ঠোসা, এতোবার বললাম ব্যাক সিন ব্যাকসিন? ফেব্রুয়ারী আসলেই বাংলা প্রেম উথলাইয়া ওঠে! টিকা বোঝ ব্যাকসিন বোঝ না! শালা….”

Leave a comment

February 9, 2021 · 12:06 am

তাকে

বলা হয়েছিল সব,
যতটা বলার মত,
বলার ছিল যত,
যা বলা হয় নাই তাও।
বাকিটা তুমি জান
বা না শুনেও জেনে যাও।

যদি বল-বলি নি,
বুঝি না, জানি না।
এ মিথ্যা মানি না, মানি না,মানি না।

ধোঁয়ার দোষ দিয়ে
দেখ নি ভাব করে
মুখ ফিরিয়ে নিয়ে,
কত দুরে যাবে,
হয় রোদ নয় বৃষ্টি।
কোথাও ঠিকই পাবে
নোনা জলে মিশামিশি মেঘ
পাশ বালিশের মত
পাশাপাশি জাগা উদ্বেগ!

ভালবাসা অস্বীকার করো।
বেশ!
ভাল লাগা পলকেই শেষ?
না এভাবে শেষ হয় না-
একি কথা বলা ময়না?
যা বলবে ও বলবে তাই।
যদি বল -চাও না,
আমি বলবো- তোমাকে চাই।

চাই ই চাই।
বৃষ্টির পর রোদ বা
রোদের পর বৃষ্টি
আমার জন্যই তোমার সৃষ্টি!

Leave a comment

February 4, 2021 · 10:05 pm

হে নারী

হে নারী!
সালোয়ার কামিজ কেন পর নাই? কেন পর নাই শাড়ি?
হে নারী!
একা একা বের হয়েছো, কেন থাকো নাই বাড়ি?
হে নারী!
তোমার কাজ তো চাকরী না, তুমি ঠেলবে হাড়ি!
হে নারী!
সব কিছুতেই তোমার দোষ, তুমি অশুদ্ধচারী!

রবি ঠাকুর সম্পত্তি হতে তোমায় বলেছেন সম্পদ
বড় সন্মান দেয়া হয়েছে- নিশ্চয়ই খুশীতে গদগদ!
এ কেমন কথা!নারী তো মানুষ পুরুষের মত সত্ত্বা
আঙ্গুল তুলে কি সাহসে বল সে তোমার বাকদত্তা!
তুমিও তো কথা দিয়েছ, তুমিও  তবে বাগদত্ত!
হেসে বল- আরে ভাই, বাংলায় এ শব্দ নেই সত্য!

নারী মানুষ! এ কথাটাই মনে থাকে না বলে
রানী, প্রিয়তমা, অপ্সরী যত কিছু বলি আসলে
নারী বললেই চোখে ভাসে স্তন, নিতম্ব কটি,
জননী হতে কন্যা সবাইকে ভাবে নেই নটী!
বদলেছে কত কিছু যুগের প্রয়োজনে
শুধু নারীত্বের সন্মান ব্যাপারটা ঠাই পায় নাই মনে।

হে নারী,
পুরুষ জন্ম দেয়াই তোমার সবচেয়ে বড় ভুল,
মানব নয় আসলে মানবীই মাখলুখে, আশরাফুল।

Leave a comment

February 2, 2021 · 5:07 pm

অপদার্থবিদ্যা

১।
আমার প্রথম চাকরী হয়েছিল চিত্তনগর কলেজে। গারো পাহাড়েই খুব কাছে টিলাময় একটা অঞ্চল। ভারত যখন ভাগ হয় তখন  কেন যেন রডক্লিফ, জমিদার চিত্তরন্জনের জমির মধ্যে দিয়ে লাইন টেনে দ্বিখন্ডিত করেন!
ওপাড়েই বেশী পড়েছিল তাই জমিদার চিত্তরঞ্জন বাড়ি ছেড়ে ওপাড়ে চলে যান। তার পরিতাক্ত বাড়িতে নতুন কলেজ হয়েছে। সেভাবে নিয়োম মাফিক কিছুই নেই।
এলাকার ছেলেদের অন্য জেলায় গিয়ে পড়তে হয় বলে অনেকেই স্কুল পেড়িয়ে আর পড়ে না। সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এ ব্যবস্থা।
শিক্ষক আমাকে নিয়ে পাঁচ জন। নিত্যবাবু একসময় গুরুদয়াল কলেজে পড়াতেন। রিটায়ার করেছেন। তিনি সাহিত্য পড়ান- ইংরেজি ও বাংলা। তিনি কলেজের প্রিন্সিপালও।
অপর্নাআপা  কেমিস্ট্রি, রশীদ সাহেব বোটানী ও জুলজি, রশীদ ভাই ইতিহাস ও ভূগোল আর আমি অংক ও পদার্থবিদ্যা।
নিতাই বাবু একাই পুরো অফিস চালান। ছাত্র ভর্তি থেকে দোকানে গিয়ে গরম সিঙ্গারা আনাও তার কাজ।

বয়সে আমি সবার জুনিয়র। তবে সেটা সমস্যা না। সমস্যা হল সবাই স্থানীয় আমি আউট সাইডার, সবাই সপরিবারে থাকেন আমি একা।

ওসব এলাকায় বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না  বাধ্য হয়ে আমি কলেজ লাগয়া একটা ভাঙা  বাড়িতে উঠেছি। পরিত্যাক্ত সম্পত্তি। সরকারী মালিকানায় আছে।  তাই  অন্য বাড়ি না পাোয়া পর্যন্ত ডিসি সাহেবের কাছ থেকে কাগজে কলমে অনুমতি নেয়া হহয়েছে।
ওই বাড়িতে ওই রুমটিই বাসযোগ্য। এই বাড়িটার পরিচয় কুঠি বাড়ি হিসাবে। স্থানীয় এক সাওতাল মেয়ে নিতা এসে সকালে রান্না করে যায়, আমি তাই আঁচিয়ে খাই।

বাড়িটা বিদেশে কোথাও হলে নিশ্চিত ভাবে এন্টিক ভ্যালু পেত। সুপরিসর সিড়ি আছে ছাদে ওঠার। ছাদে বড় বড় পিপুল গাছ শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছে। মাঝামাঝি একটা সিংহের মাথা।  কেশরের জায়গায় দেয়াল ফেটে গেছে। যতটুকু ঠিক আছে কাজ কিন্তু নিখুঁত।

২।
বারান্দায় একটা ফাটল আছে তবে তার বয়সও একশ বছর হবে। এটা অবশ্য আমার পদার্থ বিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে  বার করা।
যা জায়গা দখল করে তাই পদার্থ। ফাটলটা কিছুটা জায়গা দখল করে আছে তবু পদার্থ বিদ্যার ভাষায় অপদার্থ!

প্রতিদিনই একটা অন্তত ক্লাস থাকে। পাঁচটা পর্যন্ত কলেজে কাটিয়ে আসি। বাড়ি ফিরলেই তো কোন কাজ নেই।
একটা ছোট খাট ল্যাব বানিয়েছি। সেটা ল্যাব না বলে লাইব্রেরী বললেও আপত্তি নেই। আমার যাবতীয় বই এনে রেখেছি। সবচেয়ে যত্ন রেখেছি আচার্য জগদীস চন্দ্রের একটা জীবনী। সেটা পড়া আমার সব ছাত্রদের মাস্ট। ইচ্ছা আছে তাঁর একটা ছবি টাঙিয়ে রাখবো। এ অঞ্চলে তার মানের বিজ্ঞানী খুব জন্মায় নি।

শীত পড়ছে-পড়ছে।  ভাবলাম বাড়ির পাশে খালি জায়গায় কিছু টমেটু লাগাই।একটা শাবল চেয়ে আনলাম। মাটি খোড়া আসলেই খুব কষ্টের কাজ! তিন নম্বর চারাটা লাগিয়ে যখন চার নম্বরে গেলাম কষ্টটা আরো বাড়ল।
শাবলের বারি খেয়ে টন করে উঠল। পদার্থ বিদ্যার জ্ঞান লাগলো না বুঝতে যে কোন মেটালের সাথে সংঘর্ষ হচ্ছে।
তবে কি কোন লুকানো সিন্দুক খুজে পেলাম! আসে পাশে ভাল করে লক্ষ্য করলাম কেউ দেখছে কিনা। কেউ দেখে ফেললে তো ভাগ চাবে নয় আমাকেই গায়েব করে গুপ্তধনের মালিক হয়ে যাবে।

৩।
খুব আস্তে আস্তে মাটি সরাচ্ছি। একটা গোলাক জাতীয় আকার ধীরে ধীরে দৃষ্টি গোচর হচ্ছে, তবে কি মোহরের ঘোরা।
না।  একটা কাশার পাত্র বের হল। কত বছর মাটির নীচে আছে কে জানে কিন্তু প্রায় অক্ষত।
সাবধানে ধরে ঘরে নিয়ে রেখে এলাম। এখানে খোলা নিরাপদ না।

আসে পাশেও কিছু থাকতে পারে। তাই খুড়ে দেখলাম। হতাশ হতে হল।  কিছু পাওয়া গেল না।
ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করে পাত্র নিয়ে বসলাম। ঢাকনা খুলছে না। শাবল দিয়ে কয়েকটা বারি দেবার পর ঢাকনার নীচে চাড় দিতেই খুলে গেল।
একটা মিষ্টি মেয়েলী গন্ধ। একটা কাপড় ভাজ করে রাখা। ভাজ খুলতেই একটা নীল মলাটের বাঁধানো  বই বের হল। সোনালী কালীতে লেখা- কিডন্যাপড! লেখক রবার্ট লুইস স্টিভেনশন। প্রিন্টেড ইন লন্ডন ১৮৮৬,বাই ক্যাসসেল এন্ড কোম্পানী,প্রথম সংস্করন।
মলাটের  পিছনে ইটালিক্সে খুব সুন্দর করে লেখা মেরিনা ইবেনজার। অবশ্য ইবেনজার  লেখাটা অত সুন্দরও না, পুরো পুরি ইটালিক্সও হয় নি। স্পষ্টত বোঝা যায় দুটি  একজনের লেখা নয়।

এবার কাপড়টা দেখলাম। একটা নীল গাউন, সাদা সুতায় খুব সুক্ষ্ম কাজ করা। যেন নীল আকাশে শরতের সাদা মেঘ। দুহাতে জড়িয়ে আছি, গাউনটায় কেমন উষ্ণতা মাখানো যেন একটু আগেই কেউ খুলে রেখে গেছে। নাকের কাছে ধরলাম।  ল্যাভেন্ডারের মিষ্টি গন্ধ যেন মাতাল করে দিল।
আশা ছিল গুপ্তধন পাব। গুপ্তধনই  পেয়েছি, তবে তা অন্য রকমের গুপ্তধন। তখনও বুঝি নি।
মন খারাপ। বই এর মলাটের ভিতরের পৃষ্ঠায় দেখলাম চারকোনা করে কাটা। এখানে সাধারনত নামটা আরেকবার লেখা থাকে।
উল্টে পাল্টে দেখলাম আরও কিছু পাতাতেও দুএকটা শব্দ এভাবে কাটা। কেউ যেন খুব যত্ন করে কেটেছে!
কাটা ছেড়া বইটা এতো যত্ন করে রাখার মানে কি, মাথায় ঢুকলো না।

আলমারীর উপর গাউন পেচিয়ে বইটা রেখে দিলাম।

৪।
বইটার কথা আমার মনে থাকার কথা না। কাসার পাত্রটা বরং পরিস্কার করে তুলে রাখলাম। চালডাল কিনে রাখতে কাজে দেবে।
ঠিক প্রায় সপ্তাহ খানেক পর এক রাতে বিছানায় শুয়ে আছি, ঘুম আসছে না। এপাশ ওপাস করছি। এসময়টা দেয়াল ঘড়ির টকটক শব্দটাও বিরক্তিকর। মনে হয় কেউ হাতুড়ি পিটাচ্ছে।

বই টার কথা মনে হল। কি হতে পারে! দেড়শ বছর আগে ছাপা হওয়া একটা বই, এভাব যত্ন করে রেখে যাবার পিছনে নিশ্চয়ই কোন কারন আছে! খুট খাট শব্দে কেউ মনে হয় হেটে গেল! 

এখানে রাতের বেলা এরকম শব্দ প্রায়ই হয়। ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করে। তাদের পিছনের বিড়াল দৌড়ায়। নেড়ি কুকুর গুলো সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠে বসে থাকে, দৌড়ায় ডাকে।
কিন্তু আজকের শব্দটা একটু জোরে! কম্বল ছেড়ে উঠে গায়ে একটা চাদর নিলাম। পেন্সিল টর্চটা জ্বেলে দরজা খুলে বের হলাম।

অল্প আলোতে মনে হল কেউ একজন যেন সড়ে গেল। এ এলাকায় চুড়ি ডাকাতি কম আর আমার কাছে চুরি করার মত কি বা আছে?
“কে,  কে, কে ওখানে?” আমি দোড়ে সে দিকে গেলাম।
মনে হল সেই নীল গাউনটা পরা কেউ, পলায়নপর হরিনীর মত। বাগানের দিকে যাচ্ছে।
আমি লাফ দিয়ে বারান্দা থেকে নীচে নামতে গেলাম।  মনে ছিল না একটা ভাঙা চৌকাঠ বিপদজনক ভাবে ঝুলছিল।

৫।
#অপদার্থবিদ্যা

৫।
চোখ খুলে দেখি বিছানায় শুয়ে আছি।  হাসি পেল। স্বপ্ন দেখছিলাম।
উঠতে গেলাম, গায়ে বেশ ব্যাথা। মাথায় হাত গেল। বেশ ফুলে আছে। ব্যাথাও।

হাড়ি পাতিল নারা-চারার শব্দ পাওয়া গেল। নিতা কে ডাকলাম।
“নীতা তুমি কি আমাকে বিছানায় এনেছ?”
নীতার চোখে বিষ্ময়! “না তো দাদা। আমি এসে দেখলাম তালা দেয়া নেই। ভাবলাম আপনি ভিতরে আছেন। দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে গেল।কোন মতে ভেজানো ছিল।
আপনি ঘুমাচ্ছেন দেখে ডাকি নি!”

আমার মাথার নীচে একটা তোয়ালা রাখা। আরেকটা জানালায় মেলে দেয়া আছে। বিছানার চাদর তখনও মাথার দিকে ভেজা।

কেমন ফাপড়ে পরে গেলাম। দশটায় ক্লাস ছিল।  এখন সাড়ে দশটা বাজে! আজ আর ক্লাসে যাব না।

“নীতা, আলমারীর উপর নীল কাপড়ে জড়ানো একটা বই আছে। দাও তো।”
নীতা বইটা এনে দিল। “কাপড় তো নেই, এই বইটা ছিল।”
আমি আমার হার্টবিট শুনতে পাচ্ছি। বই ফেলে দৌড়ে আলমারির উপরে উকি দিলাম। না গাউনটা নেই। আশে পাশে দেখলাম। কোথাও পড়ে যায় নি। হিসাব মিলছে না।
তাড়াতাড়ি কাপড় বদলে নিলাম। কলেজে যেতে হবে।


যেতে যেতে আমার ক্লাসের শেষ। রশীদ ভাই টিচার্স রুমে বসে পেপার পড়ছিলেন।  আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন।
“কি অসুস্থ্য নাকি?”
“না অসুস্থ্য না। অসাবধনতার কারনে মাথায় ব্যাথা পেয়েছি। “
তিনি কপালের দিকে তাকালেন। “ফোলা মনে হচ্ছে। হোমিওপ্যাথির দুটো বড়ি খেয়ে নিলে ঠিক হয়ে যাবে। বিকালে এসো।”
মাথা নাড়লাম।
“আচ্ছা রশীদভাই, এই যে কুঠি বাড়িতে আমি থাকি,  তার কোন ইতিহাস কি আপনি জানেন?”

তিনি চুপ করে থাকলেন। মনে হচ্ছে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন!
“একসময় এঅঞ্চলে ইংরেজরা নীল চাষ করতো। তখন সাহেবরা কেউ ওখানে থাকতেন। তখন অনেক বড় বাড়ি ছিল। এতবার আগুন লেগে অনেকটা পুড়ে যায়। নীলকর সাহেবও পুড়ে মারা যান। তারপর নীলচাষ বন্ধ হয়ে যায়! “
“ওই সাহেবের নাম কি জানেন?”
“নাহ! এটা কি জানার মত কিছু?”
“সে সময়ের ঘটনাবলি স্বমন্ধে কোথাও কিছু জানতে পারবো?”
“নাহ। রাজা বাদশাদের কথা ইতিহাসে লেখা থাকে। তাদের পাইক পেয়াদারের কথা না।
কিন্তু তোমার তা নিয়ে এতো ইন্টারেস্ট কেন?”
” এমনি!  কুঠি বাড়িতে থাকি তো তাই কৌতুহল।
ভদ্রলোক কিছুক্ষন কি যেন ভাবলেন। “এখানে সে সময়ের স্মৃতি বলতে টিকে আছে একটা খৃষ্টান কবর-স্থান আর এই বাড়ি। কবরস্থানে গিয়ে দেখতে পারো, কিছু জানতে পার কিনা! ওদের এপিটাফে ওরা অনেক কিছু লিখে রাখে।”
“কোথায় কবরস্থান?”
“উকিল পাড়ায় গিয়ে যে কাওকে জিজ্ঞাসা করো দেখিয়ে দেবে।”
কেমন একটা দুর্বার আকর্ষন বোধ করলাম।

ভাবলাম এখনই যাই। বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এসে দেখি হাফিজ বই পত্র নিয়ে হেটে বের হচ্ছে।
“সালাম স্যার। “
“সালাম!
একটু ঝামেলায় আছি তাই আজকের ক্লাসটা হল না। তুমি কোথায় যাও?”
“আমার আর ক্লাস নেই স্যার। বাড়ি যাচ্ছি।”
“আমি একটু খৃষ্টান কবরস্থানে যাব, তোমার কাজ না থাকলে চল। “
“চলুন স্যার। কোন কাজ নেই।”
আমরা রাস্তায় এসে পড়লাম।
“এই রিক্সা যাবে…


শহরের একেবার শেষ প্রান্তে এই কবরস্হান। মাঝখান দিয়ে একটা রাস্তা এটাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। উত্তরের অংশটা পুরাতন আর দক্ষিনেরটা নতুন। ঢোকার মুখে একটা দোতালা অফিস। আমাদের দেখে একজন মধ্যবয়সী গারো ভদ্রলোক বের হয়ে এল।

“আমি পিটার। এ কবরখানার সুপারভাইসার। বলুন কিভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি!”
“উনি আমাদের স্যার।” হাফিজ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল।
আমি করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম।
“আমি এখানকার কলেজে পড়াই। ইতিহাস বিষয়ে আমার খুব আগ্রহ আছে । এই এলাকায় ইংরেজদের কুঠি ছিল তা জানতে পেরে  আমার আগ্রহ আরও বেড়েছে। কিন্তু এপর্যন্ত তেমন কোন ইনফরমেশন পাই নি। ভাবলাম এখানে  এসে যদি কিছু জানা যায়!”

পিটার কিছুক্ষন কি যেন ভাবল।
“ফাদার টিম আছেন। তিনি হয়ত আপনাকে সাহায্য করতে পারেন! গীর্জাতে গেলে তার সাথে আপনার দেথা হবে।”
“ধন্যবাদ।  আমি কি কবরস্থান ঘুরে দেখত পারি?”
পিটার অবাক হল। কবরখানায় ঘোরার মত কি আছে বোধ হয় চিন্তা করলো। তারপর বলল, “চলুন   আমিও যাচ্ছি”।
“সবচেয়ে পুরানো কবরের বয়স কত?”
“দুশো বছর!”
“চলুন দেখি। “
একদম শেষ মাথায় নিয়ে গেল।কালো পাথরের কবরের উপর সাদা এপিটাফ। একপাশে সাদা পাথরের একটা পরী। ডানাগুলো ভেঙে গেছে।
হেয়ার লাইস জর্জ, তারপরের অংশ পড়া যাচ্ছে না। ইয়র্কশায়ার পড়া যাচ্ছে। সম্ভবত ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেয়া জর্জ এখানে এসে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে। হয়ত অত্যাচারী ছিল, তবু তার জন্য মন খারাপ লাগলো।
মৃত্যুর সময় প্রিয়জন কাওকে সামনে না পাওয়াটা কত যে কষ্টের!
কবরগুলো সংখ্যায় অনেক না। সাল অনুযায়ী সাজানো। মাঝে কয়েক বছর বাদও আছে।
অনেক কবরের উপরে বাঁধানো নামগুলো এখনও অটুট। তবে আগাছায় একদম ঢেকে গেছে।
পিটার কি আমার মনের কথা বুঝতে পাড়লো?
বলে উঠলো,”এদিকটায় কারো আসা পড়ে না তো তাই জঙ্গল হয়ে গেছে।”

দেখতে দেখতে একটা কবরের সামনে এসে চমকে উঠলাম। মেরিনা ইবেনজার।
জন্ম জুলাই ১৯০২, মুত্যু অগাস্ট ১৯২৩। একুশ বছর বয়সে!
কবরের উপর একটা মৎস কন্যার মূর্তি। সেখানে লেখা- ইন মেমরি অফ হে কুইন হু লেফট বিহাইন্ড এ সবিং সেইলর, এরিখ এবিনজার।
তারপাশের কবরটা খালি।
এর আগে কবরের পাশে এমন একটা খালি কবরও চোখে পড়ে নি।
“এই ভদ্রমহিলা স্বমন্ধে কিছু জানেন?”
পিটার অসংকোচে মাথা নাড়লো। “আমি এখানের দায়িত্বে আছি গত দশ বছর। এ সময়ের সব কিছু আমার নখদর্পনে। এটা তো…
ফাদার টিম জানতে পারেন। পুরানো রেজিস্টারগুলোে তার কাছে আছে। “

“গীর্জায় যাবেন স্যার? আমি জায়গাটা চিনি, আপনাকে নিয়ে যেতে পারি!”
হাফিজকে বেশ উৎসাহী মনে হল।
“আজ না আরেক দিন। আজকে শরীর ভাল না। “
একক্ষন মাথা বাথার কথাটা ভুলে ছিলাম। মনে পড়তেই বিদায় নিয়ে কুঠিবাড়ির দিকে রিক্সা নিলাম।

একটা হদিস তো পাওয়া গেল।

৮।

ফিরে আসার সময় ডিস্পেন্সরি থেকে ওষুধ নিয়ে এসেছিলাম। ওরা সাথে ঘুমের ওষুধও দিয়েছিল। মাথা ব্যাথার জন্য নাকি ব্যাথার ওষুধের সাথে ঘুমের ওষুধ খেলে ভাল কাজ করে!
ভাত খেয়ে বিছানায় গেলাম, যখন উঠলাম দেখি চারিদিক অন্ধকার। ঘড়িতে রাত দুটো বাজে। মানে চারটা থেকে টানা বারো ঘন্টা ঘুমিয়েছি।
ক্ষিদায় পেট ব্যাথা করছে।
উঠে বাতি জ্বালালাম। ভোল্টেজ কম। মোমবাতির মত টিম টিম ককরে জজ্বলছে।
দুপুরের বাসন পত্র আধোয়াই আছে। ধুয়ে নিয়ে খাবার গরম করে বসলাম।
হঠাৎ মনে হল গতকাল রাতের মত কারো হেটে চলার শব্দ হচ্ছে। আমি মন কে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেবার জন্য আমার ছোট বেলার কথা ভাবতে থাকলাম। আজকে কোন মতেই বাইরে বের হবো না। বারান্দার বাতিটা অনেক দিন ধরে ফিউজ হয়ে আছে। মনে ছিল না নয় আজকেই লাগাতাম। কাল লাগাতে হবে। অন্ধকার কেটে গেলে অনেক কিছুই পরিস্কার হয়। এটাও হবে।
একটা হাসির শব্দ শোনা গেল।
পদার্থবিদ্যায় এটারও কোন ব্যাখ্যা আছে,সেটা এখন দিতে পারছি না।

মাথা ব্যাথাটা এখনও কমে নি, এখন ঘুমও আসবে না। বইটা টেনে নিলাম। কিডনাপ্ড!
যে শব্দ গুলো নেই তাতে গল্পটা বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। আমার ইংরেজীর যে দৌড় তাতে এমনিতেও এমন অসুবিধা হতো। অনেক শব্দের অর্থ জানি না, কল্পনা করে নেই। একটু পর পর ডিকশনারী দেখলে তো গল্পের মজা নষ্ট হয়ে যায়।


ইবেন্জর! শব্দটা দেখে চমকে উঠলাম। বইএর মালেকিনের নাম ইবেন্জর
একটা ছেলের গল্প। মা আগেই মারা গিয়েছিল,  বাবা মারা যাওয়ার সময় জানিয়ে যায় তারা
খেয়াল করলাম গল্পে আমার মন থাকছে না। বরং যে শব্দগুলো নেই সে গুলো নিয়েই ভাবছি।
একটা কাগজ পেন্সিল নিলাম। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে যে সব শব্দগুলো কাটা তা কি হতে পারে চিন্তা করে লিখতে শুরু করলাম।
প্রথম দিকটা কঠিন না। কিডন্যাপড থেকে আই কাটা, তারপর লেটার আর শব্দ যোগ করলে দাড়ায়, আই ওয়াজ কিডন্যাপ্ড এন্ড কিলড!
চমকে উঠলাম। মেরুদন্ড দিয়ে  একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। এটা তো গল্পের মধ্যে আরেকটা গল্প!
পড়তে থাকলাম। না এরপর মেলানো সহজ না। এ বই এর একটা কপি যোগার করতে হবে।
চোখ বুজে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। ঘুম এল না। কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করি আবার চোখ খুলে বইএর একপাতা পড়ি, হারানো শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করি এভাবেই ভোরের আলো ফুটলো।
হঠাৎ দরজায় একটা খুট খুট শব্দ শুনলাম। কারও তো এসময় আসার কথা না।
দরজা খুললাম, কেউ নেই দরজার সামনে কয়েকটা গোলাপ রাখা। পাপড়িতে শিশির এখনও শুকায় নি।

১০

“কোন লিটারেরি ক্লাসিক হলে আমার কাছে পেতে। তুমি খুঁজছো কিডন্যাপ্ড। একেবারে হালকা আবেগের বই!” নিত্য বাবু যারপরনাই বিরক্ত।
“পড়াই পদার্থ বিদ্যা আর অংক,  পিওর সাহিত্য খুঁজলে আমার চলে?”
“সুধাংশু বাবুর একটা ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী আছে। সেখানে পেতে পারো অবশ্য সে জন্য তোমাকে ময়মনসিংহ শহরে সদর রোডে যেতে হবে।
এসব বাদ দাও। বায়রন পড়, কীটস পড়। মননের গঠন হবে।”
হাসলাম। মননের গঠনের জন্যই আমার কিডন্যাপ্ড পড়া দরকার।”
ঠিকানা লিখে নিয়ে উঠলাম।
কালকে শুক্রবার, কাল যাব। আজ ফাদার টিমের সাথে দেখা করি।

চার্চের বাইরে বিরাট একটা বাগান। তাতে নানা রং গোলাপ। বিদেশী কিছু রেয়ার কিসিমের গাছও আছে। একজনকে দেখলাম চেয়ারের উপর দাড়িয়ে কাছের পাতা ট্রিম করছে।
“আদাব।  আমি কি ফাদার টিমের সাথে কথা বলতে পারি?”
“পারেন!”
“উনাকে কোথায় পাব?”
“এখানে পাবেন!”
অস্বস্তিতে পড়লাম। উনি নেমে আসলেন। হাসলেন। “আমিই টিম!”
“আমি ভেবেছিলাম বিদেশী!” করমর্দন শেষে বললাম।
“স্বদেশীতে চলবে, না বিদেশীই লাগবে?” ভদ্রলোক তখনও হাসছেন।
আমি পরিচয় দিলাম। “দেখা যাক! আমি আসলে এলাকার ইতিহাস নিয়ে খুব ইন্টারেস্টেড।
একসময় জায়গাটার খুব ইমপর্টেন্স ছিল মনে হয়। জমিদার বাড়ি আছে আর কুঠি বাড়িতে তো আমিই থাকি।”
“ইন্টারেস্টিং!  তুমি কুঠিবাড়িতে থাকো! সেখানে তো ভুত থাকে শুনেছি। মিস্টার ইবেনজারের ভুত!”
হাসলাম।” না মিস্টার ইবেন্জারকে দেখি নি তবে মিসেসর সাথে দেখা হয়েছে মনে হয়!”
“কোয়াইট ন্যাচেরাল! তোমার মত একজন হ্যান্ডসাম ইয়াংম্যান কুঠিবাড়িতে থাকলে তো মহিলা ভুত দের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবার কথা। বাই দ্যা ওয়ে তুমি একা থাকো?”
“একদম একা!”
“ও! দারুন রোমাঞ্চকর!  যাই হোক কেন এসেছ বল। কাজের কথা হয়ে যাক তারপরে এসব আলাপ করা যাবে!”
“আমি আসলে এসব আলাপ করতেই এসেছি। কবরস্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে মিসেস এবেন্জারের কবর পেয়েছি। তার পাশের কবরটা খালি। আমি মিস্টার এবেন্জার স্বমন্ধে জানতে চাই। তিনি কি ব্রিটেনে ফিরে গিয়েছিলেন? তার বংশধররা কি সেখানে আছেন?”

মি: এবেন্জার স্বমন্ধে আমার কিছুটা জানা আছে। তবু চল রেজিস্টারটা নিয়ে বসি। বয়স হয়েছে, স্মৃতির উপর ভরসা করা যায় না।!”
পিছুপিছু তার ঘরে গেলাম। ছোট গুছানো ঘর। একটা স্টিলের লকার খুলি মোটা মোটা কয়েকটা রেজিস্টার খাতা আনলেন তারপর গভীর মনোযোগ দিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকলেন।
পৃষ্ঠা গুলো একটার সাথে আরেকটা আটকে গেছে। তিনি একমনে থুতুতে আঙ্গুল ভিজিয়ে ভিজিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছেন।
“পেয়েছি। ইমা ইবেনজার, জন্ম ২২সে জানুয়ারী আয়ারল্যান্ড। ১৯০০। মৃত্যু ২১এ এপ্রিল,  ১৯১৮। সি কিল্ড হারসেলাফ। ৫৭ নম্বর কবর।
৫৮ নম্বরটা রিজার্ভড ফর মিস্টার ইবেন্জার!
দিস উইল বি রিজার্ভড ফর এভার। ইমা মারা যাবার ছয় মাসের মাথায় কুঠিতে একটা অগ্নিকান্ড হয়। একটা পাশ একেবারে ভস্মিভূত। ইবেন্জার ওখানটায় থাকতেন।
আগুন নিভে যাবার পর অনেক খোজা খুজি করেও তার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি। ধরে নেয়া হয়, হি ইজ ডেড, বার্ন্ট ইনটু অ্যাশ!”
“দুঃখ জনক! কিন্ত আপনি এসব জানলেন কি করে?”
“তখন এখানকার পাদ্রী ছিলেন ফাদার রালফ। তিনি নিয়মিত রোজ নামচা লিখতেন। পড়ে জেনেছি।”
“ওনার স্বমন্ধে আর কিছু লেখা আছে?”
“তেমন কিছু না, খুব নিষ্ঠুর লোক ছিলেন।
মানুষদের উপর অনেক অত্যাচার করতেন। সবাই ভয় পেত। ফাদারের সাথেও খারাপ ব্যাবহার করেছিলেন!”
“আচ্ছা অনেক দরকারী ইনফরমেশন পেলাম। ধন্যবাদ আমি তাহলে উঠি!”
“আমাকে কি তবে একাই বিকালের চা খেতে হবে?” ফাদার হাসলেন।
“সঙ্গ দিতে আমার আপত্তি নেই। সাধু সঙ্গ নিশ্চয়ই স্বর্গবাসের পুর্বশর্ত।”
“স্বর্গ বাসে ভুতসঙ্গেও সম্ভব!
চায়ে চিনি কত টুক…”
আমার মাথায় তখন সুধাংশ বাবুর লাইব্রেরী। মনে হচ্ছে কিছু একটা ধরা দেবার খুব কাছাকাছি এসে পড়েছি।

১১
“নিন আপনার বই। পড়ে কিন্তু ফেরত দেবেন। একশটাকা জমা রেখে বই দেই, আপনার কাছ থেকে রাখলাম না।” সুধাংশ বাবু যেটা দিলেন তা পেপারব্যাক এডিশন।
“এটা ছাড়া আর কি কোন এডিশন আছে?”
অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন। “সাহিত্যের বই, এডিসনে কি আসে যায়? বিজ্ঞান তো নয় যে নতুন এডিশনে নতুন তথ্য থাকবে!”
“একটি বিশেষ কারন আছে কাকা। দেখুন না যদি পাওয়া যায়!”
ভদ্রলোক বিরক্ত মুখে উঠে গেল। আমি পেপার ব্যাকটা নেড়ে চেড়ে দেখতে লাগলাম। ইন্ডিয়ান রিপ্রিন্ট।
সুধাংশ বাবুর সাথে কিছু কথা হয়েছে।তিনি খুব মমিসুক ধরনের না। কাটকাট কথা বলেন। তার দুঃখ এখন কেই তেমন বই পড়ে না।
তিনি অকৃতদার।
পাঁচরুমের পুরানো দিনের বাড়ি, উঁচু সিলিং। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বুক সেলফ। তাতে বই গুলো সাজিয়ে রাখা। তিনি যযে খুব যত্ন আত্তি ককরেন ববোঝা যযায়। একটা বইতেও ধূলা জমেনি।
চাকাওলা একটা কাঠের মইতে উঠে তিনি বই খুঁজছিলেন।
“তিনি নেমে আসলেন। “এই নিন। ওরিজিনাল প্রিন্ট। এগুলো রেফারেন্স কপি হিসাবে রাখি। বাইরে নিতে দেই না।
আপনি কলেজের শিক্ষক,  আপনি নিতে পারেন। তবে যে বললাম, সময়মত ফেরত  দিয়ে যাবেন সেটা যেন মনে থাকে ার বই এর ভিতর কোন দাগ দেবেন না। পাতার কোনা মুড়বেন না। “
বইটা হাতে নিলাম। অবিকল একই বই। কেবল এটা বাইশতম এডিশন।
বাইরের ফিউজড লাইটটা অনেকদিন বদলানো হয় না। আজকে এটা কিনে নিলাম।

ঘরে ফিরে আমারটা নিয়ে বসলাম। সাথে খাতা পেন্সিল। পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা মিলিয়ে অক্ষর আর শব্দ গুলো পরপর লিখতে লাগলাম।  প্রথম প্যারার অর্থ দাড়ালো আমকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তুলে এনে জাহাজে তুলেছে।
আমি শব্দ জুড়ে যাই। তারপর একটু করে পড়ি।
আমি জ্যাকের বাগদত্ত্বা ছিলাম। জ্যাক আমার বাবার বন্ধুর ছেলে।এবেন্জারকে  চিনতাম অত্যাচারী জমিদারের বখে যাওয়া ছোট ছেলে হিসাবে। ও আমার উপর ভালবাসা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
এদেশে নিয়ে এসে এক গোপন অনুষ্ঠানে আমাদের বিয়ে হয়। একসময় সব দুর্ভাগ্য বলে মেনে নিতে চেয়েছি কিন্ত এবেন্জার ছিল মদ্যপ ও অত্যিচারী। প্রায় প্রতিরাতেই আমার উপর অত্যাচার করতো।
এভাবেই দিন কাটছিল। মাঝে মাঝে এতটা মনস্তাপে থাকতাম মনে হতো আত্মহত্যা করি, কিন্তু মনে হত আত্মহত্যা মানে হেরে যাওয়া। আমি হেরে যেতে চাই না।
এর মধ্যে জ্যাকব কিভাবে যেন আমার অবস্থান জানতে পারে। একদিন সকালে এবেন্জার বের হয়ে যাবার পর আবার দরজায় করাঘাত শুনি!
দরজা খুলে দেখি জ্যাকব। এরপর আমরা প্রায়ই দেখা করতাম। এটাকে পাপ মনে হতো না। মনে হতো এটা একধরনের প্রতিশোধ।
মাসখানেক পর জ্যাকবের লাশ পাওয়া যায় নদীতে। মাথায় গুলির চিহ্ন।
এবেন্জারের অনেকগুলো বন্দিক ছিল। আমি জানি, তার মধ্যে কোন একটার গুলিতেই জ্যাকব মারা গেছে।
এরপর থেকে অত্যাচারের মাত্রা বাড়লো। আমাকে সব সময়ে তালাবন্ধ ঘরে রাখা হতো। গুজব রটানো হয়েছিল আমি মানষিকভাবে অসুস্থ!
আমি জানি ও আমাকে হত্যা করবে আর এটাকে আত্মহত্যা বলে চালাবে।
আমি প্রতিশোধ নেব জীবিত বা মৃত অবস্থায়!
বই দুটো পাশা পাশি রেখে দিলাম।
একটু হতাশ লাগছে। মনে হল অনেক কিছু জেনেছি, আবার মনে হল অনেক কিছু জানার বাকি আছে!
খাওয়া শেষে বইটা নিয়ে হেলান দিয়ে বসলাম।  ঝিরঝির বিষ্টি পড়ছে
মাঘ মাসে এমন হালকা বৃষ্টি শীতকে অনেক বাড়িয়ে দেয়।লেপের নীচে শুয়েও কাঁপছি।
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখি টেবিলে নীল গাউন পরা একটা বিদেশী মেয়ে। আমায় দেখে মিষ্টি করে আসলো।
“আমি মেরিনা ইবেন্জার”
আমার সারা শরীর কেমন শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
চিমটি কেটে দেখলাম স্বপ্ন নয় সত্যি!

১২
“কিহে চিনতে পেড়েছ?”
“মিসেস এবেন্জার?”
“ওহ্ না মেরিনা! তুমি তো জান নামের ওই অংশটা জোর করে জুড়ে দেয়া! আমি এ অংশটাকে ঘৃনা করি!
কি অসামান্য সুন্দরী! সোনালী চুল গুলো আগুনের শিখার মত জ্বলছে।আর সেই উত্তাপে পোড়ার কষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে সারা মুখে, দুচোখে।
আমি অন্যমনস্ক হয়ে পগে ছিলাম। তার ইংরেজীর একসেন্টটা অন্যরকমের। এ জন্য যেন আরও আকর্ষনীয় লাগছে।
“কি জবাব দিলে না।?”
“কিসের?”
“শুনছো না?”
“সত্যি বলি, তোমার দিকে তাকালে সব ভুলে যাই!”
মেরিনা মুচকি হাসলো। আগুন যেন ছড়িয়ে পড়লোে তার বরফ সাদা গালে!
“শোন! একশ চল্লিশ বছর তাকে আটকে রেখেছি। আমাকে কিডন্যাপের শাস্তি, আমাকে হত্যার শাস্তি, জ্যাকবকে হত্যার শাস্তি! কি মনে করো? যথেষ্ট হয়েছে?”
“আমি তো সব জানি না। জ্যাকবকে কি এবন্জারই খুন করেছিল।”
“হ্যাঁ। জ্যাকবকে পেয়ে আমি জীবনের অর্থ খুজে পেয়েছিলাম। নতুন করে বাঁচার প্রেরনা পেয়েছিলাম। আমরা পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করেছিলাম।  কিন্ত ধরা পড়ে যাই। আমার চোখের সামনে ঘটে নি কিন্তু আমি জানি এবেন্জার জ্যাকবকে হত্যা করে।
তারপর শুরু হয় আমার বন্দি জীবন।
পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। এবেন্জারের সব অপকর্ম ফাস করতে চেয়েছিলাম। এবেন্জার একটা স্কাউন্ড্রেল, অত্যাচারী রক্তললুপ হায় না।
তাই প্রতিশোধ নিতে তার সব সম্পত্তিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছি আর তাকে আটকে রেখেছি। একশ চল্লিশ বছর। “
“কোথায়?”
“এখানেই?”
“তুমি তো অনেক বুদ্ধিমান। বই থেকেই অনেক কিছু জানতে পেড়েছ। বাকিটাও পারবে।
কি বল ওকে মুক্তি দিয়ে দেই?”
“অনেক শাস্তিতো পেয়েছে…”
“ঠিক আছে চল বাইরে যাই। আজকে অনেক জোছনা। “
আমার মনে ভয় হল।  হয়ত  এটা ভয়ঙ্কর কিছুর হাতছানি!
“কি হল?  এসো।”
আমি তখন পুরোপুরি সম্মহিত। তার পিছু পিছু বের হলাম।
“টেবিলের উপর একটা উপহার আছে, তোমার জন্য। নিয়ে এসো।”
একটা ছোট বাক্স।
পকেটে রেখে দাও। সারপ্রাইজ! পরে দেখো।
আমি বের হয়ে দেখি সে অনেকটা দুরে চলে গেছে।
আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে গেলাম তাকে ধরার জন্য।
এ জায়গাটা গাছপালা বেশী। একটা ঘোড়ার গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
“জাকব এসেছে। আমি যাচ্ছি। তোমাকে ধন্যবাদ।”
“দাড়াও আমার আরও কিছু জানার আছে।” আমি দৌড়াচ্ছি।
মেরিনা মনে হল আমায় শুনতে পাচ্ছে না।
ঘোড়ার গাড়িটা থামল। লম্বাটুপি পরা একজন এমাকে একটানে গাড়িতে তুলে নিল।
“মেরিনা দাড়াও!”
গাড়িটা ছুটতে শুরু কররো।
আমি গাছের শিকড়ে পা আটকে পড়ে গেলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হল। চারপাশ কেমন নড়ে উঠলও।

তিন চার মিনিট পর সব থামলো। আমি উঠে দাড়িয়ে পিছন ফিরে দেখলাম বেশ কিছু গাছ পড়ে আছে। আর কুঠি বাড়িটা একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে।
বুকে ফু দিলাম। এসময় ওখানে থাকলে..

ভোরের আলো ফুটতেই অনেক লোকজন এল। কলেজের শিক্ষক ছাত্ররাও। কালকের ভুমিকম্পে কলেজেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে। আমার চন্য সবাই চিন্তিত ছিল।
সবাই আমাকে খুজতে গেল। একটু একটু করে ইট সুরকির চাই সরাচ্ছিল।

এসময় আমি জঙ্গল থেকে ওদিকে এসে দাড়াতেই তারা ভুত দেখার মত চমকে উঠলো।
“স্যার, আপনাকে নিয়ে খুব আতঙ্কে ছিলাম। রাত তিনটার সময় হঠাৎ এত বড় ভুমিকম্প হয়েছে।  ঘুম থেকে উঠে বের হতে হতেই অনেকের ঘর ভেঙে পড়েছে! এ বাড়িটাতো একেবারেই খারপ অবস্থায় ছিল। আপনি সময়মত সড়তে পেরেছিলেন?!
আমি হাত তুলে দেখালাম আমি অক্ষত।

হঠাৎ আওয়াজ শুনলাম।”সবাই এদিকে আসেন।”
গেলাম। আমার ঘরের নিচে একটা  গোপন কুঠরী!  সেখানে একটা কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

হঠাৎ সেই বাক্সটার কথা মনে পড়ল। খুলে দেখলাম একটা ক্রশ। সবার চোখ এড়িয়ে কঙ্কালটার কাছে রেখে আসলাম। এবেন্জার এবার অন্তত খৃষ্টান কবরস্থানে জায়গা পাক। 
এমার পাশে পাবে কিনা তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।

বই দুটোই অক্ষত পাওয়া গেছে। সুধাংশ বাবুরটা বইটা ফেরত দিতে হবে।
আমারটার কাটা অংশ গুলো কিভাবে যেন জুড়ে গেছে! একদম অক্ষত। শুধু শেষের শব্দটা কাটা।
মিলিয়ে দেখি নি কিন্তু জানি ওটা দ্যা এন্ড!
(সমাপ্ত)

Leave a comment

February 1, 2021 · 4:26 pm

ছোট খাটো দুঃখ

আমার ছোট-খাটো দুঃখ গুলি কি জানো?
পলকে উঁকি দেয়,লুকিয়ে ফেলি,যেন না ভাব লোক দেখানো!
ঠিক চোখের জল ফেলবো তেমন দুঃখ তো না,
বুকে কাঁপন ধরায়,জ্বালা করে চোখের কোনা।
শীত শেষে বসন্ত আসার মত  হালকা শিশির জমে,
যখন তখন উষ্ণতা কমে-বাড়ে, বাড়ে-কমে।

না। এদুঃখে তোমার ভুমিকা সামান্য।
তুমি বড় দুঃখের কারন,কান্নার প্রামান্য!
এসব ছোট খাটো দুঃখ, ছোট খাট কষ্ট
তুমি দায়ী কিনা সে কারন অস্পষ্ঠ।

চোখ চোখ পড়লে চোখ ফিরিয়ে নেয়া,
দেখেও না দেখার ভান করে ফাকি দেয়া।
নিরন্তর বেজে চলা ফোন, না ধরা,
তোমায় নিয়ে লেখা কবিতা, না পড়া,
ঠিকানা জেনেও না জানার অজুহাত
কথার খোঁচায় সুক্ষ্ম সুতীব্র আঘাত..
আরও আরও কত আছো, না থাক।
মনঃকষ্ট মনেই তোলা থাক।

আমার ছোট-খাটো দুঃখ কত, কি হবে তোমার জেনে
শুধু যদি ভালবাসতে মুখ বুজে নিতাম মেনে!

Leave a comment

January 31, 2021 · 3:02 pm

বিশ-পচিশ বছর পর

আজ হতে বিশ বা পচিশ  বছর পর আমাদের আবার দেখা হবে।
বিদায়ী শীতের পড়ন্ত বিকালে যখন শিশির ঝড়ার প্রস্তুতি চলছে…
তোমার ঝাকড়া কোকড়া চুল তখন শীর্ণ শুকানো ঝড়না।
আমার খাড়া মেরুদন্ড নমনীয় হয়ে ঝুকে গেছে একদম।
চোখের দৃষ্টি খুব উজ্জ্বল আলোয় কিছু দেখে, দেখে না।
শব্দ আর প্রতিধ্বনীর পার্থক্য করতে পারে না শ্রবন ইন্দ্রীয়,
যা শুনি কি আসলেই শুনি?
তবু তোমার পদধ্বনী ঠিকই চিনতে পারবো,
তুমিও দুর থেকে দেখেই বুঝবে, এটা আমি!

কেমন আছো- দুজনেই এক সাথে জানতে চেয়ে থেমে যাবো।
জানা হবে না বা হয়ত জানাই আছে।

যাই- সন্ধ্যা নেমে এলে ফিরতেই হয়।
যাই- এরপর আর আসা নেই, আশা নেই।

সে রাতে অনেক দুরে থাকা দুই বৃদ্ধ বৃদ্ধা স্বপ্নে একজন আরেকজনকে দেখবে।
স্বপ্নই আসলে সত্যি।
সত্যই আসলে স্বপ্ন।
সারা জীবনের দুরত্বে কাছে থাকা দুজনের
দেখা হওয়া বা না হওয়ায় কি আসে যায়!

Leave a comment

January 26, 2021 · 10:15 pm

এভাবে ডোবাই স্বাভাবিক

আমার জলে ডুববার দিনে
তুমি ছিলে শুষ্ক ও স্বাভাবিক
চোখে না বেদনার চিহ্ন, না স্বান্তনা
ভালবাসা ভুল বা এভাবে ডোবাই ঠিক!

বিনুনীতে বেঁধেছ কোকড়া চুল
চোখে কাজল, কপালে কালো টিপ.
কমলা শাড়িটায় যা  মানায় খুব।
আমি হাবুডুবু জলে খুঁজছি অন্তরীপ।
     
এমনই কি কথা ছিল? 
বলবে- কথাই যখন দেই নি..
অথচ অস্ফুট কথা, চাউনির প্রশ্রয়,
আমি তো না বুঝে এ পথ নেই নি!

তোমার যা ছিল নিছক কৌতুক,
সময় কাটানো,অভিনয়,নাটকে খেলায়.
আমি তাই জীবন ভেবে নিয়ে 
ডুবতে বসেছি এই অপরিনত বেলায়।

আমার কান্নায় তবু তুমি অনুভুতিহীন
তোমার চোখে সুখ করে চিকচিক
এ হতাশা পোড়ায় জলের মাঝে
ভালবাসা ভুল বা এ ডোবাই স্বাভাবিক!(দেবতাখুম)
২২।০১।২১

Leave a comment

January 25, 2021 · 2:52 pm

মহাকাল

প্রতিদিনই কিছু না কিছু চুরি হয়।
কিছুটা সময়, কিছুটা দুঃসময়..
কখনও ফেল্ না, কখনও খেলনা।
কেউ কিছু কেড়ে নেয়,
ভালবাসার জেরে নেয়,
দেখি, অভিমান করি,
না দেখার ভান করি।
নিজেও নিজেকে লুকিয়ে
কত হিসাব না চুকিয়ে
থাকি ঠিক ঠাক।
কি আর হবে, থাক!

এভাবে একদিন সব নিঃশেষ,
মহাকালে মিশে কালের অংশবিশেষ!

Leave a comment

January 10, 2021 · 9:39 pm

২০২০

২০২০

বলেছিলাম চলেই তো যাবে,
হাতটা একটু ধর না!
সে কিন্তু ধরে নি,
যদিও আসে নি তখনও করোনা!
তারপর তো কথাই বন্ধ
দিয়ে করোনার দোহাই
দেখা হবার তো প্রশ্নই নেই
একা একা রোদ পোহাই।

ফোন করলেও ধরে না
ফোনে নাকি করনা ছড়ায়
জানিনা ও আসলে করনাকে,
নাকি আমাকেই বেশী ডরায়!

নতুন নতুন শব্দ শিখেছি
উহান,মাস্ক,সামাজিক দুরত্ব,
ওয়েবনার, কোয়ার্নটাইন
আর দুরে থাকবার গুরুত্ব!

মৃত্যুর যেন মিছিল নামলো
ঝড়ে গেল কত প্রিয় নাম
বেশীর ভাগই ভাল লোক দু একটা
চোর বদমাশ ও হারালাম।

দুহাজার কুড়ি বললেই পারে,
ডাকে দু হাজার বিশ
বিশ সাথে বিষের যোগ যে
ইঙ্গিতে ফিসফিস !

বছরটা গেল যাক বাঁচা গেল
পার  হয়েছি মহামারী
একদিন যাব, যেতে তো হবেই
ধীরে বা তাড়াতাড়ি-
তবু তো বলবো বুক ফুলিয়ে
করোনা তো আর পারেনি
করনা-সুযোগে তুমি সরে গেছ
তুমি হেরেছ প্রেম হারে নি।

Leave a comment

December 20, 2020 · 7:26 pm

রাঘব-বোয়াল ও শোল

আর একটুও পানি নেই। মেশিনে সবটুকু পানি চুষে পাশের মহালে ফেলেছে। প্রচুর মাছ উঠেছে। গনাই ছিল তবু  গনিভাই আবার গোনে!সতেরোটা ডুলা। বিভিন্ন রকমের মাছে একেবারে ভরা ভরা।

ফজর পড়ে শুরু করেছে এখন জোহরের ওয়াক্ত যায় যায়!
“রহমত ওদের এবার উঠতে বল। আর তো মনে হয় মাছ নাই।”
“শৈলগুলো কাঁদার মধ্যে এমন ভাবে লুকিয়ে থাকে..”
“অনেকক্ষন তো খুজলো। এখন তো আর মাছ পায় না।”
“ওই তোরা উঠে আয়। আজকের মত শেষ।”
এর মধ্যে একজন ডান হাত দিয়ে বাম হাত চেপে ধরে উপরে আসে। হাত ফুলে আছে। বড় ভাই হাতে থাকা স্প্রেটা ঝাকিয়ে একবার ফুস মেরে দেয়। ব্যাস সব ব্যাথা গায়েব। 

অবশ্য একেবার গায়েব না, বাসায় যা তারপর শুরু হবে! এখানের দায়িত্ব গনিভাইয়ের। বাসার দায়িত্ব তো না। ওখানে গিয়ে মর্।

এখন আর মাথার হিসাব নাই। তিনবারের এমপি গনিভাই গত দুইবার দল থেকে নমিনেশন পায় নাই। গতবার স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়িয়ে জামানত গেছে। সব গাদ্দার!

আল্লাহর কি লীলা। প্রতি বছর এভাবে জল শুকিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায় আবার পরের বছর ঠিকই মাছে ভরে যায়।  ভাবলেন গনি ভাই।
ছেলেটা কানাডায় আছে।  কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছে। একটা বাড়ি কিনে দিয়েছেন, করোনার কারনে নাকি বাড়ি খুব স্বস্তা। আরেকটা কিনতে হবে। মাছের ব্যবসায় লাভ যাই হোক টাকা সাদা হয়।

“গনিভাই, এরা একটা করে মাছ চায়!” রহমত পাড় জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনের দিয়ে হাত দেখায়!
“মাছ চায় মানে? এগুলো কি ত্রানের মাছ।  কড়কড়ে দশ হাজার টাকা দিয়ে এ জলমহাল লীজ নিয়েছেন।

“ভাই, ওদের বরং বলি পুকুরে নেমে যদি কিছু ধরতে পারে ধরে নিক!”
ভাই পিছন ফিরে দেখলেন। না আর মাছ পাবার সম্ভবনা খু্ব কম।

“বল। এখন কেউ কিছু পেলে ধরে নিক!”
মুহুর্ত্বে ঘোষনা হল। দশ বারো জন এলাকার লোক যারা সকাল থেকেই ছিল মালকোচা মেরে পুকুরে নেমে গেল।

দু একটা শিং যে গুলো কাদায় লুকিয়ে ছিল তাও একে একে ধরা পড়তে লাগলো।
“কি রহমত তোমার লোকরা এতোক্ষন মাছ পেল না তো এরা পাচ্ছে কই?”
“ভাই, কোথায় গিয়ে  যে লুকিয়েছিল! তবে সব ছোট ছোট। “

এর মধ্যে হৈচৈ শোনা গেল।  তের চোদ্দ বছরের একটা ছেলে পুকুরের মাঝ বরাবর হামাগুড়ি দিয়ে ছুটছে। জল কাদায় মাখামাখি। ওর সামনে একবার মাটির উপর একবার মাটির নীচে দিয়ে পালাচ্ছে একটা কিছু।
শেষ পর্যন্ত ছেলেটা ধরলো। একটা শোল। অন্তত দু কেজি হবে। শোল অনেকগুলো পেয়েছে কিন্তু এতো বড় একটাও না।
পাড় থেকে সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানালো।
গনি থমকে দাড়াঁলেন। নিজের মুখে ঘোষনা দিয়েছেন, ফিরিয়ে আনলে মান থাকে না আবার এতো বড় শোলটা ছেড়েও দিতে পারেন না।
“রহমত দেখতো শোলটা কত চায়!”
রহমত দৌড়ে ছেলেটার কাছে গেল।
“কিরো তোর নাম কি?”
“হাসান”ছেলেটা অনেক কষ্টে শৈলটা ধরে আছে। খালি পিছলে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করছে!
“বাবার নাম? “
“আখলাক।”
রহমত একটু চমকে ওঠে। আখলাকরা তো অনেকদিন এ গ্রাম ছাড়া।
আখলাকের বাবা গনির আপন চাচাত ভাই। গনি ভাই তাদের সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছেন। নির্বাচনের সময় গন্ডোগোলে আখলাক খুন হয়েছে সেও আট নয় বছর!
“হাসান মাছটা কতয় বিক্রী করবা? এই দুইশ ধরো।”
“বিক্রী করবো না।”
গনি ভাই ততক্ষনে কাছাকাছি এসে দাড়িয়েছেন।
“কি কত বলে?”
“বিক্রী করবে না নাকি!”
“বিক্রী করবে না?  মানে কি, কত চায়? পাঁচশ টাকার একটা নোট বার করে!”
ছেলেটা টাকার দিকে তাকায়ও না।
ভাল করে দেখেন গনি ভাই। চেহাড়াটা খুব পরিচিত ঠেকে!
“আখলাকের ছেলে”রহমত পাশ থেকে বলে।
গনি ভাই যেন কেঁপে ওঠেন।
জমিটা কিনে নিতে চেয়েছিলেন আখলাকের বাবা রাজি হয় নাই। গাড়ি এক্সিডেন্টে মরেছে।
আখলাক তার বিরোধী  ছিল। আখলাককে কিনতে চেয়েছিলেন..

“আপনাকে আমি চিনি। আপনি গনি দাদা। “
মুখে এক মুখ থুতু ছিটিয়ে মাছটা পায়ের কাছে ছুড়ে মেরে হনহনিয়ে চলে যায়!
শোলটা কাঁদায় ঢুকে যাচ্ছে!
গনি চিৎকার দিয়ে বলেন ধর ধর।
কাকে ধরবে রহমত ঠিক বুঝতে পারে না।



Leave a comment

December 14, 2020 · 4:05 pm

কবিতা কনিকা ২০১

এই নীরবতার সাক্ষী তোমাকে ভাবছিলাম।
এই নির্জনতার সাক্ষী
মনে মনে তোমায় খুঁজছিলাম।
বিশ্বাস না করলে নীরবতার কাছে শুনে নাও,
নির্জনতার কাছে যাও।

Leave a comment

December 14, 2020 · 3:16 pm

blessed devil

They kill children
in the name of protection
They kill infants
it is their fun.
They kill women
in the name of religion,
And men of different opinion.
With life they play with blood they feast
None says a word
because they are zionist.
they break every rule, every law and norm
every charter in every forum and form
and still they are praised in every news
because they were oppressed, they are jews.

Leave a comment

December 8, 2020 · 8:24 am

কবিতা কনিকা-১৮৮

ভাগ্যিস তুমি তোমাকে দেখতে পাও না,
আয়না তো শুধু প্রতিবিম্ব দেখায়,
নয়ত নিজের প্রেমে পড়ে,
তুমিও হতে আমার মত অসহায়!
it is a blessing that you can’t see yourself
the mirrior only shows reflection
otherwise you will be like me,
lost in passion.

Leave a comment

December 3, 2020 · 12:13 am

না ফেরা

১।
খট, খট খট!
এবার মনে হল ভুল না।  আসলেই দরজায় কেউ এসেছে।
দরজার কাছে গিয়ে হালিমা বলে ওঠেন, “কে, কে?”
“মা আমি মা। রওশন!”
হালিমা আবার তার ঘরে গিয়ে বিছানার উপর বসলেন।
নিশ্চিত ভাবেই ভুল শুনেছেন। মেয়েটা মারা যাবার পর প্রায়ই এমন হতো,রওশনের ডাক শুনতেন দৌড়ে যেতেন। সে দশ বছর আগের কথা।
অনেকদিন আর এমন হয় নি। কতদিন পর আজ আবার!

কিন্তু আবার দরজায় বাড়ি, মা ডাক।
হালিমা এক দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললেন।
রওশন দাড়িয়ে আছে। রওশনই তো, চেহাড়াটা যেন একই রকম আছে।। কালো বোরখা পরা, শুধু মুখটা খোলা।
হালিমা থরথর করে কাঁপছেন।

রওশন এসে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারপর দুজনেই দুলে দুলে কাঁপছে। স্পর্শ করতে পারছেন তবু দুজনই ভাবছে এটা স্বপ্ন!


হোসেন বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। খুটখাট শব্দে ঘুম ভেঙে উঠে গিয়ে উকি দিয়ে দেখল। প্রথমে কি হচ্ছে বুঝতে পারছিল না। এ সময়ে কে এল?
কে যাকে হালিমা এভাবে বুকে চেপে আছে!
মুখটা দেখতেই বুকের মধ্যে একটা ভয়ংকর চাপ অনুভব করলো।
হা হয়ে খুলে থাকা সদর দরজাটা বন্ধ করে কোন রকমে চেয়ারে গিয়ে বসলেন। ডান হাতটা বুকের বা দিকে চেপে রেখেছেন!
“কে, কে তুই?”
রওশন এক হাত বাড়িয়ে তার হাত ছোঁয়ালো। “বাবা, বাবা আমি ফিরে এসেছি!”
হোসেন রওশনের হাতটা দুহাত দিয়ে চেপে ধরলো। সত্যি এটা রওশন। রক্ত মাংসের রওশন।


আজ থেকে দশ বছর আগে এক বিকালে চাচার বাসায়,যাবার কথা বলে ষোল বছরের রওশন বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে নিখোঁজ। পাঁচদিন পর গ্রামের এক পরিত্যাক্ত বাড়ির পুকুর পাড়ে তার পচা গলা লাশ পাওয়া যায়। বাবা নিজে সে লাশ সনাক্ত করেন। বাড়ির গোরস্থানে সে লাশ সমাহিত করা হয়।

হোসেন, ভাইএর নামে হত্যা মামলা করে।  ভাই ও তার দুই ছেলে যাবজ্জীবন খাটছে। ভাইএর জমি সবটা তার দখলে ছিল। তিন ছেলে সব জমি ভাগ করে নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে। শুধু বাড়িটায় তারা দুজন থাকেন।
সময়ের কাটা যেন উল্টা দিকে ঘুরে হঠাৎ থেমে গেছে।

৪।
দশ বছর আগের এক বিকালে রওশন চাচার বাসায় যাবার কথা বলে কবিরের সাথে পুকুর পাড়ে দেখা করতে যায়। কবির দর্জির সহকারী।  সালমান শাহের মত চেহাড়া। চুল বাক ব্রাশ করে যখন বের হয় কে বলবে ও নায়ক না।
কাপড় বানাতে গিয়ে ওর সাথে পরিচয়। এত সুন্দর করে কথা বলে রওশনের ওকে ভাল লেগে যায়।
ওই দিন ওর সাথে সিনেমা দেখতে যাবার কথা।  সবার চোখ এড়িয়ে পুকুর পাড়ে এসে বসে থাকে।
বলা সময়ের চেয়ে দেরী করে কবির আসে। তারপর বাসে উঠে শহরের দিকে যায়।
সালমান শাহের সিনেমা শেষ করে ওকে নিয়ে কবির খাবার দোকানে বসে। কেউ যেন ওর চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছিল। একসময় ও টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়ে।

তারপর যখন ওঠে দেখে ওর মতই আর বারোজন মেয়ে একটা ঘরে। সকাল না রাত বোঝা যায় না। ঘর বাইরে থেকে বন্ধ!
জানালা খুলে একজন  কয়েক প্যাকেট বন রুটি ছুড়ে দেয়। পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা। ও একটা ভাগে পায়।
কিছুক্ষন পর একজন লোক ঘরে ঢোকে। হাতে চকচকে ছুরি। ওদের উদ্দেশ্য বলে, কথা না শুনলে…..
একটা নৌকায় করে নদী পার হয় তারপর গাড়িতে কোলকাতা।তারপর……

৫।
“এতো দিন কোথায় ছিলি? কোথা থেকে আসলি?” হোসেন কান্না সামলে নিয়েছেন।
“বাবা কবির আমাকে ইন্ডিয়ায় পাচার করে দিয়েছিল। সেখানে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলে ছিলাম বহুদিন। এক উকিলের সহায়তায় মুক্তি পেয়েছি। তারাই দেশে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেছে। ঢাকার একটা এনজিও আমাদের থাকার ব্যাবস্থা করেছে।
ভেবেছি আপনাদের ঠিকানায় চিঠি লিখি জানাই কিন্তু মনে হয়েছে আপনারা আমায় ভুল বুঝবেন। তাই নিজেই এলাম। ভাবলাম আপনাদের পা জড়িয়ে ধরলে ক্ষমা মিলবে…

ক্ষমার কথায় কি যেন হল, হালিমা ওর হাত ছেড়ে হোসেনর পিছনে এসে দাড়ালো।
মেয়েটা অন্য পথে বহুদূর চলে গেছে, তারাও হেটেছেন আরেকটায়। এখন আর মেলার সুযোগ কি আছে!
“তুমি আমাদের কাছে মৃত। আমরা অতীত খুড়ে কোন নতুন ক্ষত বার করতে চাই না। তুমি এ মুহুর্ত্বে আমাদের বাড়ি থেকে, এ গ্রাম থেকে চলে যাও।  কেউ যেন তোমার মুখ দেখতে না পায়!
হয়ত ভাগ্য, হয়ত ভুল, কাওকে এমন জায়গায় টেনে নিয়ে যায় যেখান থেকে ফেরা যায় না। ফেরা চলে না।”


বোরখায় মুখ ঢেকে রওশন বের হয়ে আসে। একটা ক্ষীন আশা ছিল, বাবা মা হয়ত ওকো বুকে জড়িয়ে নেবেন।
নিলেন কিন্তু রাখলেন না।
ওরা দশজন এক সাথে ওই এনজিওতে আছে। বাকিরাও বাড়িতে ফিরতে চেয়েছে।
তাদেরও প্রায় একই অবস্থা।


হোসেন প্রতি দিন ফজর নামাজ পড়ে ফেরার সময় মেয়ের কবরে সুরা ফাতেহা পড়ে আসেন।
আজ  দ্বিধায় পড়লেন। কিন্তু সেটা সাময়িক।
ঘুরে গিয়ে কবরের সামনে দাড়ালেন।
আলহামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামিন…

এটাই তার আসল মেয়ে ওটা একটা দু:স্বপ্ন!
দুচোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে।
পড়ছে দশ বছর ধরেই, প্রতিদিন।
তবে আজ তা বাধ ভাঙা।

Leave a comment

December 1, 2020 · 9:58 pm

করুনা

“বড়দা, বড়দা ঘুমাইসো নি?” মজনু উঠান থেকে হাক দেয়।
“কেন রে, কি হইসে, মার জ্বর কি বাড়ছে?”
“একটা পরামর্শ ছিল, মেজদাও আছে।”
“যাও না। নিশ্চয়ই দরকারী কিছু।”
বজলু অবাক হয়ে কুলসুমের দিকে তাকায়। দেওর ভাবীর মধ্যে সাপে নেউলে সম্পর্ক অথচ আজ যেন কেমন সমঝোতার গন্ধ পায়।
খালি গায়েই বের হয়।

মজনু আর ফজলু দরজার সমনেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওকে দেখে বলল, “চল দাদা সামনের দিকে যাই। যাইতে যাইতে কথা বলি।”
বজলু কিছু না বলে ওদের সাথে হাটতে থাকে।
কি মতলব কে জানে! এর আগে আরেকবার এমন পরামর্শের কথা বলে খালের পাড়ের জমিটা বিক্রী করালো। বিদেশ যাবে অনেক টাকা রোজগার করবে। বিদেশ যাওয়া তো হলই না মাঝখান থেকে জমিটা গেল!

“দাদা, মায়ের কিন্তু অসুখটা খারাপ! মানা করসিলাম যাইতে, তবু মরা বাড়িতে গেল। সরকার তো সাবধান করসে, খুব খারাপ রোগ! সারা দুনিয়ায় পাখীর মত লোক মরতেসে!”
ফজলু এ পর্যন্ত কোন কথা বলে নাই। মজনু থামতেই বলল,”দাদা শুনছো না এই রোগের নাম, করুনা!”
বজলু মাথা নাড়ে। এ রোগ নিয়ে বাজারে কয়দিন খুব কথা হচ্ছে। প্রথমে শুনছিল শুধু বিধর্মীরাই মরবে এখন তো নাকি মুসলমানও সমানে মরতেসে!
“শুনছি। খুব খারাপ অসুখ, কোন চিকিৎসা নাই।”
“মায়ের তো মনে হয় এই রোগই হইসে!”
“তোরে কইসে!তুই কি ডাক্তার?”
“এই রোগ ধরতে ডাক্তার লাগে না।জ্বর কাশি আর নাকে গন্ধ নাই। এই লক্ষন থাকলেই এই রোগ!”
বজলু কোন জবাব দেয় না।
ফজলু এতোক্ষন চুপ ছিল। এবার মুখ খোলে।
“এই রোগ হলে পুলিশ ঘর বাড়ি সিল করে দেয়। এক ঘরে করে। রুগীকে গেরেপ্তার করে নিয়ে যায়। এমন কি মারা গেলেও লাশ ফেরত দেয় না।”
“তো এখন কি করবো?” বজলু চিন্তিত হয়ে পড়ে।
“দ্যাখ দাদা, ঘরে আমাদের বাচ্চা পোলাপান আছে। এই খারাপ রোগ নিয়া এক বাড়িতে থাকা ঠিক না।”
“মাকে তাহলে হাসপাতালে দিয়ে আসতে বলিস?”
“দাদা,তুমি ব্যাপারটা বোঝ নাই। হাসপাতালে তো এই রুগী নেয় না। বরং এই রোগ হইসে জানতে পাড়লে… “
“ওই যে কইলাম এক ঘরে করবে আর..”
“তাহলে?”
“শুনতে খারাপ লাগে তবে একটাই সমাধান আছে। তুমি যদি রাগ না হও তাহলে বলি।”
“রাগ হবার কি আছে? যত মুশকিল তত আহসান!”


তিন ছেলে মাকে নিয়ে নৌকায় উঠেছে। মজনু আর ফজলু নৌকা বাইছে আর বজলু মাকে ধরে বসেছে।
একটা পুটলীতে দই চিড়া বাঁধা। আর এক পাশে বিছানা-পত্তর।

“মা, জ্বর টা তো কমসে, বুকে কি কষ্ট আছে?”
নুরজাহান বিবি, কপালের উপর বজলুর হাতটা ধরে হালকা চাপ দেয়।বিরবির করে বলে “হ্যাপের টানের মতরে বাবা!”
বজলু চেষ্টা করেও চোখের জল আটকাতে পারে না।
কেওড়ার বনে নাও লাগে। বিছানা পাতি নামিয়ে তিন ছেলে হাত ধরে মাকে নামায়।
“মাগো তোমার খুব খারাপ অসুখ। মা। তুমি বাড়িতে থাকলে সবাই আমাদের এক ঘর করবে, পুলিশও তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে!”
নুরজাহান অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকে!কথা গুলো বুঝছে কিনা বোঝা যায় না।
“মা আমাদের মাপ করে দিস। তোকে আমরা এই খানে রেখে যাচ্ছি। আল্লাহ বাঁচালে বাঁচবি!”
নুর জাহান যেন একটু হাসলেন। মনে হলে বুকের চাপটা কমে গেছে।
ছেলেরা একটা গাছের নীচে কাপড় টাঙিয়ে বিছানা করলো তারপর তাকে শুইয়ে কাথা মুড়ি দিল।
“মা যাই।” তিনজনই মায়ের পা ছূঁয়ে সালাম করলো। তারপর নৌকায় উঠে বসলো।


আগের মত ফজলু আর মজনু নৌকা বাইছে। কিন্তু তাদের যেন শক্তি নেই।
বাকের কাছে আসতেই বজলু চিৎকার দিল।”নৌকা ঘুরা, বাঁচলে এক সাথে বাঁচবো!”
ওরাও যেন এই কথাটার জন্যই অপেক্ষা করছিল। নৌকা বাইচের চেয়েও দ্রুত সেই কেওড়া বনে এসে লাফিয়ে নামলো।

বিছানাপাতি সব তেমনই আছে। মা নেই।
কোথাও নেই।

Leave a comment

November 29, 2020 · 3:27 pm

অনেক দিন


অনেক দিন পর দেখা হল দৈবাৎ!
কি করছে একা,এখানে..
এতো রাত!
অনেক দিন পর কথা হল, এই হাই-হ্যালো
কে কোথায় ছিল কার কি থাকল, কি গেল!
অনেক দিন কথা হয় না, বহু বৎসর।
আসলে এখনতো আমরা একবারে পর !
অনেক দিন দেখা হয় না, এক বরষায়,
যাই বলে চলে গিয়েছিল,ধীর পায়।
তারপর অনেক দিন, অনেক দিন!
দেখা হয় নি, কথা হয় নি, দুজনে অন্তরিন-
নিজ নিজ মনে, নিজেস্ব ভুবনে
ডুবে থেকেছি, ভুলে থেকেছি
আর হিসাব রেখেছি-
দেখা হয় না, কথা হয় না অনেক দিন!

Leave a comment

November 25, 2020 · 11:42 pm

ভালবাস না কথাটা বোধ হয় ঠিক না।

ভালবাস না কথাটা বোধ হয় ঠিক না।
——–
তুমি একটুও ভালবাসো না কথাটা বোধ হয় ঠিক না।
যদিও প্রথমে মনে হয়েছে তুমি ততটা আন্তরিক না
পরে বুঝেছি,  কন্ঠ কাঁপছে, না ঠিক স্বাভাবিক  না।
তুমি একটুও ভালবাসো না কথাটা বোধ হয় ঠিক না।

দূরে সড়ে থেকে ভুলে যাবে একদিন  সূত্র ঐকিক না,
এক হওয়া ভাগ্যে নেই, বিচ্ছেদও ঐকান্তিক না।
ঠিকই ভালবাসো, হয়ত আমি যতটা ততধিক না
তুমি একটুও ভালবাসো না কথাটা বোধ হয় ঠিক না।

Leave a comment

November 22, 2020 · 7:50 pm

ভাল থাকুক এ প্রার্থনা

বাতাসে দোল খাওয়া পদ্মের মত চোখ দোল খায়
দূরে কোথায় সে যে চায়, কারে চায়?
বোঝা যায় না তবু ঝড়ের কাছে প্রার্থনা-
তার কোন ক্ষতি করো না।
আমায় না চায় না চাক,
অন্য কারো কাছে যাবে সে যাক,
সব দোষ আমার তার তো না-
তবু ভাল থাকুক আমার প্রার্থনা..
বর্ষায় জল বাড়ে অথবা চোখের জলে
ভাসার আর ডোবার লুকপলান্তি চলে
আমার হলে সে হয়ত হারতো না,
তবু ভাল থাকুক এ প্রার্থনা।

Leave a comment

November 21, 2020 · 10:20 am

but your lies

you lied all along,
you were such an actress!
i truly loved but
it was your performance.
never did i recognise,
never did i realize?
oh yes, several times,
perhaps i loved your lies.

Leave a comment

November 20, 2020 · 9:57 am

হয়ত যাব চলে

তবুও কয়েকটা বছর বেঁচে থাকতে চাই,
তোমার অবহেলায়,সুদৃষ্টি না হয় না পাই!
ফিরিয়ে নেয়া চোখ পিছু ফিরবে না কভু..
সময়ের শিকড়ে জল দিয়ে গেছি তবু
ফুল দেখবো বলে,অথচ ফুল ফোটেই তা না,
হয়ত কারো জন্য যাদের ভাগ্য রেখা টানা।
এ বছর বর্ষায় যে কেয়া ফোটে নি
যে কাঁটাবৃক্ষ পুষ্পশোভিত হয়ে ওঠে নি,
রয়ে গেল তোমার মন পাবার জন্য
সুর-সংগীত, কবিতা নদী, পুষ্প, অরন্য
যার থাকার সংবাদ নাও নি স্বেচ্ছায়
তার না থাকায় তোমার কি আসে যায়!

আরও কয়েকটা বছর বেঁচে থাকতে চাই
যদি ফেরে তোমার মন, আশা অযথাই।
একটা না পাওয়া পেয়েছিলাম বলে
সারা জীবন যত্নে রেখে হয়ত যাব চলে।

Leave a comment

November 18, 2020 · 11:03 pm

অপ্রেমে কবি

“কবিদের দুই চোখে দেখতে পারি না।”
তখনও জানা হয় নি, নাম দেই কারিনা!
এদিকে পড়ে গেছি  তার হাসির প্রেমে,
“আমিও দেখতে পারি না” বললাম থেমে!
“যেমন নোংরা থাকে তেমনই অগোছালো
সাদা পান্জাবীতে দাগ কালো কালো।”

“আসলেই কবি রা এক একটা খচ্চর
এক জামা না ধুয়ে পরে সারা বচ্ছর!
চুল আচড়ায় না, তেল দেয়া দুরে থাক
শেষ সেম্পু করেছে কবে,জানে আল্লা পাক!
মুখে কাচা পাকা দাড়ি, দৃষ্টি উদভ্রান্ত।”
“কি যে খারাপ দেখায় যদি তারা জানতো!”

“তারা গ্রীষ্মের রোদে দেখে বৃষ্টির নৃত্য,
ফুলিয়ে ফাপিয়ে বানায় বিন্দুকে বৃত্ত।
মুখে মাস্ক পরে না করোনার এ মড়কে
দশদফা দাবীতে দাঁড়িয়ে যায় সড়কে-
দিতে হবে, দিয়ে দাও, নয় যাও নরকে
পাড়ার পাগল ভাবে কার চেয়ে বড় কে!”

“আরে কবি এসময় এখানে কি করো ?
যে গরম পড়েছে,নাও আইস ক্রীম ধরো !”
কি কপাল,হারুনের তখনই আসা লাগলো
কারিনা ভ্রু কুচকে একদৌড়ে ভাগলো!

এ ভাবে ব্যার্থ হয়েছে প্রেম যুগ যুগ ধরে
চেনা বা অচেনা বন্ধুর খপ্পরে পড়ে!

Leave a comment

November 15, 2020 · 6:08 pm

তের নদী দূরের কাওকে


(অনুপ্রেরনা Sakil Malik)
তোমার চিবুকের ঘামে
বিকেলের সোনা রোদ,
কিছুদূর নামে
তারপর থামে।

ভয়!
এখানে থামতেই হয়,
রাত নেমে এলে-
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে
দুচোখ তাকিয়ে থাকে আরও দূরে আরও
যেখানে অন্ধকার গাঢ় থেকে গাঢ়..
মুখে না বললেও জানি
আমায় খোঁজ কত খানি!

হয়ত অনুরাগ!
আঙ্গুলে পেচানো চুলের অগ্রভাগ
আহ্বানের মত দোলে
ঢেউ তোলে।
তেরো নদী দূরে আছ জানি,
তবু আছো কাছে কত খানি,
শুধু জানে দুজন,
এক সময়ের দেয়া নেয়া মন,
আজও প্রেম জমিয়ে রাখে
আজও অপেক্ষায় থাকে!

Leave a comment

November 12, 2020 · 8:59 pm

দেয় না জবাব


সে আমার কোন প্রশ্নেরই দেয় না জবাব!
উত্তর জানা নেই নাকি শব্দের অভাব?
আমার মনের কথা সবই শুনে নেয়।
সব কৈফিয়ত সে গুনে গুনে নেয়।
আমার প্রশ্নে চুপ থাকে দেয় না জবাব
উত্তর জানা নেই নাকি তার শব্দের অভাব!
আমায় তবে কি আসলে সে ভালবাসে না,
হ্যাঁ না, কিছুই তো ঝেড়ে কাশে না!

চোথের বুঝবো ভাষা সে সম্ভব নয়
তারও দৃষ্টিও যে খুব রহস্যময়-
একসাথে খেলা করে রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়
চোখে চোখ পড়লে সে পলায়নপর
এ তার কি এক অদ্ভুত স্বভাব
সে আমার কোন প্রশ্নেরই দেয় না জবাব!

Leave a comment

November 10, 2020 · 6:10 am

কবিতা কনিকি-২০০

এদিক দিয়ে যখন যাবে, রমনা পার্কের কাছটায়
দু দন্ড জিড়িয়ে নিও ওই স্বর্নচাপা গাছটায়।
হয়ত তোমার পড়বে মনে এখানটায় বসে,
কত তোমার গালি খেয়েছি একদম বিনা দোষে!
কত দিনের বৃষ্টিতে ভেজা, কত মান- অভিমান
এখানে জমা পড়ে আছে স্মৃতির গোরস্থান!
আজ তুমি আছো আজ আমি নেই
চলছে বাকি সব থামা থামি নেই,
তাই চাই একটু থামো আমায় ভেবে
জানি ব্যাস্ততা আছে, বিদায় নেবে
আমার তো এখন অখন্ড অবসর
তোমার কথা মনে পড়ে একটু পরপর!
দীর্ঘশ্বাস হয়ে ঘুরে ফিরে আসি
এখনও তোমাকে তেমনি ভালবাসি।

Leave a comment

November 4, 2020 · 11:22 pm

অন্য বাগানের ফুল

প্রায়শ্চিত্য করতে চাই,
ভালবাসাকে সাথে নিয়ে সহমরনে মরতে চাই।
প্রতিটি নিশ্বাসে তোমায় স্মরন করি,
গভীর দুঃখবোধকে বরন করি।

বললে আমরা বন্ধু, রেখা নই শুধুই দুটি বিন্দু!
অথচ আমাদের মাঝখানে তের নদী সপ্ত সিন্ধু!
তবু তোমার নিশ্বাসে বুকের উঠা নামা দেখি,
তুমি দেখ কি জানিয়েছ সে কি?
হয়ত দেখ, হয়ত দেখ না
আমাদের ভালবাসা হয়ত একও না।

একেকটা নিস্প্রান শীতকাল বছর জুড়ে রাজ করে,
মনে একটা বিষন্নতা এমন ভাবে কাজ করে,
বোঝাতে পারিনা তোমাকে, ভুল বোঝো!
হয়ত টেরই পাওনা, হয়ত স্বান্তনা খোঁজো।
তোমার দীর্ঘনিশ্বাসের আদ্রতা সে কি আমার মনের ভুল?
একবার পাপড়ি মেলে দেখো অন্য বাগানের ফূল!

Leave a comment

October 27, 2020 · 8:10 pm

স্বল্প ব্যাবহৃত স্বামী

এক পীরবাবার দাঁত তুলেছিলাম। ব্যাথা পান নি বলে খুশী হয়ে ফিসের সাথে নিজের সার্টটা খুলে দিয়েছিলেন। আতরের গন্ধ মাখা বিদেশী ব্রান্ডের শার্ট!  বাবা ব্যান্ড ছাড়া কিছু ব্যবহার করেন না।
সাথে থাকা হাত পা টেপা ভক্তরা লোভাতুর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। যাবার সময় পিছন থেকে বলে গেল- আপনি খুবই ভাগ্যবান। আমরা দশবছর বাবার সেবা করছি আজ পর্যন্ত তার কাছ থেকে কিছু পাই না। এই শার্টের যোগ্য সন্মান দিয়েন। এই শার্ট পরে গেলে যে কোন কাজ সহজ হবে।

বাবার সাইজ আমার কাছাকাছি। ছোট বড় হলেও কিছু যায় আসতো না। যেদিন বড় শার্ট পরি, কলিগরা বলে, আপনি শুকিয়েছেন!
আর যেদিন ছোট শার্ট পরি তারাই বলে গেইন করেছেন।

শার্টটা প্রথমে লন্ড্রিতে পাঠালাম। তারপর বাসায় ঢুকালাম। নতুনের মত লাগছে।আসল ঘটনা শুনলে বৌ বলবে -এ বাড়িতে হয় তুমি থাকবা নয় তোমার শার্ট!
খুব সাবধানে আলমারীতে রেখে দিলাম।সামনে প্রমোশনের পরীক্ষা আছে। শার্টটা কাজে লাগবে।
হঠাৎ খেয়াল করলাম শার্টটা নেই।
এবং সাথে আরও কিছু শার্টও গায়েব। অদ্ভুত ব্যাপার!

দাড়ি কাটি না তাই বলে গিফটের আফটার শেভ লোসান তো আর ফেলে দিতে পারি না! নেই! সেগুলোও নেই।

বুঝলাম না। বাবার শার্টের সাাথে কি কোন বেয়াদবী হলো!
দিন দিন সমস্যাটা বাড়ছে। এর পর জুতার আলমারিতে ধরলো। সকালে হাটবো বলে দামী কেডস কিনেছিলাম। একদিনও পরি নি। হাওয়া।
একটা এক্সট্রা চশমা ছিল, হদিস নেই।একগাদা টাই ছিল। একটাও নেই। সাপের চামড়ার মানিব্যাগ গায়েব!
এরপর হয়তো টাকাও গায়েব হবে। হয় না যে তাই বা কে জানে! অবশ্য এটা এ ঘটনার আগেও হতো।  মনে মনে বৌকে দুষতাম।
বাধ্য হয়ে বৌকে বললাম।
পীরসাহেবের তো ঠিকানা রাখি নি। বোধ হয় অমর্যাদা হয়েছে। মাপ চাইতে হবে!
বৌ শুনলো। ভাবান্তর নেই। বলল- চিন্তার কিছু নেই। এগুলোর কোন দরকার ছিল না তাই ‘কমদাম ডটকমে’ বেঁচে দিয়েছি!

চিন্তা করা যায়! বাবার আমলের স্ক্রু ড্রাইভার, ড্রিল মেশিন কিছু নেই।
কি করা।
পড়েছি বৌএর হাতে, এভাবেই থাকতে হবে সাথে!
তবু সাহস করে বললাম, একবার জিজ্ঞাসা করে নিতে পারতে, আমার লাগবে কি না।
সে কোল্ড বিফের মত একটা ঠান্ডা দৃষ্টি হেনে বলল- তোমার ভাল কি তুমি বোঝ না আমি বুঝি্?
আর আমাকে না জানিয়ে কোন পীরের শার্ট এনে আলমারীতে রেখেছ, তোসাকে যে বিক্রী করে দেই নি, এটা তোমার কপাল আর পীরের দোয়া!

কিছু বললাম না। সিংহীর সামনে সিংহই কথা বলে না আর আমি তো কাপুরুষ!

বান্ধবী মল্লিকা সৌদি থেকে খুব দামী আতর এনে দিয়েছিল। তার একমাত্র স্মৃতি।মাঝে মাঝে বের করে দেখি আর ভাবি!
হয়ত আবার কোন দিন দেখা হবে…।  নেই।
নাহ তুমি সব বেঁচে দিতে পারো, কিন্তু মল্লিকার স্মৃতি!
চোখের পানি ঢাকতে জানালার সামরে গেলাম!
নাহ আর সহ্য করা যায় না। প্রতিশোধ নিতেই হবে।

রাতে বৌ একটি আরলি ঘুমায়। আমি তার মোবাইল খুলে ‘কমদাম ডট কমে’র মেম্বারর্স অনলিতে ঢুকে বিজ্ঞাপন দিলাম- একটি  ব্যাবহৃত স্বামী বিক্রয় হবে। পুরানো মডেল তবে ডিপেন্ডেবল।
দিতে না দিতেই একটা ম্যাসেজ আসলো- ধন্যবাদ একটি নতুন উপকরন সংযোজনের জন্য!

ঘুমিয়ে গেলাম। মনটা হালকা লাগছে। যেখানে দাম পাব চলে যাবো।
সকালে যখন ঘুম ভেঙেছে, বৌ তখন বাথরুমে।
ফোনটা রাতের জাগাতেই রাখা আছে।

ভয়ে ভয়ে কমদাস ডট কমে ঢুকলাম।
এর  মধ্যে এক হাজার লাইক। সাতসো কমেন্ট!
কমেন্টে স্ক্রল করলাম।
সবই প্রশ্ন!
সেকি কল ঠিক করতে পারে?
সে কি রাতে ময়লা ফেলতে যায়?
সেকি লকডাউনে ঘর মোছা সিখেছে?
সেকি বাথুরুম ধোয়?
রান্না পারে? লাইট লাগাতে পারে?
মাছ কাটতে পারে?
আরপর আরও আরও আপত্তিকর প্রশ্ন!

পোস্টটায় আলরেডি সোল্ড লিখে দিলাম।
পুরুষ হয়ে জন্মেছি,
বীর পুরুষও না, পীর পুরুষও না।
চোখের জল গোপন করেই চলতে হবে।

Leave a comment

October 25, 2020 · 6:57 am

পরাশ্রয়ী বা পরজীবি


কুকুরটা শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না। সবারই মন খারাপ।সেই নীল চোখের সাইবেরিয়ান হাস্কি। এক মুঠো ছিল, যখন এসেছিল, এখন তিনমাসে আরেকটু বড় হয়েছে।
কুকুর পালার ব্যাপারে আম্মার সবচেয়ে বড় আপত্তি ছিল, সেই আম্মাই একটু পরপর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন-কোথায় গেল!
নীচের দারোয়ানদের কয়েকদফা বকাবকি হয়েছে। তারা শপথ করে বলছে কুকুরটা গেট দিয়ে বাইরে যায় নি।

কুকুরটা আসার পর কয়দিন ছাদে রাখা হয়েছিল। একা একা থাকে, লাইট জ্বালিয়ে রাখলেও ভয়ে কান্না-কাটি করে, আম্মার জন্য ঘরেও রাখতে পারি না!
তাই নীচে রাখি হয়েছিল।

দুমাস পর আবার ছাদে রাখা হল, দুদিনের মাথায়ই গায়েব। আমার মন যত খারাপ মেজাজ খারাপ তার চেয়ে বেশী। যে কুকুরটা দিয়েছিল বলেছিল যত্নে রাখতে। কি জবাব দেবো!

আবার ছাদে গেলাম। বাচ্চাদের একটা খেলনা ঘোড়া কিনে দিয়েছিলাম, ছোট কিন্তু সত্যিকার ঘোড়ার মত দেখতে। এখন তো কাজে লাগে না। ছাদেই থাকে। কুকুরটা ওটার কাছে শুয়ে থাকতো, ওটার পায়ে কামড় দিত, কানে কামড় দিতো।
ঘোড়াটা আজকে একা। ওটার আসে পাশে দেখলাম।
নেই।
অর্কিডটা থেকে একটা বুনো অথচ সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে আছে।
কিছুদিন আগে বান্দরবনে বেড়াতে গিয়ে এই অদ্ভুত সুন্দর অর্কিডটা এনেছি। লাল টকটকে ফুল ছিল! দেখে মনে হল কাটেলিয়া গোত্রের। বেশ বড় ঝাড়!

আনার পর থেকে ফুল ছোট হয়ে গেল। কিন্তু থোকা ধরে ফুল হয়। বারান্দাতে রাখা ছিল। যথেষ্ট বৃষ্টি পায়। আমিও সুযোগমত পানি দেই, সার দেই।
তবু ফুল ধরা বন্ধ। গাছ কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে। পটিং বোধ হয় ঠিকমত হয় নি।সব পাতার ঝড়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ কি বুদ্ধি হল, কোরবানীর সময় হাড্ডি কোপানোর গুড়িটা ছাদের এক কোনে রাখা ছিল, তার মধ্যে গর্ত করে সেখানে পটিং করলাম।
দেখে আমার বৌ এর কি রাগ! ওটায় নাকি রক্ত শুকিয়ে দুর্গন্ধ হয়েছে। অর্কিড মরে যাবে।
আর ছাদে রেখে দিলাম। এখন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, ছাদেই ভাল থাকবে।

এরপর থেকেই অর্কিডটা সতেজ হতে থাকলো। ফুলও বড় হলো। বাংলাদেশী কোন অর্কিডের ফুল এতো বড় হতে দেখিনি। তবে রংটা কেমন যেন কালচে হয়ে গেল।

ছাদে আরও কিছু ফুলের টব আছে। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে আসে-পাশে খুজলাম। না নেই। ছাদে একসময় ইদুরের উৎপাত ছিল। কয়েক জায়গায় কল পাতা আছে। ইঁদুরগুলো বেশ বড়বড়। অবলিলায় ডিস আর ইন্টারনেটের তার বেয়ে চলে আসে। সেগুলো নাড়াচাড়া করলাম।
এসময় বাবা উপরে এল। ছাদের সবজি বাগানটা তারই।
“বাবা, কুকুরটা পাওয়া গেল?”
“সেটাই খুঁজছি। ইদুঁরের কল গুলোর আসে-পাশে দেখছিলাম।”
“ইদুরের কল তো এখন পাতা হয় না। বেশ কিছুদিন হল ছাদে একেবারে ইঁদুর নেই! লাউ গাছটা বাড়তেই পারতো না ইঁদুরের অত্যাচারে। এই কদিনে কি সুন্দর ছড়িয়েছে!”
বাবা মাচাটার দিকে আঙ্গুল দেখালো।

আমি ঘুরতে ঘুরতে অর্কিডটার কাছে চলে এসেছি। কেমন যেন মাতাল করা গন্ধ। মিষ্টি মিষ্টি! অর্কিডটার দিকে আলো ফেললাম। এটার রং দেখি বদলে গেছে। হালকা নীল। ফুলগুলোে আরও বড় বড়!

রাতের ভাত খেয়ে নিলাম। টেবিলে কেউ কোন কথা বলল না!

আগে বলি নি, কুকুরটা দিয়েছে বৌ এর বোনের ছেলে।
বৌ তখন আনতে চায় নি। সে বুকুর ভয় পায়। কিন্তু আনার পর থেকে যেভাবে ওটাকে ডিম সিদ্ধ আর দুধ খাওয়াতো, সাক্ষাত যেন মায়ের বাড়ির আত্মীয়!

ঘরে ঢুকতেই দেখি বৌ বালিশেে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। এটা পরিচিত ভঙ্গি। বিয়ের পর যে ভঙ্গিটাকে সবচেয়ে ভয় পেতাম। কারন এটা ফুপিয়ে কান্নার ভঙ্গি এরপর মিনিমাম তিন দিন কথা বন্ধ থাকবে।
পিঠে হাত রেখে বললাম, “মন খারাপ করো না। পাওয়া যাবে।”
সে এক ঝটকায় উঠে ঘর থেকে চলে গেল।
আমি বসে বসে কিছুক্ষন টিভি দেখলাম।
তারপর মনে হল ওর রাগটা এখনই ভাঙানো দরকার। বেশী বেড়ে গেলে ভাঙানো কঠিন হবে।
বাড়ান্দাতে গেলাম ও নেই। মা বললেন দরজা খুলে বাইরে যেতে দেখেছেন।
কুকুরের জন্য কি পথে পথে ঘুরছে!

ভাবলাম আগে ছাদে যাই।
ছাদ একদম নিস্তব্ধ। জুঁই ফুলের গন্ধের মত একটা গন্ধ ছড়িয়ে আছে। অর্কিডটার কাছে একটি ছায়ার মত।
আমি বাতি না জ্বেলে ওদিকে গেলাম।
পাপিয়া ওখানে দাড়িয়ে আছে।
না ঠিক দাড়িয়ে না যেন ঝুলে আছে। অর্কিডের শিকারে জড়িয়ে আছে ওর মাথা আর দু হাত।
আমি এক মুহুর্ত্ব সময় নিলাম তারপর গাছ কাটার কাচি টা নিয়ে এক দৌড়ে অূকিডের কাছে গেলাম। তারপর যত দ্রুত সম্ভব ওটার শিকর কাটতে থাকলাম।
শিকোড় গুলো আমার হাত জড়ানোর চেষ্টা করছে। গন্ধে শরীর কেমন অবশ হয়ে যাচ্ছে।
আমি নিশ্বাস বন্ধ করে আরও দ্রুত শিকর কেটে গাছ উপড়ে ফেললাম।
বৌ ছিটকে মাটিতে পড়লো। রক্তের মত লাল কষ ছড়িয়ে পড়লো সারা ছাদ।
অর্কিডটা বাদামী হয়ে আছে।
তারপর আমার কিছু মনে নেই।

হঠাৎ চোখ খুলে দেখি বৃষ্টির পানি মুখে পড়ছে। প্রচন্ড বৃষ্টি। বৌ ছাদের উপর শুয়ে আছে।
ভয় পেয়ে গেলাম। আস্তে করে নাড়া দিতেই বৌ উঠলো।
“আমি এখানে কেন?”
জবাব কি দেবো?
বললাম, “জানি না। তোমাকে খুজতে এসে দেখি এখানে শুয়ে আছো!”
অর্কিডটাকে কোথাও চোখে পড়লো না।
বৃষ্টিতে সব লাল ধুয়ে গেছে।

আমার বৌ এর চোখের রং বাদামী।

এই ঘটনার দুদিন পর বাবা অভিযোগ করলেন ছাদে ইঁদুর বেড়ে গেছে। তার লাউ গাছ একেবারে সাফা।

Leave a comment

October 24, 2020 · 7:31 pm

বৃক্ষ প্রেমের নেপথ্যে

কভিডে যখন জীবন চলছে থেমে
আমি পড়লাম হঠাৎ বৃক্ষপ্রেমে!
আগে ছিল,হঠাৎ, এ কথা ঠিক না
যদিও বিয়ের সাথে সাংঘর্ষিক না,
তবু বিয়ের পর পত্নি ছাড়া সব প্রেম
চাপা পড়েছিল, আমি এমন বে রাহেম!
ভুলে ছিলাম তাকে এবং গাছকে
বহু দিন পর তাকে মনে পড়লো আজকে!

আগে শখ ছিল বনে পাহাড়ে ঘোরা
অর্কিড পেলে ছিড়ে নিয়ে ব্যাগে পোরা।
এখন ভুড়ি নিয়ে হাটতেই কষ্ট হয়
পাহাড়ে চড়তে জামা কাপড় নষ্ট হয়।
তাই ঘুরি নার্সারী থেকে নার্সারী
বৌ বলেন,-তোমার সবেতেই বাড়াবাড়ি!

অর্কিডের সাথে কিনলাম ক্যাকটাস
দেশি বাঁশ রেখে ছোট চাইনিজ বাশ।
ভুড়ি আলা গাছ এডোনিয়াম,ছোট পাতা
ফুল হয় না, বৌ বলেন, কিনছ কি ছাতা!
বিভিন্ন রঙের পাতা বাহার, রঙ্গন,
হাস্নাহেনা, নানা রকম ফার্নের বন।

বেশী দামে অর্কিড কিনেছি সাথে ফুল
প্রথম প্রথম তা নিয়ে কি সে হুলুস্থুল!
তারপর ধীরে সব ফুল গেল ঝড়ে
ন্যাড়া হল সবুজ পাতা পড়ে-পড়ে।
কেন যে ক্যাকটাসের গোড়া যাচ্ছে পচে
বৌ তো দেখি সার দেয়, ধোয় মোছে!
আমি কিনেই শেষ যত্ন তো নেয় বৌ,
পানি, নিড়ানি দেয়, বলে-যাও হাত ধোউ।

এতো ব্যাস্ত যে সময় পায় না বকার
এইটাই লাভ, দামে গাছ কিনে ঠকার!

Leave a comment

October 22, 2020 · 12:02 pm

কবিতা কনিকা -১৯৮

শিশির যেভাবে পাপড়ি ছুঁয়ে যায়, ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে বললে-
নাতো,তোমায় কোনদিনই ভালবাসি নি
তিক্ষ্ণ বর্শা বিঁধিয়ে বললে,আজও তোমার জন্য আসি নি।

তোমার চোখের ভাষা পড়ার অক্ষমতা
পোড়ালো সারা জীবন
অথবা তুমি পরিবর্তিত হয়েছ
ছলনায় প্রতিক্ষন!

Leave a comment

October 21, 2020 · 10:47 pm

কবিতা কনিকা- ১৯৭

গোলাপ ফোটার মরসুম চলছে সাবধানে থেকো
গোলাপ হিংসুক ভারী,সাবধানে থেকো।
তোমার চোখদুটো নেকাবে ঢেকো,
সাবধানে রেখ।

কাঁটা ফুটাতে পারে, সাবধানে থেকো।

Leave a comment

October 21, 2020 · 5:09 am

কিছুটা জায়গা

কিছুটা জায়গা আছে বনের ভিতর
এখনো কিছুটা মনের ভিতর।
তার বাগনে ঠাই
তা চাই নাই,
তবু আগাছা হয়ে ফিরে ফিরে আসি,
এতো অবহেলা তবু ভালবাসি,
ভাবি কিছুটা জায়গা আছে বনের ভিতর
এখনো কিছুটা তার মনের ভিতর।

Leave a comment

October 20, 2020 · 12:05 pm

অতোটা মহৎ আমি না

।একবছর পর একদিন।
সতেরোই আশ্বীন।
শুধালাম কেমন আছো, ছিলে?
ভাল। দু চোখ খুশি উগড়ে দিলে!

তুমি?
আমিও। জবাব দিলাম।
অন্য দিকে ফিরে ছিলাম।

তোমার জ্বালানো আগুনে জ্বলবো
অথচ দুহাত তুলে বলবো
তাপ পোহাচ্ছি,
অতটা মহৎ আমি না।
তোমার খুশী দেখে খুশী হয়ে যাব,
প্রশস্থি গাব,
অথচ কি কষ্টে প্রতিক্ষন খোয়াচ্ছি,
অতটা আপোষকামি না।

আমাদের আর কখনও দেখা না হোক।
অন্ধকারে থাকুক আমাদের দু চোখ।

হিংসা নেই অথচ ভালবাসো! আরে না!
এ কখনও হতে পারে না।
তুমিও মহৎ না, ভাল অভিনয় জানো!
আমি রুক্ষভাবে বলি তুমি সবিনয়ে আনো।

Leave a comment

October 19, 2020 · 6:07 am

হারজিৎ

বারবার হেরে যাই তোমার কাছে।
ভাবি ভুলে যাবো,
দূরে সড়ে যাব,হয় না।
হারাটাই কপালে লেখা আছে!

তুমি জিতে যাও।
চোখ ফেরালেই ভুলে যেতে পার,
ঘৃনা উগগে দিতে পারো,
যখন যেভাবে চাও।

ভালবাসা হারে না আমার জন্য
আদিমতম পুরুষ হতে
হেরে হেরে জিতে থাকে
অশ্রুতে দৃষ্টি প্রসন্ন!

Leave a comment

October 18, 2020 · 6:01 am

কবিতা কনিকা -১৯৬

কেন যে তখন নদীখানা দিয়ে দিয়েছিলাম,
সব জল এখন বুকের ভেতর আটকে থাকে।
তুমি আমার হল কান্না পরের হতো,
আজ আর কে আমার খবর রাখে!

Leave a comment

October 14, 2020 · 8:50 am

কবিতা কনিকা- ১৯৫

আজও খবরের কাগজে নিখোঁজ সংবাদে খুঁজি।
বলেছিলে একদিন সব ছেড়ে ছুড়ে…
দুজন হারিয়ে যাব দূরে,
সময় হল বুঝি!

Leave a comment

October 12, 2020 · 9:31 am

কবিতা কনিকা -২০০

পরের বার দেখা হলে কাঁদবো না কথা দিলাম।
কথা দাও আবার দেখা হবে!
কোন কোন কথা কান্না আটকায়,
কোন কথা কাঁদাবে, যখন একা হবে!

Leave a comment

October 8, 2020 · 3:46 pm

দলিল

ফয়েজ দ্বন্দে পড়ে গেল,এটাই এ তালার চাবি কিনা!
দুই বছর পর এদরজা খোলা হচ্ছে। অসাক্ষাতে আসলে তালা চাবির সম্পর্কেও ফাঁক তৈরী হয়েছে!
রহিম মিঞা চাবিটা চেয়ে নিল।
“দ্যান ভাইজান আমি চেষ্টা করি।”
ডানে বামে হালকা মোচরা-মোচরী করার পর ক্যাচ করে শব্দ করে তালাটা খুলে গেল।

রহিম মিঞা রুমের ভিতরে টর্চ ফেললো।
সিলিং থেকে মাকরসার জাল ঝুলছে। চাদরে ঢাকা একটা খাট, একটা টেবিল, চেয়ার আর একটা আলমাড়ি। স্যাতস্যাতে গন্ধ।
টেবিলের উপর একটা আঙ্গুল ঘয়ে টর্চের আলোতে দেখলো। যতটা ময়লা ভেবে ছিল ততটা না!
“খালুজান মারা যাবার পর এই দরজা আর খোলা হয় নি।” অন্য ঘরগুলো আমি নিয়মিতই পরিস্কার করেছি!”
“জানালাটা খুলুন তো। আলো ঢুকুক!”
রহিম মিঞার বেশ কশরত করতে হলো। কাঠের জানালা খুলতেই পশ্চিমের রোদ আলোয় ভরিয়ে দিল।
“আজ রাত তো থাকবেন?”
“হ্যা। দুপুরের পর তো গাড়ি নেই।”
“ও পাশে আরেকটা ঘর আছে, ওটায় থাকার ব্যাবস্হা করি!”
“না। এ ঘরে থাকবো। বাবা তো এখানে থাকতেন। কিছু কাজও আছে।”
“এ ঘরে থাকবেন? যা অবস্থা!
আচ্ছা তাহলে চাদর তোষক সব বদলে দিচ্ছি। বকুলের মাকে দিয়ে ঘরটা পরিস্কার করতে বলি!”
খট করে একটা সুইচ টিপলো। “বাল্ব ফিউজ! বদলে দিচ্ছি।
যা ঠান্ডা পড়েছে, ফ্যান কি লাগবে?”
“না, না।”
“ফ্যানটায় যেভাবে মাকরসার জাল জমেছে চালানোও ঠিক হবে না। কি অঘটন হয়! লাগলে একটা টেবিল ফ্যান আছে এনে দিতে পারি।”
“দরকার নেই।”
“এখন এখানে থাকুন। রাতে না হয় ওই ঘরটায় ঘুমাবেন!”
“না এখানেই। আপনি পরিস্কার করান আমি বসার ঘরে বসছি!”
টেবিলের উপর একটা লম্বা বাধাঁনো খাতা।
ফয়েজ খাদাটা নিয়ে বসাররঘরে যেয়ে বসলো।
এখানে আসার একটুও ইচ্ছা ছিল না। বাধ্য হয়েই এসেছে। ঢাকার বাড়িটা মায়ের নামে। বিল্ডার্সকে দেবে। কথা বার্তা ঠিকঠাক কিন্তু মূল দলিলটা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

মা ই বললেন এখানে খু্জে দেখতে। বাবা বেঁচে থাকতে প্রতি মাসেই এসে কিছু দিন থাকতেন। এখানেও রেখে যেতে পারেন!

বাবারা পাঁচ ভাই। গ্রামে প্রচুর সম্পত্তি ছিল। ভাগ যোগ হয়েছে। বাবার অংশে বাবা এ বাড়ি বানিয়েছেন। পুকুর আছে। ফল বাগান আছে, চাষের জমি আছে। ইচ্ছা ছিল একটা সময়ে শহর ছেড়ে এখানে এসে থাকবেন। এত সহসাই যেতে হবে বোধ হয় ভাবেন নি। ষাট আর কি এমন বয়স!

খাতাটা খুলল।
প্রতি পাতার কোনায় তারিখ দিয়ে হিসাব লেখা। কত টাকার ধান বিক্রী হয়েছে, কাকে পুকুর ইজারা দেয়া হয়েছে এসব।
একটা পাতার কোনে লাল কালীতে লেখা বিথীর জন্য টাকা পাঠানো হল!
খেয়াল করলো প্রতি চার পাঁচ পাতা পরপরই এ কথাটা লেখা। পাশে এমাইন্ট!

এই বিথী কে? বিথী ফুপু কি? বাবার দুর্সম্পর্কের খালাতো বোন!
ওদের বাসায় এক সময় যাওয়া আসা ছিল। আবির ওনার ছেলে। ওর দুতিন বছরের ছোট।
বাবা মারা যাবার খবর পেয়ে এসেছিলেন। তারপর আর যোগাযোগ নেই। রায়ের বাজারে বাসা ছিল শুনেছে কিন্তু কখনও যাওয়া হয় নি। চেনেও না।

বাবা অবশ্য অনেক মানুষকে সাহায্য করতেন। অল্প বয়সে বিথিফুপুর স্বামী মারা যান। হয়ত তাকেও সাহায্য করতেন।

কোন জায়গায় কি জাতের গাছ লাগিয়েছেন তাও লিখে রেখেছেন। অনেক গুছানো ছিলেন।

আলমারী খুলতে কিন্তু বেগ পেতে হল না। সহজেই খুলে গেল।
ভিতরে থরে থরে সাজানো কাগজ।
কিছু গল্পের বই আছে। পথের পাচালী, অরন্যক, চাঁদের পাহাড়।
বাবা কি বিভূতিভূষন প্রেমিক ছিলেন?
একটা খামে দুটো পাঁচশ টাকার নোট।
একদম নীচে একটা বক্স ফাইল। হলুদ খামে বেশ কিছু চিঠি উকি মারছে।
মুঠি করে একদলা চিঠি নিল।
বাবার নাম। এ বাড়ির ঠিকানা। একই হাতের লেখা।
মৃত ব্যাক্তির চিঠি পড়া কি ঠিক হবে! অবশ্য উত্তরাধিকারে কিছু অধিকার জন্মে।

খুব সাদামাটা চিঠি। নিত্যদিনের ঘটনা লেখা। কি বাজার হল, ছেলে কি করছে এসব। কিন্তু এসব কথা এ মহিলা বাবাকে লিখতে গেল কেন!
প্রতিটা চিঠি শেষ হয়েছে, নিজের খেয়াল রেখো, আমাদের জন্য চিন্তা করো না, টাকা পাঠানোর দরকার নেই এমন ঘরোয়া কথা দিয়ে। মা বাবাকে এমন চিঠি লিখলে ঠিক আছে কিন্তু..
একদম নীচে একটা ফাইল পেল। উপরে লেখা গুরুত্বপূূর্ন।
দড়ি খুলে কাগজ বার করলো।
দলিলটা পাওয়া গেল।
সাথে একটা ওসিওত নামা।
এ বাড়ির সমান ভাগ পাবে আবির আর বিথী ফুপু!
বাবার স্থে তার বিয়ের কবিন নামাও আছে!

খুব সাবধানে দলিলটা রেখে বাকি সব কুচি কুচি করে ছিড়লো।

যা চাই না তার দলিল কে রেখেছে, কবে!

Leave a comment

October 8, 2020 · 3:44 pm

love bite -194

you want a line, a dead line.
afraid of my call, okay fine!

you want my praise, o praise-worthy,
my infatuated gaze,o praise wothy!

gave my heart to one, no concern
she shines while i burn!

Leave a comment

October 7, 2020 · 4:37 pm

love bite- 190

are u bored by my absence?
the monotony of hate touched your conscience?
or you feel pity for me!
after all you once loved a night, stormy!

Leave a comment

October 7, 2020 · 4:25 pm

burnt from words

you are burnt by my words!
words that were so soothing, enchanting like birds
would calm you once,
now burn you out by chance!

Leave a comment

October 6, 2020 · 4:32 pm

কি শুনতে চাও?

বলো কি শুনতে চাও?
যা বলি নি তা, না যা বলতে পারি নি তাও?
যা বলেছি অনেক বার,কানে তোল নি,
বা শুনেছ, তবু দরজা খোল নি?
কি শোনার বাকি?
কথার মারপ্যাচে জড়ানো কথা কি?

তুমিই বলছিলে,” থামো,উফ!
কোন কথা শুনতে চাই না,চুপ।
তুমি আমার জীবনে একটা ভুল।”

আজ কি কারনে,এ কৌতুহুল?

কি শুনতে চাও,কতটা কষ্টে আছি?
কি রেখেছি হৃদয়েরর কাছাকাছি?

জেনে যাও অনেক দিনের অনভ্যাসে
তবু এ মন তোমায় তেমনই ভালবাসে।

Leave a comment

October 3, 2020 · 8:38 pm

love bite -144

in this era who writes a letter?
there is emails,a mobile call is better.
Still i want to write,
and one day i might.
in a piece of paper in one or two words
wanted to say hundred times my voice lowered!
i love you though you live out of sight
may you feel, if i write in black and white!

2 Comments

September 30, 2020 · 11:41 pm